বাবার পাশেই শায়িত হলেন মোরশেদুল আলম

আগের সংবাদ

কন্যা-বোনকে নিয়ে খোলা জানালার শুটিংএ মিথিলা

পরের সংবাদ

চেকপোস্ট ডিঙিয়ে কীভাবে রাজধানীতে ঢুকছে মাদক!

কামরুজ্জামান খান

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২৩, ২০২০ , ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুঝুঁকির মধ্যেই মাদকের চালান হাতবদল হচ্ছে হরদম। টানা দুই মাস ধরে সারাদেশে কার্যত লকডাউন থাকলেও র‌্যাব-পুলিশের চেকপোস্ট ডিঙিয়ে রাজধানীতে অবাধে ঢুকছে ইয়াবা ট্যাবলেট, হেরোইন, গাঁজা ও ফেনসিডিলের চালান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে প্রতিদিনই ধরা পড়ছে মাদকের চালান, আটক হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী। ঘটছে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাও। গত দুই মাসে শুধু র‌্যাবের অভিযানে ৪ লাখ পিস ইয়াবা আটক হয়েছে। এছাড়া পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটের অভিযানেও মাদক উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে।
গত ২৫ মার্চ রাত থেকে সারাদেশ থেকে রাজধানী কার্যত সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। গণপরিবহন বন্ধ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পণ্যবাহী পরিবহন চলাচলও বন্ধ। পথে পথে পুলিশ-র‌্যাবের চেকপোস্ট, তল্লাশি। ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার রাস্তায় কড়াকড়ি। এর মধ্যেও নানা কায়দায় রাজধানীতে অবাধে ঢুকছে সব ধরনের মাদকদ্রব্য। হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা ও ফেনসিডিল। মিয়ানমার ও ভারত সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কীভাবে এসব চালান দেশে ঢুকছে আবার এতো চেকপোস্ট পাড়ি দিয়ে কীভাবে সেগুলো রাজধানীসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে এ প্রশ্নের সদুত্তর মিলছে না।
এ প্রসঙ্গে র‌্যাব মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বলেছেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও র‌্যাব মাদকের বিস্তার রোধে পিছপা হয়নি। নিয়মিত অভিযান চলছে। অভিযানে বিভিন্ন ধরনের মাদক, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হচ্ছে। তবে একাধিবার যোগাযোগ করা হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে এ প্রসঙ্গে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
র‌্যাব থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, গতকাল শুক্রবার আদাবর রিং রোড থেকে কাঠাল ও ডাবের ভেতরে ইয়াবা বহনের সময় ওসমান, শাজাহান, সেলিম সরকার ও নূর ইসলাম নামে চারজনকে আটক করেছে র‌্যাব-২। তাদের কাছ থেকে ৭ হাজার পিস ইয়াবা, দুটি বন্দুক ও ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে। এর আগের দিন বৃৃহস্পতিবার আগারগাঁও লিংক রোডে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে র‌্যাব। ১ মে সাভারের সিএন্ডবি ও ঢাকার গাবতলী এলাকা থেকে ১১০৬ বোতল ফেনসিডিলসহ পিংকন নামে একজনকে আটক করে র‌্যাব। ৬ মে গাবতলী থেকে ৫ কেজি ও বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে ৩০ কেজি গাজাসহ ফয়সাল ও আলী হোসেন নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ৭ মে আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকা থেকে ৩৩৩ বোতল ফেনসিডিলসহ শামীম ও মহসীন নামে দুইজনকে আটক করে র‌্যাব। ৮ মে আগারগাঁও শেরেবাংলা নগর চেকপোস্টে র‌্যাব-২ এর অভিযানে আশরাফ নামে একজন ৫০০ বোতল ফেনসিডিল, অস্ত্র ও গুলিসহ আটক হয়। যশোর থেকে প্রাইভেট কারযোগে এই মাদক ঢাকায় ঢুকে বলে র‌্যাব-২ এর কর্মকর্তা লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানিয়েছেন। ১৫ মে বনানী টিএন্ডটি বটতলা এলাকায় র‌্যাব-২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, অস্ত্র ও গুলিসহ জলিল (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। র‌্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ১৯ মে র‌্যাব-৪ সদস্যরা গাবতলী মোহনা ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাসুদ মৃধা ও নূর মিয়া নামে দুইজনকে আটক করে। একইদিনে গাবতলী থেকে এক মণ গাঁজাসহ শিল্পী, শ্রাবন, হৃদয় ও আল আমীন নামে চারজনকে আটক করে র‌্যাব-৪। ২০ মে ক্যান্টনমেন্ট মাটিকাটা এলাকা থেকে ৯৯৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৮৪ গ্রাম হেরোইন ও জাল টাকাসহ স্বপ্না নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে র‌্যাব-৪। ২১ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড থেকে ৩৭০ বোতল ফেন্সিডিলসহ আমির ও শামীম নামে দুইজন গ্রেপ্তার হয় র‌্যাবের হাতে। এ ছাড়া র‌্যাবের অভিযানে প্রতিদিনই মাদকের চালান আটকের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

ডিসি