সোসাল ডিসটেন্স

আগের সংবাদ

জগৎ সংসার

পরের সংবাদ

ঘূর্ণিঝড়ে নিঃস্ব সবজিচাষীরা চান সহায়তা

এস কে রঞ্জন, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২৩, ২০২০ , ৪:৪৮ অপরাহ্ণ

সুপার সাইক্লোন আমফানের তাণ্ডবে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ৮টি গ্রামের সবজি চাষীদের প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখানকার উৎপাদিত সবজি পুরো উপজেলার চাহিদা পূরণ করে পাশের উপজেলাগুলোর চাহিদাও মিটিয়ে থাকে। প্রতিবছরের মতো এবারও এখানকার চাষীরা প্রায় ৩০০ একর জমিতে সবজি চাষ শুরু করেন। তবে আমফানের কারণে এখন তাদের সব শেষ হয়ে গেছে।

কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা, মজিদপুর, পূর্ব সোনাতলা, এলেমপুর, গামুরতলা, নাওয়াভাঙ্গা, গুডাবাছা ও ফরিদগঞ্জ গ্রাম সবজি চাষের জন্য পুরো উপজেলায় খ্যাতি রয়েছে। এখানে করোলা, রেখা, শষা, বরবটি, কাঁচামরিচ, বোম্বে মরিচ, লাউ, ঝিঙা ও ঢেঁড়শসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদান করা হয়। যা বিক্রি পর্যায়ে গেলে প্রায় দেড় কোটি টাকার ফলন হতো বলে জানিয়েছেন চাষীরা। তবে আমফানের ছোবলে সব স্বপ্ন আর শ্রম মাটিতে মিশে গেছে।

ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবের ক্ষত

সরেজমিনে ২২ মে গিয়ে দেখা যায়, লাউ গাছে ফলন্ত লাউসহ গাছগুলো উপুর হয়ে পড়েছে। করোলা গাছগুলো বৃষ্টি ও অতিরিক্ত বাতাসের কারণে গোড়াসহ উপরে এলোমেলো হয়ে রয়েছে। কাঁচামরিচ, বোম্বাই মরিচ ও বরবটি গাছগুলোর একই অবস্থা দেখা যায়।

কুমিরমারা গ্রামের সবজিচাষী জাকির হোসেন ওরফে লুঙ্গি জাকির বলেন, এ গ্রামের প্রায় ৯৫ জন লোকই কৃষক। বারো মাসই আমরা বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের সব কিছু উল্টা-পাল্টা করে দিয়েছে।

আমফানের ছোবলে ক্ষতবিক্ষত সজবি ক্ষেত

সবজি চাষী জাকির আরোও বলেন, আমরা সরকারের কাছে কোনো সাহায্য চাইনা তবে বিনা শর্তে সুদমুক্ত ঋণ ও তার সঠিক তদারকি করা হোক এটাই আমরা চাই। আব্দুল হক গাজী, সালাউদ্দিন গাজী ও মাসুদ গাজীসহ একাধিক সবজি চাষীরা সুদমুক্ত ঋণের বিষয়ে সরকারের সহায়তা কামনা করেন।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান জানান, ঘূর্ণিঝড় আমফানের তাণ্ডবে কৃষিতে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার জন্য সরকার ভতুর্কির ঘোষণা দিয়েছে। তবে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো দিক-নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনা পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা হবে।

এনএম