বঙ্গবন্ধুর ‘জুলিও কুরি’ পদক পাওয়ার ৪৭ বছর

আগের সংবাদ

ঘরমুখো মানুষ হবেন সংক্রমণের দূত!

পরের সংবাদ

গবেষণার ফলাফল

কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে তিন মডেল

রাইয়ান আমজাদ ও ডা. মো. রিজওয়ানুল কারিম

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২৩, ২০২০ , ২:১১ পূর্বাহ্ণ

করোনা নিয়ন্ত্রণে আমরা কোন পথে হাঁটবো? সীমিত লক ডাউন? কড়াকড়ি লক ডাউন? নাকি দুটোর সমন্বয়? আমাদের মিটিগেশন আর সাপ্রেশনের তফাত বুঝতে হবে। মিটিগেশন বা প্রশমন হলো এমন একটা ব্যবস্থা যা মাধ্যমে কার্যকরী ওষুধ বা ভ্যাক্সিনের অনুপস্থিতিতে রোগ সংক্রমন সীমিত করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর কোনো রোগের আকস্মিক বা বাড়তি চাপ কমিয়ে
স্বাস্থ্য ব্যাবস্থাকে সচল/সক্ষম রাখা যায়।

বিষয়টা সহজ করে যদি বলি, ধরা যাক ভাইরাস এতক্ষণে এমনভাবে ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে এটার সামাজিক সংক্রমণ ঠেকানো প্রায় অসম্ভব। এই পরিস্থিতিতে একই সময়ে একটা বড় জনগোষ্ঠী সংক্রমিত হয়ে পড়েছে বা তাদের চিকিৎসা করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিপদ বা ভয়ের কথা হলো হঠাৎ করে এই বিশাল পরিমাণ রোগীর সেবা দিতে গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। কিন্তু আপনি যদি সংক্রমণের গতিটা কোনোভাবে ধীর করে দিতে পারেন তাহলে একটা নির্দিষ্ট সময়ে যে পরিমাণ রোগী হবে তা আপনার সেবা ব্যবস্থা দিয়ে সামাল দিতে পারবেন।

যদিও এই প্রক্রিয়াতে আপনার সংক্রমণের সময় দীর্ঘায়িত হবে, তবুও রোগের চূড়া বা পিক যাই বলি সেটা সমতল থাকবে। আর একেই বলে ফ্ল্যাটেনিং দ্যা কার্ভ (flattening the curve)। এই মিটিগেশন প্রক্রিয়ার মধ্যে অনেক ধরনের কাজ থাকতে পারে। যেমন স্কুল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা, সম্ভাব্য ক্ষেত্রে বাড়িতে বসে কাজ করা, সোশ্যাল কনটেইনমেন্ট, ভ্রমণ যাতায়ত সীমিত করা যেগুলোর মাধ্যমে (সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে) সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে নিজেকে সংক্রমণ মুক্ত রাখা যায়।

আসলে মিটিগেশন প্রক্রিয়া/ প্রশমণকারী ব্যবস্থাপনার সঠিক প্রয়োগের ফলে মহামারীর তীব্রতা হ্রাস পায়। এর গতি ধীর হয় কিন্তু সংক্রমণ নির্মূল হয় না। ফ্ল্যাটেনিং দ্যা কার্ভ একদিকে যেমন আমাদের স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থাপনার ওপর আকস্মিক চাপ কমাতে পারে, সেই সঙ্গে আমাদের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ভাঙনও রোধ করতে পারে। কিন্তু এর মানে এই না যে এভাবে চলতে থাকলে একটা পর্যায়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়বে না।

যা হোক, মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী মিটিগেশন প্রক্রিয়া একটা জনগোষ্ঠীকে অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিতে রেখে কোভিড-১৯ হার্ড ইমিউনিটির পথে নিয়ে যেতে পারে। একটা সময় আসে যখন ভাইরাস সংক্রমিত করার মতো সাসপেক্টেবল (susceptible) কাউকে খুঁজে পায় না।

ফ্ল্যাটেনিং দ্যা কার্ভ করতে সাপ্রেশনও (Suppression) একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। তবে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংক্রমণের গতি ধীর করার বদলে এটা রদ করার ব্যবস্থা নেয়া হয়। এই ব্যবস্থায় গৃহীত পদক্ষেপ গুলি মিটিগেশনে গৃহীত পদক্ষেপের মতোই কিন্তু এগুলো এক্ষেত্রে শক্ত বা কড়াকড়ি ভাবে আরোপ করা হয়।

যেমন ধরুন, কঠিন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, বাধ্যতামূলক বাড়িতে থাকা, দোকানপাট বন্ধ করতে আইন বা শাস্তি প্রয়োগ। কেউ কেউ এটা কে হাতুড়ি এপ্রোচও বলে থাকেন। এই পদ্ধতির প্রয়োগে সংক্রমণের হার অনেক কমিয়ে ফেলা সম্ভব হয়। অবশ্য তার জন্য অনেক মূল্যও দিতে হয়। সারাদেশকে শক্ত ও দীর্ঘমেয়াদী লক ডাউনে ফেলাতে সমাজ এবং অর্থনীতিতে এর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।

মিটিগেশনের সঙ্গে তুলনা করলে সাপ্রেশন ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। মানুষকে অনেক দিন ধরে লকডাউনে রাখা খুব কষ্টের কাজ এবং এর জন্য যে পরিমাণ সামাজিক অর্থনৈতিক মানসিক সহায়তার পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন তা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে বাস্তবিকভাবে প্রায় অসম্ভব। নিজ দেশে ভাইরাস সম্পূর্ণ নির্মূল হওয়া পর্যন্তই শুধু না, পাশের অঞ্চলে ভাইরাস নির্মূল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা এক কথায় প্রায় অবাস্তব। আমরা দেখেছি লকডাউন তুলে নেয়ার পর আবার সংক্রমণ শুরু হয়েছে।

করোনা টেস্ট

এবার তাহলে আসি কোন পথে হাঁটবো বা দেশের প্রেক্ষাপটে কোন ব্যবস্থা কার্যকরী। ইম্পেরিয়াল টিম সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মাথায় রেখে চার ধরনের পদ্ধতির তুলনা দেখিয়েছে তাদের এনালাইসিসে।

প্রথমত, তারা বলেছে যদি সমগ্র জনগোষ্ঠী শুধুমাত্র সামাজিক দূরত্ব মেনে চলে তাহলে বৈশ্বিক সংক্রমণ হবে ৪.৭ বিলিয়ন এবং মৃত্যুর সংখ্যা হবে ২৪ মিলিয়ন। পৃথিবীর ৭৩টি দরিদ্রতম দেশ যেখানে ‘জিএভিআই’ সহায়তা দেয় সেখানে সামাজিক দূরত্ব যথাযথ পালন করে সংক্রমণ ৩.৩ বিলিয়ন থেকে ২.৩ বিলিয়ন এবং মৃত্যু ১২.৯ মিলিয়ন থেকে ৮.৮ মিলিয়ন এ নামিয়ে আনা সম্ভব। যদি এই মিটিগেশন কঠোর ভাবে প্রয়োগ করা হয় অর্থাৎ সামাজিক দূরত্ব কড়াকড়ি ভাবে মানতে বাধ্য করা হয় সেই সাথে বয়স্কদের বেলায় সামাজিক দূরত্ব আরও একটু বাড়িয়ে দেয়া যায় তাহলে আক্রান্তের সংখ্যা একই থাকবে কিন্তু ৪ মিলিয়ন অতিরিক্ত মানুষকে বাঁচানো সম্ভব হবে।

সাপ্রেশন পদ্ধতি তখনি বেশি কার্যকর যখন এটা সঠিক সময়ে প্রয়োগ করা হবে। যদি প্রতি সপ্তাহে ১.৬ মিলিয়ন বা তার বেশি মানুষ মারা যাওয়ার সময় এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয় তাহলে আক্রান্ত ২.৪ বিলিয়ন আর মৃত্যু ১০ মিলিয়নে নেমে আসবে। এই সংখ্যাটা কোনো ব্যবস্থা না নেয়া হলে যা ঘটতে পারতো তার চার ভাগের একভাগ।

সীমিত আয়ের দেশগুলোতে সংক্রমণ সংখ্যা এক চতুর্থাংশ বা ১.৩ বিলিয়নে নেমে আসবে কিন্তু মৃত্যু কমবে এক তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৪.৬ মিলিয়ন। যদি সাপ্রেশন সংক্রমণের শুরুতেই প্রয়োগ করা হয় অর্থাৎ যখন মৃত্যু প্রতি সপ্তাহে প্রতি মিলিয়নে মাত্র ০.২ থাকে এই কড়াকড়ি লক ডাউন অনেক ভালো ফলাফল দিতে পারে। এটা করা গেলে বিশ্বব্যাপী সংক্রমণ মাত্র ০.৪৭ বিলিয়নে নেমে পড়বে। যেটা যদি কোনো ব্যবস্থা না নেয়া হয় তার তুলনায় ৯৫% কম (দরিদ্র দেশে ৯৩%) অর্থাৎ মৃত্যু হতে পারে মাত্র ১.৯ মিলিয়ন।

এভাবেই তারা দেখিয়েছেন MODELLING SUGGESTS SUPPRESSION STRATEGY WILL SAVE MORE LIVES FROM COVID-19 IN POOR COUNTRIES. তাই আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে দ্রুত এবং শক্ত লকডাউনের পথে হাঁটার বিকল্প নেই। বাস্তব ক্ষেত্রে বিষয়টি আসলে তেমন সহজে সিদ্ধান্ত নেয়ার মতোও না।

‘কোভিড-১৯ মহামারী নিয়ন্ত্রণে সম্ভাবনাময় কিছু বাস্তবায়ন পরিকল্পনা: ১৬টি দেশের কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে একটি মাল্টিভ্যারিয়েট প্রেডিকশন মডেলের তুলনামূলক চিত্র’ এই শিরোনামে একটি চমৎকার গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। সেই গবেষণাপত্রের অনুবাদ নিচে দেয়া হলো।

করোনা

কোভিড-১৯ রোগের কার্যকরী চিকিৎসার অনুপস্থিতিতে এর প্রতিকার এবং প্রতিরোধের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ঔষধবিহীন সামাজিক ব্যবস্থাপনা বা নন ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্টারভেনসন (non- pharmaceutical intervention, NPIs)। কার্যকরী চিকিৎসা, ভ্যাক্সিন বা ঔষধ উদ্ভাবিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার মতো কয়েকটি পদক্ষেপের মাধ্যমে এই ঔষধবিহীন সামাজিক ব্যবস্থাপনা কোভিড-১৯ এর মহামারী আকারে সকল পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়াকে প্রতিহত এবং বিলম্বিত করে থাকে।

সাধারণত ঔষধবিহীন সামাজিক ব্যবস্থাপনার পদক্ষেপগুলোর (চিহিত রোগীকে অন্তরীণ বা আইসোলেট করে রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে বিশেষ সুরক্ষা দেয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, জনসমাগম হতে পারে এমন আনুষ্ঠানিকতা বর্জন এবং লকডাউন ঘোষণা ইত্যাদি) উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক সংস্পর্শ কমিয়ে এনে সার্স-কোভ-২ বা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করা।

সামাজিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ কার্যকরী হলেও এর দীর্ঘমেয়াদী বাস্তবায়নের ফলে দেখা দিয়েছে বেকারত্ব, অর্থনৈতিক মন্দা, ব্যাহত হচ্ছে নৈমিত্তিক সামাজিক কার্যক্রম এবং সৃষ্টি হচ্ছে নৈরাজ্যের। আর্থসামাজিক মন্দা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে এই ঔষধবিহীন সামাজিক ব্যবস্থাপনা কতখানি টেকসই পদ্ধতি তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য “স্বাস্থ্য নাকি অর্থনীতি” এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেয়া কঠিন। বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রই এখন ধীরে ধীরে লকডাউন তুলে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা কোভিড-১৯ রোগটির পুণরায় ব্যাপকভাবে সংক্রমণের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমতাবস্থায়, পুরাপুরি লকডাউন তুলে না দিয়ে নির্দিষ্ট সময় পরপর সামাজিক ব্যবস্থাপনার পদক্ষেপগুলোতে কিছুটা শিথিলতা এনে পদ্ধতিটি অব্যাহত রাখলেও পারস্পরিক সংস্পর্শ কমিয়ে এনে সার্স-কোভ-২ বা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব।

যদিও এই সীমিত আকারের শিথিলতার ব্যাপারে কয়েকটি বিষয় নিয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়নি। যেমন-

১. কতদিন পরপর এই শিথিল লকডাউন বাস্তবায়িত করা হবে এবং তা কত সময়ের জন্য কার্যকর থাকবে। ২. লকডাউন শিথিল করার পর পুণরায় রোগের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পূর্বেই কতদিনের মধ্যে আবারো সামাজিক ব্যবস্থাপনার পদক্ষেপগুলো কঠোরভাবে পালিত হবে (আর্দশ সময় হিসেবে বিবেচ্য হবে)। ৩. ঔষধবিহীন সামাজিক ব্যবস্থাপনার বিশেষ কোন পদক্ষেপটি আর্থসামাজিক অবস্থা নির্বিশেষে বৈশ্বিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করা যাবে।

আর্থসামাজিক মন্দা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ এড়ানোর লক্ষ্যে সফল একটি পদক্ষেপের রূপরেখা তৈরির জন্য উপরোক্ত বিষয়গুলো বিষদভাবে জানা প্রয়োজন। এর উত্তর খোঁজার জন্য বিভিন্ন অর্থনৈতিক অবস্থার ১৬টি দেশের বিভিন্ন আয়ের মানুষের দলের তথ্য নিয়ে তুলনামূলক একটি “ইনফেকশাস ডিজিজ মডেলিং” করা হয়েছে। মডেলিংয়ের মাধ্যমে তিন ধরণের ভবিষ্যতের কাল্পনিক রূপরেখা দেখা হয়েছে। প্রতিটি দেশের জন্য দেখার চেষ্টা করা হয়েছে মহামারী যখন সর্বোচ্চ পিকে বা চূড়ায় পৌঁছাবে তখন প্রতিদিন কতজন নতুন করে আক্রান্ত হবে, প্রতিদিন কতজনের জন্য আইসিইউ বেড লাগবে এবং আগামী ১৮ মাসে সর্বমোট কতজন মারা যেতে পারে। বিশদভাবে এর উদ্দেশ্য হলো-

লকডাউনের পর করোনা সংক্রমণের পরিসংখ্যান।

১. অন্তর্ভূক্ত দেশসমূহে রোগীর বয়স অনুযায়ী রোগের তীব্রতা এবং মৃত্যুর হারের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার পরিমাণ অনুমান বের করা। ২. প্রতিটি দেশের স্বাস্থ্যখাতে বর্তমানে বরাদ্দকৃত সম্পদের পরিমাণ বিবেচনা করে কোনোরকম ব্যবস্থাপনা ব্যতিরেকে মহামারীর দ্বারা সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির অনুমান পরিমাণ করা। ৩. আঠারো মাস যাবৎ অবিরাম ঔষধবিহীন সামাজিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন শিথিল সামাজিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা। ৪. একটি কার্যকর কর্মকৌশল চিহ্নিত করা যার মাধ্যমে সম্ভাব্য গুরুতর কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণের ভিতর রাখা যায় এবং এই কৌশলের স্থায়িত্ব কেমন হবে তা নির্ধারণ করা।

প্রথম মডেলে যেখানে কোনো প্রকার লকডাউন ছাড়া কী ঘটবে সেটি হিসেব করা হয়েছে সেখানে দেখা গিয়েছে আগামী ১৮ মাসে করোনাভাইরাসের জন্য প্রায় ৫ লক্ষ লোক মারা যেতে পারে। এর প্রধান কারণ প্রতিদিন যত লোক আক্রান্ত হবে তাদের চিকিৎসা দেবার মতো ক্ষমতা যেমন আইসিইউ বেড আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নেই (বাকি ১৫টি দেশের মতই)।

দ্বিতীয় মডেলে দেখা গিয়েছে যদি প্রতি ৫০ দিন “মিটিগেশন বা প্রশমন স্ট্রাটেজি” নেয়া হয় এবং এরপর ৩০ দিন সবকিছু স্বাভাবিক করে দেয়া হয়, তাহলে কি অবস্থা হতে পারে। “মিটিগেশন বা প্রশমন স্ট্রাটেজি” বলতে বুঝানো হয়েছে যে সবাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার করা এগুলি মেনে চলা, সঙ্গে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা, কিন্তু পুরো দেশ লকডাউন করা হবে না। এই রূপরেখাতেও দেখা গিয়েছে যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়বে এবং প্রায় দুই লাখের বেশি লোক মারা যাবে।

তৃতীয় মডেলে দেখা হয়েছে প্রতি ৫০ দিন সংক্রমণ রহিত বা দমন (সাপ্রেসন) করা হয় এবং পরবর্তী ৩০ দিন লকডাউন শিথিল রাখা হলে, কী অবস্থা হতে পারে। এই ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অনেক চাপের মুখে পড়লেও একেবারে ভেঙে পড়বেনা এবং আগামী ১৮ মাসে পাঁচ হাজারের মতো লোক মারা যেতে পারে।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী এই প্রতি ৫০ দিন সংক্রমণ রহিত বা দমন (সাপ্রেসন) এবং এরপর ৩০ দিন লকডাউন শিথিল রাখার পদ্ধতিটিকে একটি কার্যকরী পদ্ধতি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। লকডাউন শিথিল রাখার সময়ে অবশ্যই টেস্টিং, কন্টাক্ট ট্রেসিং এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে বিশেষ সুরক্ষা প্রদান করতে হবে। এই গবেষণাটি করা হয়েছে প্রেডিকশন মডেল স্টাডিজের ট্রাইপড রিপোর্টি গাইডলাইন অনুসরণ করে।

অনুবাদ: রাইয়ান আমজাদ ও ডা. মো. রিজওয়ানুল কারিম। গবেষণা কর্ম ইউরোপিয়ান জার্নাল অব এপিডেমিওলজিতে প্রকাশিত।

এনএম