আত্রাইয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই

আগের সংবাদ

তামিমের লাইভ আড্ডার বিদায় আজ

পরের সংবাদ

আমফানে বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়নি

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২৩, ২০২০ , ১০:২১ পূর্বাহ্ণ

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এখনো স্বাভাবিক হয়নি। তবে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর পরিশ্রমের ফলে উপক‚লীয় এলাকার সার্বিক অবস্থার বেশ উন্নতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ইতোমধ্যেই কুষ্টিয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি চালু হতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে।

বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে উপকূলীয় বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ লাইন ট্রিপ করে। কোথাও কোথাও ওভার ভোল্টেজের কারণে ট্রান্সফরমার ট্রিপ করে। বড় বড় গাছ পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে ২৫ হাজার স্থানে। কোথাও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে, আবার কোথাও উপরে পড়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, আম্ফানের ফলে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, ট্রান্সফরমার্স, ফিডার, খুঁটিসহ যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাতে ইচ্ছা থাকলেও আমাদের পক্ষে স্বল্পতম সময়ে শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। শতভাগ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হলে আরো বেশ কয়েকদিন সময় লাগবে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে কুষ্টিয়া জেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি বিকল হয়ে যায়। এর ফলে গত বুধবার রাত থেকেই কুষ্টিয়ায় কোনো বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। কুষ্টিয়া শহরসহ আশপাশের এলাকা একেবারে অন্ধকারে ছিল। ভেড়ামারা থেকে বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। তবে গতকাল শুক্রবার দুপুরের দিকে কুষ্টিয়াতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কিছুটা সচল করা গেলেও পুরোপুরি সচল করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুতের সব লাইন মেরামত করা হলেও পুড়ে যাওয়া দুইটি ট্রান্সফর্মার এখনো স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এ কারণেই এই জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, রাজবাড়ীর ৬ লক্ষাধিক গ্রাহক এখনো বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত দুটি ট্রান্সফর্মার মেরামত স্থাপন করতে কমপক্ষে দুদিন সময় লাগবে বলে বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান।

উপকূলীয় এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, বরিশাল এলাকার বেশিরভাগ জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রয়েছে। এসব জেলার বিভিন্ন এলাকায় গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ৮০ ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ আওতায় আনা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে বিকল হয়ে যাওয়া ফিডারগুলো চালু করতে পারলে শতভাগ এলাকায়ই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডের সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অঞ্জন কান্তি দাস বলেন, আমাদেরই গ্রাহক সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, আবার আমরাই ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। পটুয়াখালী, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পিরোজপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলায় বড় বড় গাছ পড়ে থাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। গাছের কারণে সেসব স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগের কোনো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। আরইবির ২ কোটি ৮৫ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আশি থেকে নব্বই লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। তবে গত দুদিনে এই সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। আগামী দুএকদিনের মধ্যে বাকি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আমাদের কর্মীরা কাজ করছে। কুষ্টিয়ার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করতে বিকল্পভাবে ভেড়ামারা থেকে বাইপাস লাইনের মাধ্যমে কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে।

ডিসি