ঈদে দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ান

আগের সংবাদ

সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ়ের আহ্বান

পরের সংবাদ

বুলবুলের বদান্যতা আম্ফানের আদিখ্যেতা

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২২, ২০২০ , ১০:৩৪ অপরাহ্ণ

মে আর নভেম্বর। জুন আর ডিসেম্বরের আগের মাস। মৌসুমি বায়ু প্রবাহের কাছে বড্ড বেয়াদবি করার জন্য এ দুটি মাস যেন প্রাক লাইসেন্সপ্রাপ্ত। অর্থবছর কিংবা পঞ্জিকাবছর শেষ হওয়ার আগে অর্থনীতি ও সমাজ হিসাব-নিকাশ মিলানোয় সবাই যখন সাতিশয় ব্যস্ত ঠিক সে সময়টায় মে আর নভেম্বরে বঙ্গোপসাগরে ঢেউ বড় উতাল-পাতাল শুরু করে। ধ্বংসযজ্ঞের কিস্তি পরিশোধের সময় যেন এটি।
তর সইছিল না আম্ফানের। থাইল্যান্ডের নাম নিয়ে মে মাসের প্রথম থেকেই কীভাবে সে আক্রমণ সানাবে বঙ্গীয় বদ্বীপে তার মতলব আঁটতে থাকে। ঘূর্ণিঝড় সমিতির সিনিয়র সদস্য সিডর-আইলা তারা তাকে বোঝাতে চেষ্টা করছিল করোনা ভাইরাসে বিশ্ববাসীর সঙ্গে এতদঞ্চলের মানুষরা বড় জটিল সংগ্রামে, তুমি একটু বুঝেশুনে অগ্রসর হও। কিন্তু কে শোনে কার কথা, প্রথমে একটু একটু করে জানান দিতে থাকে, থামে আবার চেতে ওঠে। সুন্দরবনের সঙ্গে যেন তার অতি আড়ি। তাকে আক্রমণ সে করবেই। ২০ মে একটা কালো তারিখ তৈরি করে তবে সে তার সাধ মেটাল। পরশুদিন উড়ো সংবাদ সংস্থার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সে জানাল, ‘আমাকে ভুল বুঝবেন না, সুন্দরবন ধ্বংসের ব্যাপারে স্বার্থান্ধ মানুষই যেখানে বুঝতে চাইছে না যে ভবিষ্যতে আজকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা টিকে থাকলে বা কি কিংবা না থাকলে কি তারা বর্তমানকালের লোভ স্বার্থ উদ্ধারে উন্মত্ত। করোনাও তাদের সম্মোহিত করে জ্ঞান ফেরাতে পারছে না।’
আম্ফানের এই ভীমরতিকে মিডিয়া আদিখ্যেতা আখ্যা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের দুটি জেলা এবং বাংলাদেশের উপক‚লীয় বৃহত্তর তিন জেলায় (সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট) হঠাৎ করে আম্ফান এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে যে তার প্রকৃত তথ্য এখনো শুমার হয়নি। করোনাকালে আম্ফানের এই অস্বাভাবিক আক্রমণ আবারো সুন্দরবন বুক পেতে সামাল দিয়েছে। অকৃতজ্ঞ কর্তৃপক্ষ এটাকে ‘নিজেদের সৃষ্ট সমস্যার পদধ্বনি ও অসহায়ত্ব’-এর চেয়ে ‘সুন্দরবন বাঁচিয়ে দিয়েছে’ এ কথা বলে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে শুরুও করেছেন। করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থ বেচাইন অবস্থায় কিছুটা হলেও যেন নিষ্কৃতির মওকা মিলেছে আম্ফানে। মাত্র কয়েক মাস আগে বুলবুল যে বদান্যতা দেখিয়েছিল তা বড্ড মনে পড়েÑ
সে সময় নভেম্বরের শুরুতে সুদূরের কোনো জলাঙ্গনে বুলবুল যখন চোখ মেলে তাকায় তখনো তার গন্তব্য ও আচার-আচরণের আকিকা হয়নি। কেউ তাকে তালিমও দেয়নি, পথের কোনো রাজধানী থেকে নির্দেশনামূলক কোনো ইমেইল তখনো তার ইনবক্সে ঢোকেনি। কোথায় কাকে আক্রমণ করা হবে এমন কোনো ফরমানে স্বাক্ষর করেননি কোনো না কোনো ক্ষমতাধর রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান। এহেন অবস্থায় বুলবুল নাম পেয়ে সবিশেষ আহ্লাদে মেতে ওঠে নাবালক ঝড়। আসলে সে ছিল চীন সাগরে বেড়ে ওঠা মারমো ঝড়ের উত্তরসূরি। পুনর্জন্মবাদে তার বিশ্বাস নেই তবে আস্থা আছে এসব চক্র-বক্রের প্রতি। প্রকৃতি ও আবহাওয়াদের মধ্যে ঠাণ্ডা যুদ্ধ চীন-আমেরিকার ট্রেড ওয়ারের চেয়ে কম নয় এসব ভাবতে ভাবতে বেশ কয়েকটি সকাল ও সন্ধ্যা পার করে বুলবুল। বুলবুল বড় হতে থাকে স্বাভাবিক বা দেশি মুরগির মতো, ব্রয়লারের মুরগির মতো। উপক‚লের তিন-চারটি দেশের আবহাওয়া দপ্তর তার গতিবিধি মাপে-পরিমাপে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তার নাম রেখেছিল পাকিস্তানিরা। অথচ সেই পাকিস্তানে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার ভ্রমণ সূচিতে নেই। এবারের আম্ফান যেমন তার দেশ থাইল্যান্ডের কথা মাথায় আনেনি। বুলবুলের যাতায়াত বা গন্তব্যস্থল মালয় সাগর জাভা কিংবা সিংহল দ্বীপ হয়ে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ পেরিয়ে সুদূর সুন্দরবনের দিকে। প্রাকৃতিক সুরক্ষার জন্য সুন্দরবনের সুনাম-সুখ্যাতির অহঙ্কার ও গর্ব খর্ব করার দিকে তার খেয়াল যেন বেশি। এ কথা নভেম্বরের ৫ তারিখে প্রাতঃরাশ সারার সময় বুলবুল ভালোভাবে পরখ করে। তারও তো একটা কর্মপরিকল্পনা থাকতেই হয়। এর আগে তিন ফার্স্ট কাজিন সিডর, আইলা, মহাসেন প্রায় একই সময়ে একই কর্মভাবনায় কাটিয়েছিল। বড়দা সিডর বরাবরই ছিল উগ্র ও বক্র প্রকৃতির। নভেম্বরে ভ্রমণকারী সিডর নামটি ছিল সিংহলি ভাষায় ট্যারা চোখ; মেজদা আইলা ও ন্যাড়া মহাসেন ছিল মে মাসের পরিব্রাজক। আইলাও কম বেয়াড়া ছিল না। ভরা পূর্ণিমায় ভরা জোয়ারের সময় সুন্দরবনকে আক্রমণ করা সংলগ্ন এলাকাগুলোকে পানিতে একাকার করে দেয়ায় তার তৎপরতা ছিল সুবিদিত। গিনেজ বুক অব রেকর্ডসে ওঠার মতো। মহাসেনকে সে তুলনায় পরিমিত বোধে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রতীয়মান হয়েছিল। সে ক্রিকেটের স্পিনারের মতো বিপুল ভয়ভীতির সঞ্চার করেও তেমন আক্রমণ না সানাতে সজাগ ও সচেতন ছিল। মহাসেনের মহানুভবতায় উপক‚লীয় অঞ্চলের মানুষরা এখনো তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কিন্তু বুলবুল কোন পথে নেবে, সে কতটা হবে দক্ষিণ কিংবা বামপন্থি? তার মেজাজ সপ্তম না পঞ্চমে চড়াবে সে বিষয়ে তখনো কোনো পরিপত্র জারি হয়নি। উপগ্রহের মাধ্যমে প্রিসাইসড ফোকাল পয়েন্ট ঠিক করার জন্য এসআরও জারির অপেক্ষায় সে তখনো। বুলবুল কিছুটা কাব্যিক, কিছুটা সান্নিক, অধিকতর রোমান্টিক হওয়ার চিন্তা তার মাথায় আসছে তো আসছেই।
ঠিক এ সময় বিশ্ব সংবাদ সংস্থা উবিসসের (উড়ো, বিভ্রান্তিকর, সংশয় ও সন্দেহ) কান্ট্রি এডিটর তখন শ্রীলঙ্কায়। তার শখ বুলবুলের একটা সাক্ষাৎকার নেয়ার। যে কথা সে কাজÑ
উবিসস : প্রাকৃতিক বিপর্যের নতুন প্রজন্ম হিসেবে আপনাকে স্বাগত জানাই। বর্তমান পর্যায় পর্যন্ত আসতে আপনার অনুবৃত্তিমূলক বয়ান শুনতে চাই।
বুলবুল : আপনাদেরও অভিবাদন জানাই। আমার সম্পর্কে আপনাদের আগ্রহ ও অনুসন্ধিৎসু মন মানসিকতর উদ্বোধনকে, উপলব্ধিকেও আমি বা আমার প্রজন্মের সবার তরফ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। কৃতজ্ঞতা জানাই এ জন্য যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ অনুসন্ধান উপলব্ধিতে আপনাদের নবজাগৃতি সত্যিই প্রশংসাযোগ্য, প্রশান্তি প্রদায়ক। আপনারা প্রভাবের (ইফেক্ট বা রেজাল্ট) চেয়ে কারণ (কজ) জানার দিকে মনোনিবেশ করছেন দেখে আমরা সাতিশয় আনন্দবোধ করছি।
আমি, এই বুলবুল, আপনারা বলতে পারেন এখনো নাবালক। চীন ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জলবায়ুর পরিবর্তনের যে প্রভাব-প্রতিপত্তি তা আন্তঃদেশীয় মনোমালিন্যেরই প্রতিফল যেমনটি আটলান্টিক ও উত্তর আটলান্টিকের পথে-প্রান্তরে, পানিপথে অহরহ ঘটে যাচ্ছে। আইসল্যান্ড নামের পিচ্চি ভূখণ্ডটিকে গ্রিনল্যান্ড নামেও অনেকে ঠাওরান, এটা কতটা ঠিক না বেঠিক সে বয়ানে আমি যাব না কিন্তু আইসল্যান্ডের বরফে যে গলছে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তরে হিন্দুকুশ ও হিমালয় পর্বতমালার চ‚ড়ায় বরফের টুপি যে পাগড়ি হতে চলেছে তা প্রায় একই পর্যায়ের।
আপনারা লক্ষ্য করেছেন আগে আমাদের প্রাদুর্ভাব ঘটত বেশ কয়েক বছর পর পর। ধরেন যে ১০-১২ বছর পরপর। আর এখন ৪-৫ বছর পরপর আমরা আসছি। এমনকি আমাদের সিডর মামা ও আইলা ফফুরা এসেছিলেন রীতিমতো ২ বছরের মাথায়। আমাদের মহাসেন চাচা ও নার্গিস ফুফু যদিও পিঠাপিঠি ভাইবোন কিন্তু তারা দুজনই শিক্ষিত ধরনের বুঝ বুদ্ধি একটু বেশি ছিল। তারা খুব বুঝেশুনে চলাচল করেছিলেন। গেলবার ফণী দা তেমন ক্ষয়ক্ষতির পথে পা ফেলেননি। আমাদের হাসি পায় বঙ্গীয় বদ্বীপের বকলম এক মন্ত্রী মহোদয় সে সময় বলেছিলেন আমরা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি বলে ফণী বাবু প্রবল হতে পারেননি। আমি বুলবুল অনেকে বলে আমার নামের মধ্যে কবি কবি ভাব আছে। জানি না এখনো নাবালক আমি। সামনের দিনগুলোতে আমার বয়সকালে আমি কেমন ব্যবহার করতে পারব সবার সঙ্গে।
উবিসস : কিছু মনে না করলে আপনার মতলব কী অর্থাৎ এবার আপনার পরিকল্পনাটা কী? তবে বলতে যদি আপনার আপত্তি না থাকে!
বুুলবুল : [একটু কুট হাসি দিয়ে] আশা করি আপনারা এতদঞ্চলের ভ‚রাজনীতি, আঞ্চলিক শক্তি প্রপঞ্চ, বাণিজ্যযুদ্ধ এসব সম্পর্কে অল্প-বিস্তর তো জানেন। যদিও জলবায়ুর মধ্যে এসব প্যাঁচ পোঁচ এখনো ঢোকেনি বা কারো মাথায় জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত চিন্তাভাবনার মধ্যে রাজনীতি পলিটিক্স আকারে ঢোকেনি। তবুও মাঝে মধ্যে ভাবসাব তেমন মনে হয়। যেমন বদ্বীপ অঞ্চলের এক দেশে একটি বড় ভবন ধসে বহু মানুষ মারা গেলে সে দেশের কর্তাব্যক্তিরা প্রত্যাশা করছিলেন এই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা উৎসারিত নাজুক পরিস্থিতি থেকে গণরোষ ভিন্ন খাতে নেয়া যায় কিনা। এ ধরনের ইচ্ছা যখন তারা পোষণ করছিলেন, তখন মহাসেন কাকুর কাছে শোনা, সে দেশ থেকে তার কাছে এত্তেলা পাঠানো হয় কাকুর আক্রমণটা বড় হলে সে সুযোগটা তারা পেতে পারেন বা নিতে চেয়েছিলেন। মহাসেন কাকুর সুনামি ও এর প্রভাব বিষয়ে গবেষণা ছিল, তিনি ব্যাপারটি বিলক্ষণ বুঝতে পেরে তার আক্রমণকে যথারীতি টুইস্ট করতে পেরেছিলেন।
উবিসস : আপনার শব্দ চয়ন, বাক্য বিন্যাসের ধরন দেখে বুঝতে পারছি আপনি আপনার মতলব ‘রাজনৈতিক-অর্থনীতির’ কারণে খোলাসা করতে চাচ্ছেন না।
বুলবুল : এখান থেকে আমার যাত্রাপথের উপক‚ল অঞ্চলে ফল-ফসল চাষাবাদ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুরতহাল প্রতিবেদন আমাকে ইতোমধ্যে দেখানো হয়েছে। আমাকে ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে আবহাওয়ার কিছুটা পরিবর্তন সাপেক্ষে আমি যেন ‘প্রকৃতির প্রতিশোধ’-এর প্রতীক হিসেবে আমার ভ‚মিকায় যত্নবান থাকি। আমাজনে ও অস্ট্রেলিয়ায় আগুনের যে ভ‚মিকা পালিত হয়েছে আমাকে বলা হয়েছে সমুদ্র থেকে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আমি যেন একই ধরনের ভূমিকা পালন করি। আমাকে বলা হয়েছে প্রকৃতির প্রতি বিরূপ আচরণের প্রতিফল হিসেবে আমাদের কর্মকাণ্ড। এখানে অন্য কোনো অভিসন্ধি বা স্বপ্নবিলাস থাকতে নেই।
উবিসস : তাহলে জাপানে যে মহাসুনামি হয়েছিল ২০১৪ সালে কিংবা তারও ৭-৮ বছর আগে ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী শ্রীলঙ্কায় যে সুনামি হয়েছিল সবই কি একই সূত্রে গাঁথা?
বুলবুল : মোটা দাগে তা বলতে পারেন। তবে আমার দুঃখ ও প্রতিক্রিয়া হলো জলবায়ুর পরিবর্তনে সৃষ্ট অনিয়ম সব সময় যথাতথা স্থানে প্রকাশ পায় না। যেমন প্রশান্ত ও ইন্দোচীন সাগরে আমাদের যে জন্য উদ্ভব, বিকাশ ও বিতণ্ডা তার জন্য এতদঞ্চলের দেশ বা জনগণ দায়ী নয়। তবে এটি মূলত এসব দেশে বড় বড় দেশের ঠেলে দেয়া, ফেলে দেয়া বর্জ্য রিলোকেট করে সেখানটায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়।
উবিসস : বুঝতে পারছি আপনি যৌক্তিকতাকে প্রসারিত করার চেষ্টা করছেন। নিরীহ সাধারণ উপক‚লবাসী এবং সেখানকার প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যূহ সুন্দরবনকে আঘাত করে পর্যুদস্ত করার টার্গেট আপনি কেন নেবেন? প্রকৃতির সৃষ্টি হয়ে প্রকৃতিকে ধ্বংস করছেন এটা আত্মঘাতী হলো, নয় কি?
বুলবুল : বিলক্ষণ সত্য আপনার পর্যবেক্ষণ। কিন্তু কি করা হবে বলুন সামনে যে পড়বে তাকে আলাদা করে ছাড় দেয়ার রেওয়াজ বা রীতি না থাকায় সুন্দরবনের মতো প্রাকৃতিক ঢাল ও ক্ষতির সম্মুখীন হতেই পারে। প্রতিরোধের ক্ষমতা সুন্দরবনের একার নেই।
সাক্ষাৎকার দেয়ার সাত দিনের মাথায় বুলবুল বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন সুন্দরবনকে ঘিরে তার আক্রমণ চালায়। বুলবুলের শক্তি যখন সর্বোচ্চ মাত্রায় ছিল, তখন ঘণ্টায় দেড়শ কিলোমিটার গতির বাতাস নিয়ে উপক‚লের দিকে ধেয়ে এসেছিল এ ঝড়। আবহাওয়া দপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা বলেছেন মূলত সুন্দরবন এ ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ কমিয়ে দিয়েছে। খুলনা অঞ্চলে যখন এসেছে, ততক্ষণে সে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে। এ কারণে বাংলাদেশে ততটা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সরাসরি এলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি হতে পারত।
বুলবুল, আম্ফান মনে করে আমি বা আমরা এখন থেকে বারবার আসব, কিন্তু বাংলাদেশ ও সুন্দরবন শুধু কি আত্মরক্ষায় সীমিত ও নিঃশেষ হয়ে যাবে। সমস্যার মূলে যেতে হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রতিরক্ষাব্যূহ গড়ে তুলতে হবে। এটা বর্তমান ও ভবিষ্যতের সবার স্বার্থে। করোনা ভাইরাস যেভাবে বৈশ্বিক ও জাতীয় অর্থনীতিকে কড়া মেসেজ দিয়ে যাচ্ছে, সেটাও উপলব্ধিতে আনতে হবে।

সরকারের সাবেক সচিব, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান।
[email protected]

ডিসি