ভ্রাম্যমান আদালতে ৩ মোটর সাইকেল শোরুমকে জরিমানা

আগের সংবাদ

প্রকৌশলী দেলোয়ার হত্যা: তদন্তের আহবান আইইবির

পরের সংবাদ

চলে গেলেন সাংবাদিক সুমন মাহমুদ

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২২, ২০২০ , ৯:৩১ অপরাহ্ণ

চিরবিদায় নিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক দৈনিক ভোরের কাগজের সাবেক যুগ্ম বার্তা সম্পাদক সুমন মাহমুদ (৭২)। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের এই সংগঠক শুক্রবার বিকেলে (২২ মে) রাজধানীর আসগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা রেখে গেছেন। সুমন মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। ২০০৬ সালে তার বাইপাস সার্জারি হয়।

তাঁর স্ত্রী ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ পারভীন শাহীদা আকতার জানিয়েছেন, তার নমুনা পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ এসেছিল। তবে তাঁর নিউমোনিয়ার সমস্যা ছিল। বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

জামালপুরের মেলানদহ থানার পাঁচতইলা গ্রামের মরহুম নিজামউদ্দিন আহমেদের ছেলে সুমন মাহমুদ রাজধানীর আসাদ এভিনিউয়ের একটি বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। গত ১২ মে থেকে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। যেহেতু শ্বাসকষ্ট করোনার উপসর্গ তাই সুমন মাহমুদকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা শেষে একটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকার ব্যবস্থা করে দেয় কর্তৃপক্ষ। সেখানে থাকা সম্ভব নয় ভেবে সুমন মাহমুদকে বাসায় নিয়ে এলে পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে।

সাংবাদিক সুমনের ভাই কর্নেল (অব.) মঞ্জুর আহমেদ হেলাল জানান, ১২ মে রাতেই আজগর আলী হাসপাতালে সুমনকে ভর্তি করানো হয়। পরে ১৩ মে শ্বাসকষ্ট আরো বেড়ে যায়। ১৪ মে থেকে নেবুলাইজার দেয়াসহ সব ধরনের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ওই দিন থেকেই তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। এর মাঝখানে দুইবার করোনা টেস্ট করানো হয়। যার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। শুক্রবার বিকেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বর্ষীয়ান এই সাংবাদিককে মৃত ঘোষণা করেন।

অধুনালুপ্ত গণকণ্ঠের মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতা জীবনের শুরু করেছিলেন সুমন। এরপর সাপ্তাহিক লড়াই, সাপ্তাহিক সমীক্ষণ পত্রিকা হয়ে আজকের কাগজে যোগদান করছিলেন। পরে ভোরের কাগজের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কাজে যুক্ত ছিলেন সুমন। বেসরকারি টিভি চ্যানেল এনটিভির বার্তা সম্পাদক হিসাবেও কর্মরত ছিলনে তিনি। সবশেষ যুগ্ম বার্তা সম্পাদক হিসাবে ভোরের কাগজ থেকে অবসরে যান।

সাংবাদিক সুমন মাহমুদ ৬০ এর দশকে ছাত্রলীগের নেতা হিসাবে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। বিএলএফের সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) নেতা ছিলেন। ১৯৭৯-৮১ সালে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন। পরবর্তীতে তিনি সক্রিয় রাজনীতি ছেড়ে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন।

সুমন মাহমুদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার।

পিআর