ঢামেকে প্রথম শিশু করোনা ইউনিটে ৯ রোগী

আগের সংবাদ

আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

পরের সংবাদ

উপকূলে করোনার ঝুঁকি বাড়িয়েছে আম্ফান

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২২, ২০২০ , ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ

বেশ কয়েক দিন ধরেই দেশে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ছে। আগের দিনের রেকর্ড ছাড়িয়ে আক্রান্তের সংখ্যা করছে নতুন রেকর্ড। সংক্রমণের বিস্তার ঘটায় সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা পরামর্শ দিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু এই মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ২২ লাখ মানুষকে আশ্রয় নিতে হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে। সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা তো দূর ঠাসাঠাসি করে থাকতে হয়েছে মানুষকে। দুয়েকজনের মুখে মাস্ক থাকলেও গায়ে গা লাগিয়ে অবস্থান করেছেন তারা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের তাৎপর্যপূর্ণ অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু এবারের বিষয়টি ছিল একেবারেই ভিন্ন। করোনার কারণে এ সময়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া মানুষের শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলাটা এক বড় চ্যালেঞ্জ। উপক‚লীয় এলাকাগুলোতে যারা কোয়ারেন্টাইনে বা আইসোলেশনে ছিলেন কিংবা মৃদু সংক্রমণে ভুগছেন এমন লোক যদি থেকে থাকে তাহলে করোনা সংক্রমণের বিস্তার ঘটতে পারে। ফলে ওই সব এলাকায় সংক্রমণের সংখ্যাটি অনেক বেড়ে যেতে পারে।
রাজশাহী বিভাগের স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. চিন্ময় দাস ভোরের কাগজকে বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে গাদাগাদি করে মানুষের আশ্রয় নেয়ায় করোনার ঝুঁকি বেড়েছে এ কথা সত্য। কিন্তু প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এ ছাড়া আর কোনো উপায়ও ছিল না। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হবে। তা কতটুকু মানা হয়েছে তাও বিবেচনায় নিতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক এক পরিচালক রোগতত্ত্ববিদ বলেন, করোনা থেকে বাঁচতে হলে প্রথম শর্ত হলো সামাজিক দূরত্ব ও শারীরিক দূরত্ব। কিন্তু সাইক্লোন শেল্টারে তা মানা হয়েছে বলে মনে হয় না। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমরা সেই চিত্রই দেখেছি। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে যদি একজনও করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে থাকেন এবং নিয়ম-কানুন না মানেন তাহলে অন্যরা সহজেই আক্রান্ত হবেন এ বিষয়টি নিশ্চিত। সবাই মাস্কও ব্যবহার করেনি। তাই এটি নিশ্চিত করেই বলা যায়, আম্ফান আমাদের দেশের উপক‚লীয় এলাকাগুলোতে করোনার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, উপকূলীয় এলাকার করোনা আক্রান্ত এবং লকডাউন করা বাড়ির লোকজনদের নিকটবর্তী আইসোলেশন কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এসআর