গ্রহে আজ শনিসংকেত

আগের সংবাদ

আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় আ.লীগের মনিটরিং টিম

পরের সংবাদ

পাখিপুরাণ : ফরিদ আহমদ দুলাল

হাবীবুল্লাহ সিরাজী

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২১, ২০২০ , ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

এমন কেউ আছে, যাকে সিঁড়ি পেতে দিতে হয়! ঊলতে হয়, এসো বসো দু’টো মুড়ি-গুড় খাও? সে বলে আগ্রহভরে মুঠোভর্তি মুড়ি মুখে ফেলে গুড়ে কামড় দেয়। তৃপ্তির সঙ্গে চিবুতে-চিবুতে ভরা গালে গল্প বলে প্রেম-সোহাগের। ‘যতদিন মিসকল ততদিন প্রণয়’। এই প্রণয়-পুরুষ কবি ফরিদ আহমদ দুলাল। কখন, কীভাবে তার ‘পাখিপুরাণ’ নিয়ে মুখরিত করা শুরু করেছে তা ধরার আগেই কানে বেজেছে, “…… কোনো এক গ্রামে শীতের সকালে/ তুমিও সেঁকে নিতে পারো ঠাণ্ডায় জব্দ করতল”।
ফরিদ আহমদ দুলাল, বুঝিবা সবার দুলাল হ’য়ে ভুল কল দিতে দিতে মূল কলে আদ্যোপান্ত ঢুকে বসে আছে। তার বিষাদ, বিরহ, দুঃসময় যে ভাষায় প্রণতি জানায়। তা গ্রহণ করতে হয় সার্বজনীন একাগ্রতায়। আমাদের সকল বিষাদের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে থাকে বিরহ, আর বিরহ তো দুঃসময়কে আলিঙ্গন করার অপেক্ষায় উন্মুখ। ‘প্রত্যেকে ছুঁয়েছে তোমার বেদনা।’ এই ছোঁয়া কিংবা স্পর্শ, এক অনন্ত যাত্রাসঙ্গী।
ফরিদ আহমদ দুলাল তার শিল্পসত্তাকে বিস্তারিত করেছে নানা প্রকরণে। কবিতাকে কেন্দ্রে রেখে গল্প-উপন্যাস-প্রবন্ধ-নাটকে আবর্তিত করেছে। তদুপরি আছে, অসাধারণ এক সাংগঠনিক শক্তি। যে ডাকে সে তাকে পায়; ডাক দেয়ার ভাষাটি তার হৃদয়ে মোহ হ’য়ে জমে, মগ্নতা হ’য়ে প্রকাশিত হয়। এই মোহ ও মগ্নতার সম্মিলনে দুলাল ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা হ’য়ে সমস্ত বাংলাদেশে নিজেকে ছড়িয়ে দেয়। পথে-পথে নিজের খোঁজের অন্তরালে থাকে প্রান্তরের আবহাওয়া। সেখানে খড়কুটোও পায় অস্তিত্বের আচরণ, প্রাণিকুলে জমে প্রেমময় অবস্থান। ‘এবঙ লাঠিয়াল’, ‘মানিক বাউলের পালা’, ‘কোঁচ’ কী ‘লড়াই’ যেন নাটকই শুধু নয়; আমাদের পরম্পরার এক অনিবার্য আয়োজন। নাট্যকার দুলাল যুদ্ধক্ষেত্রে এক অপরাজেয় শক্তি।
তার গল্প তার মতোই পক্বকেশ ও দীর্ঘ দেহকে ধারণ করে। সময়ের সঙ্গে পরিকল্পিত হয়; পরিস্থিতি তাকে বেদনার ভাষার সঙ্গে বিরহের উপমা মিশিয়ে জীবন শেখায়। কবি ও গল্পকার একে অন্যের পরিপূরক। ‘স্বতন্ত্র’ যেন নিজের স্বপ্ন-কল্পনার যৌথ এক যাত্রা। ছোট কাগজের মোড়কে সম্পাদকের গুচ্ছ-ইচ্ছার পূরণ। এই যে ফরিদ আহমদ দুলালকে নিয়ে খণ্ড-খণ্ড চিত্র, তার দায় বহন করে যাপন। সই হবার পর তাতে মই ফেলার তাগিদ তৈরি করে ভিন্ন পথ। তবু প্রাক-প্রস্তুতি সে যাত্রাপথে মূল গতিটি নির্ণয় করে দেয়। ডিগবাজি দেয়া কিংবা চিৎ-কাৎ হ’য়ে পড়ে থাকা অপেক্ষা কেবল ফুটতে থাকে।
\২\
দুলাল ময়মনসিংহ ধারণ করে আছে বুকে। পিতৃপুরুষের টান থেকে এই যে অবস্থান, তার নির্মাণ এক যৌগিক প্রক্রিয়া। তাতে নারী এক অতল উপাদান, ‘দুই নয়নে মন চায় বলিবারে’। মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, সখিনা, আলোমতি, কঙ্কা, লীলা, গুনাই চরিত্রমালা প্রান্তরের তৃণলতায়, শীত-গ্রীষ্মের আলো-অন্ধকারে, স্বপ্স ও সম্ভোগের বিহ্বলতায় আমাদের মনোমাধুর্য্যে স্নাত হয়। ফরিদ আহমদ দুলালের ‘মৈমনসিং গীতিকাভাসান’-এ নারীর ‘বঞ্চনা-প্রতারণা-লালসা’ বর্ণনার পাশাপাশি চিত্রিত হয়েছে ‘হাবিল-কাবিলে’র অনুগমন। তার কবিতার ভাষা ও বর্ণনা যে চিত্রমিল উপস্থাপন করে; তা সহজ ও স্বাভাবিক। পাঠক-চিত্তের সরল আগ্রহের প্রেমপদ্য রচনার মধ্য দিয়ে দুলাল কেবল আঞ্চলিক অববাহিকায় ভ্রমণ করেনি, গ্রাম ও নগরের ভেদরেখাকেও অতিক্রম করেছে। ‘পৃথিবীর পথে পথে বিমূর্ত শৃঙ্খল আছে মোড়া’। তারো আগে ‘প্রত্যুষের বাগান রচনাপর্ব’ থেকে শুরু করতে পারলে ভালো হতো। অনেক কিছুই হতো, তারপরও ‘রোদের অভাবে আমাদের ঘরে কখন ছত্রাক জমে?’ প্রশ্নটি আমার বাক্যটি দুলালের। রোদ চাই, ছায়া চাই, বৃষ্টি চাই, জীবনের জন্য চাই আকাশ ও পাখিপুরাণ।

ডিসি