পিপিই সঙ্কটে উদ্বেগ, ডাক্তারকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি

আগের সংবাদ

গ্রামের ১২ লাখ যুবক হবেন ‘আত্মকর্মী’

পরের সংবাদ

ডুমুরিয়ায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি, প্লাবিত ১০ গ্রাম

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২১, ২০২০ , ১১:৩৯ অপরাহ্ণ

ঘূর্ণিঝড় সুপার সাইক্লোন আমফানের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে খুলনার ডুমুরিয়া। প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে উপকুলবর্তী বেড়িবাঁধ ভেঙে ১০ গ্রামসহ প্রায় ৫ হাজার বিঘা জমির মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। প্রায় আড়াই হাজার বসতবাড়ি ভেঙে গেছে। ওই এলাকার মানুষ নিকটবর্তী সাইক্লোন শেল্টারসহ বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে।

জানা যায়, বুধবার রাত ৯টা থেকে শুরু হওয়া ঘূর্ণিঝড় আমফান গভীর রাত পর্যন্ত ডুমুরিয়া এলাকায় তাণ্ডব চালায়। প্রচণ্ড জলোচ্ছ্বাসে বাঁশতলা ও লতাবুনিয়া এলাকায় নদীর কুলবর্তী রক্ষাবাঁধ ভেঙ্গে ঘেংরাইল নদীর পানি প্রবেশ করে। সম্পূর্ণভাবে ২ গ্রাম পাবিত হয়। এছাড়া পাউবোর ২৯ নং পোল্ডার বাধ ভেঙে শরাফপুর, চাদগড়, আকড়া ও বাহির আকড়া গ্রাম প্লাবিত হয়। নদীতে ১০/১২ফুট পানি বৃদ্ধি হওয়ায় জলোচ্ছ্বাসে তেলিখালী ও বকুলতলা গ্রামের রক্ষাবাঁধ উপচে এলাকা প্লাবিত হয়। ভয়াবহ ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎখাত। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বানভাসিদের মাঝে সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনওসহ সরকারি কর্মকর্তারা ত্রাণ দিতে শুরু করেছে। এছাড়া ঝড়ে ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

পাউবোর কর্মকর্তা এসডি মিজানুর রহমান বলেন, নদীতে প্রচণ্ড পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। জলোচ্ছ্বাসে শরাফপুরে ২৯ নং পোল্ডারের বাঁধ উপচে ভিতরে পানি প্রবেশ করার ফলে প্রায় ১০০ ফুট এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দেয়। সকালে এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামত করা হয়। এছাড়া বকুলতলা, তেলিখালী, জাবড়া, বাঁশতলা, লতাবুুনিয়া ও বাগআছড়া এলাকায় নদীরকুলবর্তী রক্ষাবাঁধ ভেঙে এলাকা পাবিত হয়। এই মুহূর্তে বাঁধ মেরামত করা সম্ভব না হলেও ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করে দ্রুত মেরামত করা হবে। তবে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডুমুরিয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আবদুল মতিন বলেন, আম্পানের আঘাতে  বিভিন্ন স্থানে ৭২ খুঁটি ভেঙে গেছে। প্রায় ১০০ খুঁটি হেলে পড়েছে। ১২০০ টি মিটার নষ্ট হয়েছে। প্রায় শতাধিক স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে ৭০ থেকে ৭৫ টি। ক্রসআর্ম ভেঙে গেছে দেড় শতাধিক। এছাড়া ১ হাজারের বেশি স্থানে তারের উপর গাছপালা পড়ে আছে। আমরা এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সচল করার জন্য দুর্যোগের আলোর গেরিলা (কুইক রেন্সপন্স টম) সহ মোট ৯৮টিম কাজ করছি। আশাকরি ঈদের আগেই সব এলাকায় বিদ্যুৎ চালু করতে পারবো। সবমিলে বিদ্যুৎখাতে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বলেন, ডুমুরিয়ায় ২৩৫০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লতাবুনিয়া ও বাশতলা গ্রাম সম্পূর্ণ পাবিত হয়েছে। সেখানকার মানুষগুলো কে নিকটবর্তী লতাবুনিয়া স্কুলে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদেরকে ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা: শাহনাজ বেগম স্যার, এমপি স্যার ও উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ত্রাণ বিতরনে সহযোগিতা করেন। তবে আম্ফানের আঘাতে ডুমুরিয়ার বসতঘর ভেঙে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, ঘূর্ণিঝড় সুপার সাইক্লোন আম্পান ডুমুরিয়ায় বিশেষ করে উপকুল অঞ্চলে ব্যাপক আঘাত এনেছে। প্রচন্ড জলোচ্ছ্বাসে লতাবুনিয়া, বাঁশতলা, বাগআঁছড়া, তেলিখালী, বকুলতলা ও জাবড়া এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হচ্ছে এবং দ্রুত বাঁধ মেরামতের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এমএইচ