আমফানে ২৬ জেলায় ১১০০ কোটি টাকার ক্ষতি

আগের সংবাদ

প্রকৌশলী দেলোয়ার হত্যায় দুই জনের স্বীকারোক্তি

পরের সংবাদ

আল বিদা মাহে রমজান

আ য ম খোরশিদ আলম খান

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২১, ২০২০ , ১০:১৭ অপরাহ্ণ

পবিত্র রমজান একেবারে শেষের দিকে। আজই জুমাতুল বিদা। মাহে রমজানের শেষ জুমার দিন পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ সারাদেশে পালিত হবে। মসজিদে মসজিদে রোজাদার মুসল্লিদের উচ্ছ্বাসমুখর সরব উপস্থিতি ঘটবে সারাদেশে। শেষ মুহূর্তে রোজাদারদের বড় জমায়েতে জুমাতুল বিদায় মসজিদের খতিবের মুখে বারবার ধ্বনিত হবে আল বিদা মাহে রমজান, আল বিদা মাহে রমজান। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস মাহে রমজানের বিদায়ের সানাই খতিব সাহেবানের মুখে মুখে করুণ সুরে বেজে উঠবে। তখন গভীর শূন্যতা ও বেদনায় আবেগ আপ্লুত হয়ে উঠবে আল্লাহর প্রিয় বান্দারা। মাহে রমজান যাদের জীবনে রহমত ও কল্যাণের পরশ নিয়ে এসেছিল তা বিদায় নেয়ার প্রাক্কালে বেদনা, শূন্যতা ও হাহাকার ধ্বনি তো থাকবেই। রোজাদার মাত্রই আজ দলে দলে শামিল হবে জুমাতুল বিদায়। করোনা আজ মুসলিম বিশ্বকে একই কাতারে নিয়ে এসেছে। মানুষ যে মহামারির কাছে বড়ই অসহায় তাও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। আজ জুমাতুল বিদার দিনে মহামারি থেকে বাঁচতে আমাদের আল্লাহর দরবারে অশ্রুসিক্ত ফরিয়াদ পেশ করতে হবে। তবেই আল্লাহ খুশি হবেন আমাদের ওপর।
এই করোনাকালেও মুসলিম বিশ্বে অশান্তি থেমে নেই। তবে সহিংসতার মাত্রা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। করোনার দানব সবাইকে সন্ত্রস্ত করে তুললেও মানবতার শত্রু রা যুদ্ধ সহিংসতা থেকে এখনো বেরিয়ে আসতে পারছে না। এটা বড় দুঃখজনক। মুসলিম বিশ্বে অশান্তি পিছু ছাড়ছে না। সারা বিশ্বে চলছে আজ মুসলমানদের ওপর নির্মম নির্যাতন ও নিপীড়ন। মানবতার শত্রু রা শান্তিকামী মুসলিম জনতার শান্তি ও স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে। সন্ত্রাস ও জুলুমের থাবা মুসলিম জনপদে বিস্তৃত। ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, লেবানন, ফিলিস্তিন, কাশ্মির আজ জ্বলছে। মুসলিম বিশ্বে সন্ত্রাস ও অরাজকতা জিইয়ে রাখা হয়েছে ওই দেশগুলোর সম্পদ গ্রাস ও জনগণকে পদানত করার অশুভ উদ্দেশ্যে। এই বৈরী সময়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে মুসলমানদের। আত্মকলহ, ভেদাভেদ ও মতপার্থক্য ভুলে ইমানী চেতনা ও ভ্রাতৃত্ববোধে উজ্জীবিত হয়ে মানবতার শত্রু দের বিরুদ্ধে লড়তে হবে অহিংস পন্থায়। রাষ্ট্রীয় সংহতি ও বিশ্ব সমাজ গড়তে হবে মাহে রমজানের চেতনায়। জুমাতুল বিদার দিনে মুসলিম জনতার ইমানী চেতনা শানিত হবে এবং নবউদ্যমে নতুন শপথে তারা জেগে উঠবেই এই আশাবাদ সবার। করোনার দুঃসময়ে বিশ্ব থেকে অশান্তি ও যুদ্ধ, হানাহানির কবর রচনা করতে হবে এই হোক আমাদের শপথ আজ জুমাতুল বিদার দিনে।
আজ মসজিদ থেকে বেরিয়ে যথাসাধ্য গরিব-দুঃখীদের দান-খয়রাত প্রদান করে আল্লাহর রহমত অবারিত করুন। খতিবের দরদি কণ্ঠে মাহে রমজানের ফজিলত-মাহাত্ম্য আলোকপাতের পাশাপাশি আজকের সামাজিক বিশৃঙ্খলা, নৈতিকতার অবক্ষয় এবং অন্যায়-অরাজকতার বিরুদ্ধে লাখো-কোটি মুসলিম জনতাকে সচেতন করে তোলার ডাক দেয়া হবে এই প্রত্যাশা ইমাম এবং খতিবদের কাছে। একটি বিষয়ে সম্মানিত ইমাম-খতিব সাহেবদের আরেকটু জোরালো ভ‚মিকা কামনা করি। আর তাহলো, জুমার দিনে মসজিদে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ ঘটে। সমাজের, এলাকার সর্বস্তরের মানুষ মসজিদে জুমা পড়তে যান। জামাতে জুমার নামাজ আদায়ের আগে প্রায় প্রতিটি মসজিদে ইমাম-খতিব সাহেবরা আরবি খুতবার আলোকে কিছু বক্তব্য তুলে ধরেন। বর্তমানে সময় পাল্টেছে। মানুষের চিন্তাধারা, ভাবনা ও কর্মপরিধিও বহুগুণ বেড়েছে। দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চাহিদা, সমস্যার চিত্র ও দৃষ্টিভঙ্গির তফাৎ লক্ষণীয়। দেশে এখন বহু সমস্যা। সব পর্যায়ের মানুষ নানাভাবে সমস্যা কবলিত। তাদের জীবনধারা হয়ে ওঠছে আরো জটিল। ইমাম-খতিবদের যে প্রভাব ও মর্যাদা এখনো প্রতিটি এলাকায় দেখা যায়, তাই তাকে নিজ অবস্থান থেকে চারপাশের মানুষদের হেদায়েতের রাস্তা দেখিয়ে যেতে হবে। দুর্দশাগ্রস্ত, সমস্যাক্রান্ত, বিপদগামী মানুষকে নানাভাবে বুঝিয়ে-সুজিয়ে সঠিক কর্তব্যকর্মে, স্বাভাবিক জীবনধারায় নিয়ে আসার চেষ্টায় থাকবেন পাড়া-মহল্লার মসজিদের ইমাম-খতিব সাহেবরা। এই চেষ্টা অধিক ফলপ্রসূ হবে যদি সপ্তাহের জুমার সমাবেশে প্রদত্ত ভাষণে উক্ত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। ঘণ্টা-দেড় ঘণ্টা একসঙ্গে এত মানুষ যে মসজিদে বসে থাকল, নামাজ পড়ে ও আরবি খুতবা শুনে অশেষ পুণ্যের ভাগিদার হলো তাদের এ সময়টুকু আরো সার্থক হবে যদি বাংলা ভাষায় সহজভাবে যথার্থ ভাষণে-বক্তব্যে মুসল্লিদের উদ্দীপ্ত, উজ্জীবিত ও কর্তব্যমুখী জীবনের গন্তব্যে ফেরানো যায়। আজ জুমাতুল বিদার দিনে এই হোক আমাদের শপথ।

লেখক : সাংবাদিক, ইসলামী চিন্তাবিদ।