আসুন, বিভাজনের দেয়াল ভেঙে ফেলি

আগের সংবাদ

আমফানে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে মৃত্যু অন্তত ১৮

পরের সংবাদ

ঈদের আগেই পরিশোধ করুন

পোশাক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস

সম্পদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২০, ২০২০ , ১১:৪১ অপরাহ্ণ

প্রতিবারের মতো এবারো ঈদের আগে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে উদ্বেগ তেরি হয়েছে। তবে করোনা সংকটে এই উদ্বেগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। গাজীপুরে বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানায় চলতি মাসের বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ-সড়ক অবরোধ করার খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে, মে মাসের আংশিক বেতন ও বোনাস দেয়া হবে না মালিক পক্ষ থেকে এমন ঘোষণার কথা গত দুই দিন ধরে শ্রমিকদের মধ্যে ছড়ায়। মঙ্গলবার দুপুর ১টার পর উৎপাদন বন্ধ করে তিনটি কারখানার কমপক্ষে ৮ হাজার শ্রমিক বিক্ষোভ দেখাতে কারখানার বাইরে এসে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে। পোশাক করাখানা শিল্পে প্রায় সবসময়ই শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন করতে দেখা যায়। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সদস্যভুক্ত মালিকরা নিয়মিত শ্রমিকদের বেতন দেন এমন উদাহরণ খুব কম আছে। এখন করোনা ভাইরাসে বৈশ্বিক সংক্রমণের কারণে বিদেশের বায়াররা ক্রয়াদেশ বাতিল করছে। ফলে মালিকরা শ্রমিকের বেতন দিতে পারছেন না, এমন ঘোষণা দিয়েছেন অনেকেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, শ্রমিকরা যদি কাজই করে থাকেন তাহলে তাদের বেতন দেয়ার সঙ্গে পণ্য বায়ার কিনল নাকি কিনল না, তার সম্পর্ক থাকবে কেন? বাংলাদেশে পোশাক শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ এবং দেশের রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ জোগান দেয় এই খাত। এই বিপুল মুনাফার জোগান আসে মূলত শ্রমিকদের সস্তা শ্রম থেকে। বছরের পর বছর সরকার বাজেটের মাধ্যমে গতানুগতিক পথে এছাড়া বিভিন্ন অর্থনৈতিক অজুহাতে এই শিল্পের মালিকদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। কিন্তু দেখা যায়, পোশাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা লেগেই থাকে। করোনা ইস্যুতে নতুন করে সংকটে পড়ছে তৈরি পোশাক খাত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সংকটকালীন শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনার প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। শ্রমিকরা যেন সঠিক সময়ে তাদের বেতন বুঝে নিতে পারেনÑ বিজিএমইএ তদারকি করার কথা। আমরা এর আগেও সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করেছিলাম, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২ কোটি মানুষ এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। গুরুত্বপূর্ণ এ অবদান সতত্ত্বেও পোশাক শিল্পকে সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হয়নি। এ খাতের ওপর বারবার আঘাত এসেছে। এরপরও অনেক চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করে গত কয়েক দশকের পথপরিক্রমায় দেশের তৈরি পোশাকশিল্প আজকের এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। যে কোনো দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে সে দেশের শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। তাই নিশ্চিত করতে হবে শ্রমিকদের চাকরি নিরাপত্তা, বেতনের নিশ্চয়তা। দেশের বর্তমান দুর্যোগময় করোনা পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের সামাজিক অসন্তোষ দেখতে চাই না। ঈদের আগে পোশাক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দ্রুত পরিশোধের আনুরোধ করছি। এ ব্যাপারে সরকারকে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে।

ডিসি