বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রশংসা করলেন ওয়সিম আকরাম

আগের সংবাদ

ডিএনসিসির মশক নিধন অভিযানে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা

পরের সংবাদ

সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারকে অবশ্যই কঠোর হতে হবে

শরীফা বুলবুল

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২০, ২০২০ , ১২:৩২ অপরাহ্ণ

বিশেষ সাক্ষাৎকার
আহমদ রফিক, ভাষা সংগ্রামী

আহমদ রফিক। লেখক, রবীন্দ্র গবেষক, চিন্তাবিদ। ভাষা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারীদের একজন। মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে যেমন রাজপথে নেমেছিলেন তেমনি লেখনী দিয়ে সমাজ পরিবর্তনে রাখছেন ভ‚মিকা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে প্রচুর গবেষণা করেছেন। দুহাত ভরে লিখেছেন গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ। ছাত্রাবস্থা থেকেই তিনি ছিলেন মুক্ত চিন্তার মানুষ, প্রগতি চেতনাকে ধারণ করে সক্রিয় থেকেছেন। রাজনৈতিক বিশ্বাসে তিনি বামপন্থি, সমাজতন্ত্রবাদী। এখনো অটল সেই চেতনায়। ৯২ ছুঁইছুঁই বয়সেও তার মন সচল, সভা-সমিতিতে যাচ্ছেন, কলম এখনো থামেনি।

বরেণ্য এই লেখকের করোনাকাল কেমন কাটছে জানতে চাইলে বলেন, ২০১৯ সাল থেকে শারীরিক অসুস্থতা, চোখের অপারেশনসহ নানান কারণে এক বছর ধরেই আমি ঘরবন্দি। এটা অভ্যাসেই দাঁড়িয়ে গেছে। করোনা আসার পর বাধ্যতামূলকভাবেই ঘরবন্দি হয়েছি। তবু থেমে নেই। পত্রপত্রিকায় কলাম লেখা চলছে। এছাড়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বই লেখার কাজগুলো করছি। আমার বয়স এখন ৯১ প্লাস। সামনের সেপ্টেম্বরে ৯২ হবে। বার্ধক্য শরীরকে আক্রমণ করেছে ভালোভাবেই। করোনার মতোই। তবে মস্তিষ্ককে আক্রমণ করতে পারেনি।

এখন কী নিয়ে লিখছেন জানতে চাইলে বিশিষ্ট এই গবেষক বলেন, কয়েকটা বইয়ের কাজ করছি। ‘বিদ্যাসাগর পুনর্বিবেচনা’ বিদ্যাসাগরের জীবনাদর্শ, তার সমাজ সংস্কার কর্ম। সংকলন গ্রন্থ ‘রুশ বিপ্লব এবং রবীন্দ্রনাথ’, আরেকটা কাজ যেটা আমাদের দেশে কেউ করেনি। আমাদের প্রশাসনিক বিভাগও উদাসীন, সেটা হলো ‘নারী নির্যাতন, শিশু ও কন্যা নির্যাতন’। অর্থাৎ শিশু হত্যা ও নারী ধর্ষণ। প্রতিদিনই ঘটে চলেছে এই অমানবিকতা। এমনকি করোনাকালেও থামছে না! এটা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল মর্মান্তিকভাবে। এসব নিয়ে আমি অনেক লেখাও লিখেছি। ১০-১২ বছরের পত্রিকার কাটিং সংগ্রহ করেছি। সেগুলোর ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশের নারী’ নামে একটা বইয়ের কাজ শুরু করেছি। আরো কিছু তথ্যের জন্য কাজটা আটকে আছে। তবে চেষ্টা করছি মৃত্যুর আগে বইটা শেষ করে যাওয়ার। নারীর প্রতি এই অমানবিকতা দেখে আমার বুকে খুব রক্তক্ষরণ হয়।

করোনার কারণে আপনার চেনা পৃথিবীর কতটা বদল ঘটেছে? জবাবে বিশিষ্ট এই চিন্তাবিদ বললেন, বদল হয়েছে তো বটেই। মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ এসব ক্ষেত্রে নীতি-নৈতিকতাসহ সবদিক থেকে বিরাট পরিবর্তন হয়েছে। দুর্যোগে, দুর্ভোগে সহমর্মিতার হাত বাড়ানো তুলনামূলকভাবে অভাব দেখছি এই সময়টায়। এমনকি সরকার ত্রাণ বিতরণ করছেন। বাধ্যতামূলকভাবেই করছেন। এটা নিঃসন্দেহে ভালো কাজ করছে। সেখানেও চুরি! চালও আত্মসাৎ করা হচ্ছে। আমাদের সামাজিক মূল্যবোধগুলো কতটা অধঃপতন হয়েছে, এটাও আমাদের শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে করোনা। যারা এই শিক্ষা গ্রহণ করবেন তারা করবেন, যারা করবেন না তাদের জন্যও মূল্যবোধহীনতাগুলোকে চিহ্নিত করে দিয়ে যাচ্ছে করোনা। তবে পরিবেশটা ভিন্ন রকমও লাগছে। পাখির ডাক শুনতে পাচ্ছি, আকাশে বিমানের ঘনঘটা নেই। বাসের চিৎকার নেই। শান্ত পরিবেশ।

বাংলাদেশ কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে মনে হয়? আহমদ রফিক দৃঢ় প্রত্যয়ে বলেন, অবশ্যই বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। তা না হলে এই জাতি শেষ হয়ে যাবে। ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। কিছু ভুল-ভ্রান্তি আছে, তবু এসব কাটিয়ে সবাই মিলে চেষ্টা করতে হবে। এখন তো সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। এমন পরিপ্রেক্ষিতে সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারকে অবশ্যই হার্ডলাইনে যেতে হবে। আমার বিবেচনায় হার্ডলাইন না নিলে এটা বন্ধ করা যাবে না। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেছিলেন, ছুটি দিলাম। কিন্তু ছুটিতে কেউ বাড়ি যাবেন না। তার কথাটা কেউ শুনল? কথা না শুনলে এই জাতিকে কে বাঁচাবে?

এসআর