শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা

আগের সংবাদ

তামাক পণ্য উৎপাদন-বিপণন বন্ধ চায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

পরের সংবাদ

ঈদ বাজার

ডাবল সেঞ্চুরির পথে ফার্মের মুরগির দাম

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২০, ২০২০ , ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ

কয়েকদিনের ব্যবধানে ফার্মের মুরগির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। লকডাউনের সময় ১১০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া ফার্মের মুরগির দাম এখন ১৮০ টাকা ছাড়িয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফার্মের মুরগির দাম ঈদের আগে ২০০ টাকা হতে পারে। মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে ১০ দিনের ব্যবধানে পোল্ট্রি মুরগির দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে কেজি ১৮০ টাকা ছুঁয়েছে। খুচরার পাশাপাশি ফার্মেও পোল্ট্রি মুরগির দাম বেড়েছে। কয়েক দফা দাম বেড়ে এখন ফার্মে দ্বিগুণের বেশি দামে পোল্ট্রি মুরগি বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশ করোনা মহামারি শুরু হলে পোল্ট্রি মুরগির চাহিদা ব্যাপক হারে কমে যায়। ফলে দামও কমে। করোনার আগে ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পোল্ট্রি করোনার শুরুতে ১১০ টাকায় নেমে আসে। তবে রোজার শুরুতে কিছুটা দাম বাড়ে। এতে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হতে থাকে পোল্ট্রি মুরগি। বেশ কিছুদিন এই দাম স্থির থাকার পর চলতি মাসের ৮ তারিখে এক লাফে পোল্ট্রির দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা হয় যায়। এরপর ১২ মে কিছুটা দাম কমে ১৪০ টাকায় নামে। তবে ১৫ মে আবার দাম বেড়ে কেজি ১৭০ টাকায় পৌঁছে যায়। এখন তা আরো বেড়ে ১৮০ টাকা ছুঁয়েছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারিতে পোল্ট্রি মুরগির দাম যে হারে বাড়ছে তাতে ঈদের আগে হয়তো কেজি ২০০ টাকা হয়ে যাবে। কারণ এখন গরু ও খাসির মাংসের অনেক দাম। স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষে গরু ও খাসির মাংস কিনে খাওয়া সম্ভব না। ফলে ঈদের দুই-তিনদিন আগে পোল্ট্রি মুরগির চাহিদা আরো বাড়বে।
উৎপাদকরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের শুরুতে ব্রয়লার মুরগির চাহিদা ব্যাপক হারে কমে যায়। এতে ফার্ম মালিকরা লোকসানে কম দামে মুরগি বিক্রি করেন। যে কারণে তারা নতুন বাচ্চা উৎপাদনে যাননি। আগের যে বাচ্চা ছিল এখন সেই বাচ্চা বড় করে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে ব্রয়লার মুরগির সরবরাহ কমেছে। এছাড়া লকডাউন কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। এতে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া অনেকে ঢাকায় ফিরে এসেছেন। সেই সঙ্গে মানুষের বাইরে বের হওয়ার হার বেড়েছে এবং
বাজারে কেনাকাটার পরিমাণ বেড়েছ। এতে পোল্ট্রি মুরগির চাহিদাও বেড়েছে। মূলত এ কারণেই এখন পোল্ট্রি মুরগি দাম বেড়েছে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের ব্যবধানে পোল্ট্রি মুরগির দাম ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়ে কেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা হয়েছে। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা।
যাত্রাবাড়ীর মুরগি ব্যবসায়ী মন্টু বলেন, এখন প্রায় প্রতিদিনই পোল্ট্রি মুরগির দাম বাড়ছে। কিছুদিন আগে ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি করা পোল্ট্রি মুরগি এখন ১৭০ টাকা হয়েছে। যে হারে দাম বাড়ছে তাতে ঈদের আগে হয়তো ২০০ টাকা কেজি হয়ে যাবে। ঈদের দিন সবাই মাংস-ভাত খেতে চায়। ফলে ঈদের আগে মাংসের চাহিদা বেশ বেড়ে যায়। কিন্তু এখন গরুর মাংসের কেজি ৬০০ টাকা এবং খাসির মাংসের কেজি ৯০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে এই দুর্দিনে এত দাম দিয়ে মাংস খাওয়া সম্ভব না। সুতরাং তারা পোল্ট্রি মুরগিই কিনবেন। ফলে সামনে পোল্ট্রির চাহিদা আর বেড়ে যাবে এবং দামও বাড়বে।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের নেতারা বলছেন, করোনার কারণে ব্রয়লার মুরগির দাম ব্যাপক হারে কমে যায়। ফার্ম থেকে লোকসানে মুরগি বিক্রি করতে হয়েছে। ফার্মে ব্রয়লার মুরগির কেজি ৬০ টাকাতেও বিক্রি করতে হয়েছে। এখন ফার্মে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা। আর বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা পিস, যা এক সময় ১০ টাকা নেমেছিল। করোনার কারণে অনেক ফার্ম বন্ধ হয়ে গেছে। লোকসানের কারণে ফার্ম মালিকরা নতুন করে বাচ্চা তুলতে পারেননি। যার কারণে দাম বেড়েছে।

এসআর