আমফানে পটুয়াখালীতে নিহত ২

আগের সংবাদ

করোনা পরীক্ষায় অন্তরায় অপর্যাপ্ত টেকনোলজিস্ট

পরের সংবাদ

কারখানা ভাংচুরে বিজিএমইএ-বিকেএমইএর প্রতিবাদ

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২০, ২০২০ , ১০:০৪ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে তৈরি পোশাক শিল্পখাত বিপর্যস্ত। ক্রেতারা একের পর এক ক্রয়াদেশ বাতিল করছেন। অনেক ক্রেতা দেউলিয়াও হয়ে যাচ্ছেন। ঠিক এরকম একটি স্পর্শকাতর সময়ে শ্রমিকদের সরলতার সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাদেরকে ব্যবহার করে শিল্পে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। এ আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারীরাও রয়েছেন, যারা প্রকৃত শ্রমিক নন বলে দাবি করেছেন পোশাক মালিকরা।

বুধবার (২০ মে) পোশাক মালিকদের বড় দুটি সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের হিসেব অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ডিবিএল, ওপেক্স, মেডলার, ইমপ্রেস, ভিশন, ডিজাইনটেক্স, সেনটেক্স, সিভিক এপারেলস লিঃ ও ফকির নিটওয়্যারসহ অনেক পোশাক কারখানা ভাংচুর করা হয়েছে। বেলিসিমা ও সিভিক এপারেলস লিঃ এর মালিকদেরকে সরাসরিভাবে অপদস্থও করা হয়েছে, যা একান্তভাবে অনভিপ্রেত। এসব আইন বহির্ভূত ঘটনায় বহিরাগতদেরও উস্কানি রয়েছে বলে সংগঠনদুটি মনে করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে গত ক’দিন ধরে বেতন ভাতা আন্দোলনের নামে যেভাবে পোশাক কারখানা ভাংচুর করা হচ্ছে, তাতে রপ্তানিমূখী তৈরি পোশাক শিল্পে গভীর উৎকন্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে ছোট ও মাঝারি কারখানার পাশাপাশি বড় বড় কমপ্লায়েন্ট পোশাক কারখানা, যাদের কর্মপরিবেশ ভালো, বেতন ভাতাও নিয়মিত পরিশোধ করা হয়, সেগুলোও আন্দোলনের নামে ভাংচুর করে শিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষূন্ন করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে বলে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ মনে করে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এই নৈরাজ্যজনক কর্মকান্ড বিষয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

অরাজকতা রোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করে তারা বলেন, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ মনে করে, বর্তমান সংকটময় মূহুর্তে বেতন বোনাস ইস্যুতে কারখানা ভাংচুর করার যৌক্তিকতা নেই। কারন, সরকার, মালিক ও শ্রমিক ত্রি-পক্ষীয় সিদ্ধান্তের আলোকে কারখানাগুলো সংকটের মধ্যে থেকেই আপ্রাণ চেষ্টা করে বেতন ভাতা পরিশোধ করছে। কিছু কিছু কারখানায় অবশ্য ব্যতয় ঘটছে। কারন, এই কারখানাগুলোর অনেকেরই হাতে এখন কোন কাজ নেই। তারপরও, কারখানাগুলো এ বিষয়ে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু আশঙ্কার বিষয় হলো, ত্রি-পক্ষীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা সত্ত্বেও অনেক কারখানা ভাংচুরের সম্মুক্ষীন হচ্ছে, যা শিল্পের জন্য একটি অশনি সংকেত এবং এটি ভবিষ্যতে উদ্যোক্তাদেরকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নিরুৎসাহিত করবে বলে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ মনে করে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, করোনা পরিস্থিতিতে দেশের প্রধান রপ্তানিখাত পোশাক শিল্পসহ রপ্তানিখাতের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সহজ শর্তে ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলেও অনেক উদ্যোক্তা আবেদন করেও এ ঋণ পাননি। ঋণ আবেদনের জন্য গতকাল (বুধবার) পর্যন্ত বিজিএমইএ এর সনদ নিয়েছে ১ হাজার ৩৭৭টি কারখানা এবং বিকেএমইএ এর কাছ থেকে সনদ নিয়েছে ৫১৯টি কারখানা।

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ জাতীয় অর্থনীতি নিয়ে ছিনিমিনি খেলায় লিপ্ত দুষ্কৃতিকারীদেরকে অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে কঠিন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ ও জোর দাবি জানায়।