করোনা ভাইরাস : সরকার ও গণমনস্তত্ত্ব

আগের সংবাদ

চিকিৎসক নার্সদের জন্য খেলবে ইউরোপের তিন ক্লাব

পরের সংবাদ

ঘরমুখো মানুষের ঢল

সরকারকে কঠোর হতে হবে

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১৯, ২০২০ , ১১:১০ অপরাহ্ণ

করোনার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ঘোষিত লকডাউন বেশির ভাগ মানুষই মানছে না। প্রতিনিয়ত ঘরে থাকার সরকারি নির্দেশনা অমান্য করছে সাধারণ মানুষ। নানা নিষেধাজ্ঞার পরও ঝুঁকি নিয়েই ঈদ সামনে রেখে গ্রামের বাড়ি যেতে মানুষের মধ্যে যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। মরিয়া এই যাত্রীদের স্রোত সামাল দিতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ঘরমুখো মানুষের এই ঢল বন্ধ করতে না পারলে ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। করোনা জেঁকে বসায় গত ২৬ মার্চ থেকে চলছে সাধারণ ছুটি। বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। ঈদ সামনে রেখে রাজধানী ঢাকায় ঢুকতে ও বের হতে কড়াকড়ি আরোপের কথা বলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু নানাভাবে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। খবরে প্রকাশ, গণপরিবহন না চললেও অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস আর প্রাইভেটকার ভাড়া করে মানুষ ছুটছে গ্রামের দিকে। মধ্যরাতে পিকআপ ভ্যানে ঢাকা ছাড়ছে বহু মানুষ। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথে ঘরমুখী যাত্রীদের ভিড় বাড়ছেই। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে বিভিন্ন পরিবহনে শিমুলিয়া ঘাটে এসে ফেরিতে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে তারা। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকায় করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ছে। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬০ জেলায় করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ নতুন করে সংক্রমিত হচ্ছে। সব শ্রেণির মানুষের পাশাপাশি ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সম্মুখ সারির করোনাযোদ্ধারাও ব্যাপক হারে করোনা সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন। এরপরও মানুষের মধ্যে তা যেন কোনো প্রভাব ফেলতে পারছে না। সমাজের শ্রমজীবী মানুষ সামাজিক দূরত্ব মানছে না বা না মানতে বাধ্য হচ্ছে মোটা দাগে পেটের দায়ে, জীবিকার চরিত্রগত কারণে এবং অন্নসংস্থানের বাসনায় কিন্তু সমাজের মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের কিছু মানুষ সামাজিক দূরত্ব কেন মানছে না, সেটাও বিবেচনায় নেয়া জরুরি। সরকার পূর্বে ঘোষণা দিয়েছে এবার ঈদে লোকজনকে ঢাকায় আবস্থান করতে। পরিবারের অন্য সদস্যদের সুস্থ রাখতে এই অনুরোধ করা হয়েছে। এখন আমরা তার উল্টোচিত্র দেখছি। আমাদের সামাজিক দূরত্ব মেনে না চলার অন্যতম কারণ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না থাকা। অর্থনৈতিক সমস্যার চেয়েও বড় সমস্যা অসচেতনতা। নিজেরা যেমন সচেতন না তেমনিভাবে আরেকজনকে বিপদে ফেলছি। বারবার সরকার বলছে, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হলে সবাইকে ঘরে অবস্থান করতে হবে। ঘরে থাকুন, নিজে সুস্থ থাকুন এবং দেশের মানুষকে সুস্থ রাখুন করোনা প্রাদুর্ভাব ঠেকানোর এটাই হলো মূলমন্ত্র। আমরা মনে করি, লকডাউনকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণকে বুঝানো হয়েছে। এখন আর বুঝানোর সময় নেই। সবাইকে ঘরে রাখতে প্রয়োজনে এখন কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আমার, আপনার, সবার একটুখানি সচেতনতাই পারে এ ভাইরাসের কবল থেকে মুক্ত করতে। আসুন, আমরা সবাই মিলে সচেতন হই, অন্যদেরও সচেতন করে গড়ে তুলি।