চিকিৎসক নার্সদের জন্য খেলবে ইউরোপের তিন ক্লাব

আগের সংবাদ

আমফান: পশ্চিমবঙ্গ-ওডিশ্যা প্রদেশে ভারী বর্ষণ

পরের সংবাদ

করোনা মোকাবিলায় ম্যালেরিয়া-ইবোলা-উকুন-খোসপাঁচড়ার ওষুধ

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১৯, ২০২০ , ১১:২৭ অপরাহ্ণ

ইবোলা, ম্যালেরিয়া থেকে শুরু করে উকুন ও খোসপাসরা নাশক ওষুধকে করোনা মোকাবিলায় কার্যকরি বলে দাবি করছেন দেশ ও বিদেশের চিকিৎসকরা। এখন পর্যন্ত করোনা রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হওয়া ওষুধগুলো হলো রেমডেসিভির, ফেভিপিরাভির, লপিনাভির, রিটোনাভির, ক্লোরোকুইন, ডক্সিসাইক্লিন, আইভারমেকটিন।

এসব ওষুধে কিছু রোগী হয়তো সেরে উঠছেন। তবে প্রাণঘাতি এই ভাইরাসকে জব্দ করার মত কোন ওষুধ এখনো পর্যন্ত বড় বড় দেশগুলোও আবিস্কার করতে পারেনি। তবে এরই মধ্যে বাংলাদেশের এক দল চিকিৎসক করোনার ওষুধ আবিষ্কার করেছেন বলে দাবি করেন। শুধু কি তাই ‘আরসেনিক এলবাম -৩০’ নামক হোমিও ওষুধেও নাকি কাবু হবে করোনা ভাইরাস। কিন্তু এখনো পর্যন্ত বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা কোন ওষুধকেই কার্যকরি বলে ঘোষনা দেয়নি।

সম্প্রতি দেশে ‘চারদিনে মাত্র ৯০ টাকায় করোনা মুক্ত’ এমন একটি খবর বেশ আলোচনা তৈরি করেছে। বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. তারেক আলমের এমন বক্তব্যে গবেষক ও ফার্মাসিস্টদের হতবাকই করেছে।

ডা. তারেক আলম যে পদ্ধতিতে করোনা থেকে রক্ষার কথা বলছেন এর আগে এপ্রিলে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের একদল গবেষকও ওই একই কথা বলেছিলেন। ডা. তারেক আলম জানান, যে ওষুধ উকুন বা খোস পাঁচড়ার জন্য ব্যবহার করা হয়, সেই ওষুধ অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের একদল গবেষক ইঁদুরের টিস্যুতে পরীক্ষা করেন। তাতে দেখা যায়-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভাইরাসটি চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার গুণ কমে যায়। এই ওষুধ ৪০ বছর ধরে এফডি এপ্রুভ। এটা দেখার পর তা বাংলাদেশ ব্যবহার করার চিন্তা করেন। বাংলাদেশ মেডিকেলের দুই তিনজন চিকিৎসকের করোনা পজেটিভ হলে তাদের দুটি পরামর্শ দেয়া হয়। এক হাইডোঅক্সিন ও অ্যজিথ্রোমাইসিন খাওয়া। ওই চিকিৎসকদের সম্মতিতে ডক্সিসাইক্লিন ও আইভারমেকটিন দেয়া হয়। চার দিন পর তাদের পরীক্ষা করা হলে করোনা নেগেটিভ আসে এবং তাদের ক্ষেত্রে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়নি। এরপর হাসপাতালের করোনা আক্রন্ত কয়েকজন চিকিৎসকের উপরও তারা এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হলে তারাও এর সুফল পেয়েছেন বলে জানান ডা. তারেক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা মোকাবেলায় এখনো পর্যন্ত কোন ওষুধ পুরোপুরি কার্যকর তা প্রমাণিত হয়নি। সীমিত পরিসরে কোন এক দেশে যে ওষুধকে কার্যকরি বলছে অন্যদেশ বলছে তা কার্যকরি নয়। তাই সব দিক বিবেচনা করে কোন ওষুধকে কার্যকর বলে বিভ্রান্তি তৈরি করা সঠিক নয়। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে ভুল বার্তা যাচ্ছে।

ফার্মাসিস্ট ও গবেষক ড. মুনীরউদ্দিন আহমদ। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, বিশে^ করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই আমরা বিভিন্ন ওষুধের নাম শুনছি। কিন্তু শতভাগ কার্যকারিতা এখনো পর্যন্ত কোন ওষুধের পাওয়া যায়নি। তাই যেসব ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই হচ্ছে তা একেরপর এক বাদের তালিকায় চলে যাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সাইদুর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, বিজ্ঞান সম্মত গবেষণায় ভিত্তিতে একটি ওষুধকে একটি রোগে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসায় সে ধরণের কোন শক্তিশালি গবেষণা ফলাফল জানা যায়নি। এখনো পর্যন্ত অধিকাংশ গবেষণা হয়েছে স্বল্প পরিসরে। আবার এসব ফলাফল সাংঘর্ষিকও। বিশে^র ৫০টি দেশে বড় পরিসরে গবেষণার কাজ করছে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা। যাকে বলা হচ্ছে সলিডারিটি। এর ফলাফল পেতে এরো দুই তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে। এর আগে কোন ওষুধ কার্যকর এ তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করলে হিতে বিপরিতই হবে।

এমএইচ