যুদ্ধাহত সুন্দরবন

আগের সংবাদ

করোনাকালের বাজেটে বাড়ছে কর সুবিধা

পরের সংবাদ

ঈদ ছুটির আগেই ঘরে ফেরার হিড়িক

মুহাম্মদ রুহুল আমিন 

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১৮, ২০২০ , ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ

ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ায় কড়াকড়ি

 চলমান করোনা পরিস্থিতিতে ঈদযাত্রা বন্ধ করতে ঈদের তিনদিন আগে থেকেই সবধরনের যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। তখন আর যাওয়া যাবে না- এই আশঙ্কায় সময়ের অনেক আগে থেকেই শেকড়ের টানে ঘরে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। সড়ক-মহাসড়কে হরেক যানবাহনের চলাচল, ফেরিঘাটে উপচে পড়া ভিড়। কেউ ঢাকায় যাচ্ছেন। আবার কেউ আসছেন। বাস, ট্রেন বন্ধ থাকলেও পন্যবাহী ট্রাক, লরি, পিকাপ, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স, প্রাইভেট কার এমনকি মোটরসাইকেল কিংবা ভ্যানে করেও যে যার মতো করে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। সরকারি কোনো বিধিনিষেধও মানছেন না তারা। তোয়াক্কা নেই স্বাস্থ্য সতর্কতার। এরফলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ সারাদেশে আরো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপায় না দেখে নির্ধারিত সময়ের আগেই জরুরি কোনো প্রয়োজন ছাড়া ঢাকা থেকে বের হওয়া ও প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
কাঁঠালবাড়ির ফেরিঘাটে রবিবার (১৭ মে) সকাল থেকেই দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। প্রতিটি ফেরিতে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া হাজার হাজার মানুষ একরকম গাদাগাদি করেই পার হয়েছেন পদ্মা। মানা হচ্ছে না কোনোপ্রকার শারীরিক দূরত্ব। তবে ফেরিতে হাজার হাজার মানুষের এভাবে ঝুঁকি নিয়ে পারাপারেও কোনোপ্রকার তৎপরতা দেখা যায়নি আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের। শুধু তাই নয়, দক্ষিণবঙ্গ থেকেও মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে দলে দলে।
সড়কেও দেখা গেছে মানুষের ব্যাপক চলাচল। যে যেভাবে পারছেন- মালবাহী ট্রাক কিংবা অন্যান্য যারবাহনে করে চুপিসারে ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন। কেউ আবার পায়ে হেঁটেই রওনা হচ্ছেন গন্তব্যে। তবে এসব মানুষ বেশিরভাগই পথে নামছেন রাতের অন্ধকারে। কেউ ইফতারের পর; আবার অনেকেই সেহেরির পরপরই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেন। তাদের আটকাতে পুলিশেরও তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি। যদিও কিছু কিছু জায়গায় ঘরমুখো মানুষকে পুলিশের বাধায় পড়তে হয়, তখন তারা নানা অজুহাত দেখাতে শুরু করেন।
এদিকে গণপরিবহন বন্ধে সরকারি সিদ্ধান্ত থাকলেও উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় তা মানা হচ্ছে না। ফলে রাতের আঁধারে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় গাড়িতে করে ঘরে ফিরছেন মানুষ। এক্ষেত্রেও মানা হচ্ছে না কোনো সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি। গাড়ি চললেও খুব কম সংখ্যক হওয়ায় বেশি মানুষ অনেকটা গাদাগাদি করেই এসব গাড়িতে আরোহণ করেন।
শুধু যে ঢাকা ছেড়েই মানুষ গ্রামে যাচ্ছেন, তা নয়। গ্রাম বা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ নানা অজুহাতে ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ পণ্যবাহী ট্রাক, লরি, অ্যাম্বুলেন্স, ভ্যান বা ব্যক্তিগত প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল আবার অনেকেই পায়ে হেঁটেও ঢাকায় ঢুকছেন। তাদের ধারণা ঈদের পরপরই লকডাউন উঠে যাবে। সবকিছুই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। অফিস-আদালত, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সব আগের মতোই চালু হবে। খুলে যাবে সবধরনের যানবাহন। এসব ব্যক্তির অনেকেই লকডাউনের শুরুতে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে গেছেন। কয়েকদফা ছুটির মেয়াদ বাড়ানোয় তারা আর ঢাকায় ফিরতে পারেননি। ফলে ঈদের আগেই রাস্তা-ঘাট ফাঁকা পেয়ে ঢাকায় ফেরার সুযোগ হাতছাড়া করছেন না। তাই ঢাকায় এসে কয়েকদিন বিশ্রাম বা কোয়ারেন্টাইনে থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরবেন।
এভাবে ঢাকা থেকে ঘরমুখী ও গ্রাম থেকে ঢাকামুখী মানুষের ঢল কোনোভাবেই সামলানো যাচ্ছে না। পুলিশকেও এজন্য বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। পুলিশের সিদ্ধান্ত ছিল- ঈদকে কেন্দ্র করে ঈদের আগে যেন মানুষ এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বা ঢাকা থেকে ঘরে ফিরতে না পারে। সে লক্ষ্যে ২০ মে থেকে সবধরনের গণপরিবহনের ঢাকায় প্রবেশ ও ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে পুলিশ। কিন্তু তার আগেই মানুষ ঢাকা ছাড়তে ও ঢাকায় প্রবেশ শুরু করলে পুলিশ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে গতকাল রবিবার থেকেই ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করে। গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনের (ডিএমপির) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
ডিএমপির জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রবিবার সকাল থেকেই ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে নজরদারি আরো কঠোর করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঢাকা শহরে প্রবেশ বা ঢাকা শহর থেকে বাইরে যেতে পারবেন না। জরুরি সেবা ও পণ্য সরবরাহ কাজে নিয়োজিত যানবাহনসমূহ এই নিয়ন্ত্রণের আওতামুক্ত থাকবে। যথোপযুক্ত কারণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি যানবাহন চালনা করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই নিয়ন্ত্রিত চলাচলের ক্ষেত্রে নাগরিকদের সর্বাত্মক সহযোগিতাও কামনা করে ডিএমপি।

এসআর