লকডাউন ছেড়ে বারে অস্ট্রেলিয়ানরা

আগের সংবাদ
বলিউড

বলিউডের নতুন ধারা অনলাইনেই মুক্তি

পরের সংবাদ

মানুষের দৃষ্টি শুধুই নিজের দিকে

নূর-ই আলম সিদ্দিকী

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১৫, ২০২০ , ২:১৬ অপরাহ্ণ

করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে বর্তমানে বড় অদ্ভুত রূপ নিয়েছে পৃথিবী। কয়েক মাসের ব্যবধানে বদলে গেছে মানুষের তৈরি পরিবার ও সমাজ। হারিয়েছে মানুষের সম্প্রীতি। এবং দিনে দিনে লুপ্ত হচ্ছে মানবের একান্ত মমত্ববোধ। ভেঙে পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। দুর্ভিক্ষের অশনি সংকেতের বেহাগ বোধহয় বেশি দূরে নয়। ‘অভিশাপ করোনা’ যদি তুমি চলে না যাও। তোমার বিষের ক্রিয়ায় এর মধ্যে পৃথিবীতে নেমেছে মৃত্যুর ঢল। পরপারে চলে যাচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। আক্রান্তের পরিসংখ্যানে শিহরিত আজ সারা দুনিয়া। সামনে আরো কত প্রাণ যাবে একমাত্র মহান ¯্রষ্টা তা জানেন। মৃত্যু আর সংক্রমণের এ মিছিল দীর্ঘ হবে অনুমান করতে কষ্টের সায়রে ডুবে মন। পিশাচ করোনা, তুমি মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত জীবনব্যবস্থা তথা রীতি-নীতিকে সজোরে টান মেরেছো। তোমার বিক্ষুব্ধ ঝড়ে পৃথিবীর সবকিছু উলট-পালট হয়ে গেছে এর মধ্যে। ফলে অদেখা এক পৃথিবীর মুখোমুখি হচ্ছে মানুষ। অচেনা জীবনাচারের গহ্বরে পতিত হতে চলেছে গোটা মানবসমাজ। করোনা, তোমার ছোবল বড় হিংস্র ও নির্মম। তোমার দহনে আজ কল্পনাতীত বিড়ম্বনায় জরজর মানবকুল। দিনের পর দিন তারা পরিণত হচ্ছে স্বার্থপর কীটে। তোমার যন্ত্রণায় নিজের জন্মধাত্রী মাকে মানুষ আজ ফেলে দিচ্ছে জঙ্গলে। প্রয়োজন নেই তার মা-বাবা, ভাই-বোনের। কাছে যেতে ভয় তার প্রিয়জনের শেষ যাত্রায়। আজ মানুষের দৃষ্টি শুধুই নিজের দিকে। করোনা, তুমি দেখছো তোমার করাল থাবার ভেতরের মানুষগুলোকে। তারা আজ কতখানি নাস্তানাবুদ ও টালমাটাল। বিপদ আগে এসেছে তাদের জীবনে। অথচ এতখানি বেসামাল হয়নি কখনো পৃথিবীর মানুষ। করোনা, তোমার দংশনে মানুষের ভেতরের অশুভ বোধ তীব্র গতিতে লকলকিয়ে উঠছে চারদিকে। সর্বত্র মানবতার ক্রন্দন। এই নির্মম ও জঘন্য পরিণতির শতভাগ দায় তোমার করোনা। করোনা তুমি মরণ কামড় বসিয়েছো গোটা বিশ্বে এক সঙ্গে। তুমি সদ্যভ‚মিষ্ঠ শিশু-তরুণ-বৃদ্ধকে চেনো না, তুমি বিদ্বান বোঝ না, চিকিৎসক বোঝ না, তুমি ধনী-গরিব বোঝ না, সবল-দুর্বল বোঝ না, উন্নত-অনুন্নত বোঝ না, উন্নয়নশীল বোঝ না। তুমি ইউরোপ বোঝ না, আমেরিকা বোঝ না। চীনকে তুমি পরোয়া করো না। ইংল্যান্ড তোমার কাছে ছোট্ট বালক। রাশিয়াকে তুমি নিয়েছো মুঠোয়। তুমি পৃথিবীর সব পরাশক্তিধর রাষ্ট্রকে একঘাটে জল খাইয়েছো। তোমার ভয়ঙ্কর শক্তিকে দেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলতে বাধ্য হয়েছে, ‘তুমি ব্রিলিয়ান্ট এবং জিনিয়াস’। তোমার অসাধারণ কর্মক্ষমতার নৈপুণ্য দেখে ব্যথিত চিত্তে আমার বলতে ইচ্ছে করে, ‘করোনা-তুমি যে তোমারে তুলনা।’ নিষ্ঠুর ঘাতক করোনা। তুমি বিশ্বের অর্থনীতির সচল চাকাকে নিস্তব্ধ করে দিয়েছো। তুমি মুক্ত বিচরণের মানুষকে বন্দি করেছো ঘরে। মাত্র চার মাসে তোমার ভয়ানক তাণ্ডবে মানুষের চলার পথ হয়েছে তছনছ। তোমার ছোবলে সৃষ্টি হয়েছে সঙ্কট। আর এই সঙ্কট থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্ভাবনার দ্বারটি হয়েছে উন্মুক্ত। সৃষ্টির আদিকাল হতে মানুষ লড়াই করেছে ক্ষুধার সঙ্গে। মানুষের জীবন নির্বাহের জন্য মৌলিক এই ক্ষুধা তথা অভাব থেকে মুক্তি পেয়ে মানুষকে আজকের সময়ে আসতে সময় লেগেছে কয়েক লাখ বছর। অভিশপ্ত করোনা, তোমার বীভৎস সংক্রমণ আমাদের আবার সেই করুণ সময়ে নিয়ে যেতে চায়। আর সেখানেই সভ্য মানুষের ভয়। কারণ এই সভ্য মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি পরাজিত তার অভাবের কাছে। অভাব নামক এই দানব একবার ঘাড়ে ভর করলে মানুষের বিকৃত কামনা-বাসনা ও অশুচি মানসিকতার মাত্রা বেশি করে বেড়ে যায়। ক্ষুন্নিবৃত্তি মানুষের নৈতিকভিত্তিকে করে দেয় শিথিল। মানুষ তখন দিনের পর দিন দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে হারিয়ে ফেলে নিজের মর্যাদাবোধ, রুচিবোধ এমনকি ন্যূনতম সৌন্দর্যবোধটুকুও। অবশেষে তাদের অবচেতন মনে জন্ম নেয় অমানবিকতা। করোনা আমরা অমানবিক পৃথিবী চাই না। তোমার বিদায় চাই। তুমি যাও। তোমাকে আমরা ঘৃণা করি। কবি নির্মলেন্দু গুণের কথায় বলছি, ‘হে ঘৃণ্য, অদৃশ্য ঘাতক, হে মহাপাতক।’ জিয়া হায়দারের কবিতার পঙ্ক্তিকে কণ্ঠে নিয়ে চিৎকার করে শুধু তোমাকে জানাচ্ছি, ‘তোমাকে দেখলাম অনেক দিন পরে, আর যেন না দেখি তোমাকে। আর যেন না দেখি। যেন না দেখি।’

এসআর