বিসিক শিল্পনগরীতে উৎপাদিত হচ্ছে চাল

আগের সংবাদ

ইসি কর্মকর্তাদের অনলাইনে প্রশিক্ষণ

পরের সংবাদ

শ্রমিকদের মজুরি-বোনাসের দাবিতে স্কপের মানববন্ধন

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২০ , ৩:১৯ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ১২, ২০২০ , ৩:২২ অপরাহ্ণ

ঈদের আগেই শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি-বোনাস পরিশোধ এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের রেশনের ব্যবস্থা, করোনায় আক্রান্ত হলে চিকিৎসা এবং মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। প্রায় সাড়ে ৫ কোটি শ্রমিকদের পক্ষে তারা এ দাবি জানান।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি স্কপের যুগ্ম সমন্বয়কারী শ্রমিক নেতা ফজলুল হক মন্টু, জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামরুল আহসান, ট্রেড ইউনিয়ন সঙ্ঘের সাবেক সভাপতি খলিলুর রহমান, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের দপ্তর সম্পাদক সাহিদা পারভিন শিখা, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের অর্থ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন প্রমুখ।

মানববন্ধন থেকে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ নেতারা বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণে মানুষ দুর্বিষহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। করোনার বিস্তাররোধে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। আগামী ২৪ মে ঈদ উদযাপন হবে, ঈদের আগে প্রতি বছরই ঈদের বোনাস নিয়ে আমাদের মালিক গোষ্ঠী নানা ধরনের তালবাহানা শুরু করে। করোনা ভাইরাসের আক্রমণে শ্রমিকরা যখন জর্জরিত, শ্রমিকরা যখন ঠিকমতো মজুরি পাচ্ছে না তখন এই করোনা ভাইরাসকে পুঁজি করে মালিকরা ইতোমধ্যে শ্রমিকদের বোনাস না দেওয়ার তালবাহানা শুরু করেছে। অনেক মালিক অযৌক্তিকভাবে কারখানা লে-অফ ও শ্রমিক ছাঁটাই করেছে, যা শ্রম আইনের অপপ্রয়োগ। যেসব মালিক শ্রমিক ছাঁটাই করেছে ও কারখানা লে-অফকারী করেছে সেসব মালিকদের শাস্তি দিতে হবে।

নেতারা বলেন, আমরা স্কপের পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই শ্রমিকদের বোনাস নিয়ে কোনো ধরনের তালবাহানা চলবে না, ২০ রমজানের মধ্যেই শ্রমিকদের চলতি মাসের অর্ধেক মজুরি এবং বোনাস দেওয়া হবে। শ্রমিকদের বেতন বোনাস নিয়ে তালবাহানা কোনো শ্রমিক কর্মচারী মানবে না। আমরা শ্রমিকরা করোনার বিরুদ্ধে লড়াই, মজুরি আদায়ের লড়াই, শ্রমিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াই একসঙ্গে চালিয়ে যাবো।

নেতারা আরও বলেন, সাধারণ ছুটিতে কারখানা বন্ধ থাকলেও গার্মেন্টসের শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার জন্য সরকার মালিকদের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যকেজ দিয়েছে। তা সত্ত্বেও শ্রমিকদের কত শতাংশ মজুরি দেওয়া হবে তা নিয়ে বিতর্ক ও কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। যা শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও অসন্তোষ বাড়িয়ে দিচ্ছে। গার্মেন্টসের বাইরেও আছে রি-রোলিং ও স্টিল মিল শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, নৌ-যান শ্রমিক, চা-শ্রমিক, গৃহকর্মী, সেলুনকর্মী, হোটেল-রেস্তোরাঁর কর্মী, হস্তশিল্পী, ছাপা-মুদ্রণ ও বাঁধাই শ্রমিক, স্বর্ণকার, দর্জিশ্রমিক, হকার, দোকানকর্মচারীসহ অনেক খাতের শ্রমিক যার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ কোটি।

উপরোক্ত দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়িত না করলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ চরম রূপ নেওয়ার আশঙ্কা আছে যার দায়িত্ব সরকার ও মালিককে নিতে হবে বলেও মানববন্ধন থেকে বলা হয়।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়