শুভ জন্মদিন মুশফিকুর রহিম

আগের সংবাদ

শাশুড়ির মন রক্ষায় নাচলেন মিথিলা (ভিডিও)

পরের সংবাদ

এবার হজ সীমিত পরিসরে!

সারাবিশ্বের মুসলমানের অংশগ্রহণে অনিশ্চয়তা

কামরুজ্জামান খান

প্রকাশিত হয়েছে: মে ৯, ২০২০ , ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ

মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় জমায়েত হজের মাত্র দুই মাস বাকি থাকলেও এর আয়োজন থমকে আছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে এ বছর হজ পালন নিয়ে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। সৌদি সরকার এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ওমরাহ কার্যক্রম স্থগিত করেছে। সৌদি আরবে অবস্থানরত বিদেশিদের নিজ দেশে ফেরানো হচ্ছে। বন্ধ রয়েছে কাবা শরীফ তাওয়াফ জামাতে নামাজ আদায়। মসজিদে নববীও বন্ধ। কিছু এলাকায় শিথিল হলেও কারফিউ জারি রয়েছে দেশটিতে। এ অবস্থায় করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বাংলাদেশসহ সারা বিশ^ থেকে এ বছর হজে লোক পাঠানো অনেকটা অনিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সৌদি সরকার নিজ দেশের মানুষ নিয়ে সীমিত পরিসরে হজ কার্যক্রম চালাবে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ গতকাল বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদককে বলেছেন, হজ অবশ্যই হবে। সীমিত পরিসরে হলেও হবে। করোনার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনে সৌদি আরবে নিজ দেশের লোকদের অংশগ্রহণে হলেও হজ করবে। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি উত্তরণ হলেও সারাবিশ্ব তাদের নির্ধারিত কোটায় লোক পাঠাতে সক্ষম হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনা সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। হজের সঙ্গে অনেক কার্যক্রম সম্পৃক্ত। এখন সবকিছু নির্ভর করছে পরিবেশ পরিস্থিতির উপর।

হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেছেন, হজে লোক পাঠাতে বাংলাদেশ সরকার ও হাবের সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। সার্বিক অবস্থার ওপর সবকিছু নির্ভর করছে জানিয়ে তিনি বলেন, সৌদি সরকার যে সিদ্ধান্ত নিবে তার ওপর সবকিছু নির্ভর করছে। তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সারা বিশ্ব।

জানা গেছে, চলতি বছর পবিত্র হজ গমনেচ্ছু যাত্রীদের নিবন্ধনের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের শেষবারের মতো বেঁধে দেয়া নির্ধারিত সময়সীমা ৩০ এপ্রিল শেষ হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৪৫৭ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬১ হাজার ১৩৭ জনসহ মোট ৬৪ হাজার ৫৯৪ জন নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। ফলে সৌদি সরকার কর্তৃক বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত এক লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটা সম্পূর্ণ পূরণ হলো না। যোগবিয়োগের হিসাবে ৭২ হাজার ৬০৪ জনের কোটা অপূর্ণই রয়ে গেল। গত ১৬ এপ্রিল ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে হজ গমনেচ্ছুদের নিবন্ধনের জন্য শেষবারের মতো ৩০ এপ্রিলের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস প্রকোপের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চলতি বছর পবিত্র হজপালন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরির ফলে হজ গমনেচ্ছুদের নিবন্ধনের আগ্রহে ভাটা পড়ে। গত ১ মার্চ থেকে চলতি বছরের হজযাত্রী নিবন্ধন শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে হজ নিবন্ধনের সময়সীমা ১৫ মার্চ পর্যন্ত বেঁধে দেয়া হয়েছিল। এরপর তা ২৫ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়। সর্বশেষ ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত শেষবারের মতো সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়। এরপর করোনা পরিস্থিতির কারণে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তালিকা আর দীর্ঘ হয়নি। তবে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ নিয়ে ভেতরে ভেতরে কাজ করছে। তবে এখনো বাড়িভাড়া করাসহ আনুষঙ্গিক অনেক কাজই ঝুলে আছে অনিশ্চয়তার কারণে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী ড. সালেহ বিন তাহের বিন তাজ তাদেরকে হজ চলাকালীন সৌদি আরবে হাজীদের আবাসনের আগাম বুকিং, ক্যাটারিং সার্ভিস ও বিমান টিকিট কাটার কার্যক্রম স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। সৌদি সরকারের এমন নির্দেশনা হাব সদস্যদের জানিয়ে তা মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় বার্ষিক ধর্মীয় জমায়েত হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আগামী জুলাই মাসের শেষ দিকে। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ওমরাহ স্থগিত করা হয়। এই পদক্ষেপের সময়ই এ বছরের হজ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ১৯১৮ সালের ফ্লু মহামারির পর এবার প্রথমবারের মতো বন্ধ করে দেয়া হয় মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র দুই শহর মক্কা ও মদিনা। অবশ্য গত ২০০ বছরের মধ্যে কখনোই বার্ষিক হজ বাতিল করা হয়নি। তবে এবার করোনাজনিত সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরো কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। সর্বশেষ ১৭৯৮ সালে বাতিল হয়েছিল হজের আনুষ্ঠানিকতা। এ ছাড়া মহামারি ও যুদ্ধের কারণে আরো প্রায় ৪০ বার এই বার্ষিক জমায়েত বাতিল হয়েছে। এ বছর সৌদি আরবে করোনা আক্রান্ত হয়েছে কয়েক লাখ লোক। মারা গেছে শতাধিক মানুষ।
উল্লেখ্য, চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৭ হাজার ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ২০ হাজার ১৯৮ জনসহ সর্বমোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জনের হজে যাওয়ার কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত কোটা পূর্ণ হয়নি।

নকি