পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুজব ছড়িয়ে গ্রেপ্তার ২

আগের সংবাদ

বাংলা ভাষায় কোভিড ১৯ প্রশিক্ষণের কোর্স

পরের সংবাদ

লকডাউন জীবন

সখের কাজে কাটছে সময়

সেবিকা দেবনাথ

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১, ২০২০ , ৪:১৯ অপরাহ্ণ

প্রতিদিন ভোরে নামাজ শেষে প্রাতঃভ্রমণে বের হতেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা জিয়াউল হক। বেইলি রোডের বাসা থেকে হেঁটে চলে যেতেন রমনা পার্কে। সেখানে কাটাতেন ঘণ্টাখানেক সময়। ওই সময়টা বেশ ভালোই কাটতো তার। সাবেক সহকর্মী অনেকের সঙ্গেই দেখা হতো। পার্কের সামনে বসা টাটকা শাক সবজি নিয়ে ফিরতেন বাসায়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে এসব কাজ আর করা হয় না জিয়াউল হকের। প্রাতঃভ্রমণের কাজটা এখন সারছেন বাসার ছাদে।

ছাদের বাগানে টমেটো

করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পেয়েছে বেশ লম্বা ছুটি। এই ছুটিতে ঢাকার বাসায় এসেছেন পলাশ শিল্পাঞ্চল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক রাখী দেবনাথ। ছাদের টবে লাগানোর গাছগুলোর যত্ন করে সময় কাটছে তার। যত্নআত্তি পেয়ে গাছগুলোও বেশ ডালাপালা গজিয়েছে।

লক্ষ্মীবাজার ঘি পট্টি এলাকার বাসিন্দা হিমেল। ছোট বেলা থেকেই কবুতর পোষার শখ তার। এক-দুই করে তার এখন ৩০ জোড়া কবুতর। বাসার ছাদে ওদের জন্য সুন্দর একটা ঘর বানিয়েছে সে। কলেজ, প্রাইভেট, বন্ধুদের সাথে আড্ডা এসব কারণে সকাল-সন্ধ্যায় পোষা কবুতরদের খুব বেশি একটা সময় দিতে পারতো না হিমেল। তবে এখন তার দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে ওদের সাথে।

আগে থেকেই হিমেলের ভাষা বুঝতো ওর পোষা কবুতরগুলো। এখন যেনো আরো বেশি ভালো বুঝতে পারে। সকালে ওদের আকাশে উড়ানো, খাবার দেয়া, বেলা শেষে ডেকে ডেকে ওদের আবার ঘরে ফেরানো এসব করে করোনায় ঘরবন্দি জীবনের সময়টা বেশ উপভোগই করছে হিমেল।

এই করোনা পরিস্থিতিতে জিয়াউল, রাখী ও হিমেলের মতো অনেকেরই সকাল-বিকেলের বেশ খানিকটা সময় কাটছে বাসা-বাড়ির ছাদে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ভবনের ছাদে তাই দেখা যায় বিভিন্ন বয়সী মানুষ। পাড়ার মোড়ে যেসব ছেলেরা বিকাল বেলায় আড্ডা দিতো তারাও ওই সময়টায় উঠছেন ছাদে। পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকার আকাশে দেখা যাচ্ছে ঘুড়ি ওড়তে। আর যাদের ছাদে যাবার সুযোগ কম তারা বই পড়ে, গান শুনে। সময়ের অভাবে যেসব ক্রিকেট ম্যাচ কিংবা ভালো কোনো ছায়াছবি দেখার সুযোগ হয়নি, এখন অনেকে তা ইউটিউবে দেখে নিচ্ছেন।

এক সময় হাতের কাজের নেশা ছিলো। কিন্তু চাকরি-সংসার সামলে সেই কাজে সময় দিতে পারছিলেন না, তারা এই সুযোগটাকে কাজে লাগাচ্ছেন। অনেকে নতুন রেসিপি রান্না করে ছবি তুলে পোস্ট দিচ্ছেন ফেসবুকে। অনেকে ছোট বেলকনিতে রাখা টবেই করেছেন সবজির চাষ। কাজের ব্যস্ততায় সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের যারা সময় দিতে পারছিলেন না তারাও এই সুযোগটাকে কাজে লাগাচ্ছেন। সন্তানদের সঙ্গে খেলছেন দাবা, ক্যারাম, লুডু।

মায়ের পুরানো শাড়ি কেটে শর্ট কাপ্তান আর স্কার্ট

সারাবাংলা ডট নেট অনলাইনের সিনিয়র রিপোর্টার ঝর্ণা রায়। প্রতিদিন খবরের পিছনে ছুটতে গিয়ে নিজের সেলাইয়ের সখটা যেন মরেই গিয়েছিলো। কিন্তু এই ঘরবন্দী জীবনে তার সেই সখটাকে যেন আবারো জাগিয়ে তুলেছে। তার আলমারিতে থাকা মায়ের পুরানো শাড়ি কেটে বানিয়ে নিয়েছেন শর্ট কাপ্তান আর স্কার্ট। এই খবর তিনি ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে বন্ধুদের জানিয়েওছেন।

করোনা কালে ঘরবন্দী মানুষদের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তিনটি বিষয় পালনের পরামর্শ দিয়ে নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। সেগুলো হলো, এক. উদ্বেগ এড়াতে সারাক্ষণ করোনা বিষয়ের খবর দেখা বন্ধ রাখতে হবে; দুই. করোনা থেকে কীভাবে নিজেকে সুস্থ রাখা যাবে, এ ব্যাপারে তথ্য জোগাড় করার দিকে জোর দিতে হবে এবং একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞসহ চিকিৎসকরাও বলছেন, এই সময়ে খারাপ খবরগুলো বেশি না দেখে, পরিবারকে সময় দেয়া, সৃজনশীল কাজে মন দেয়ার কথা।

ছাদের বাগানে রাখির যত্মআত্তি
এমএন