২ কোটি শিশু শিক্ষার্থী গৃহবন্দি

আগের সংবাদ

একনজরে আজকের সংবাদপত্র

পরের সংবাদ

করোনাকালে ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর উদ্যোগ

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ৩০, ২০২০ , ১২:১২ অপরাহ্ণ

ভার্চুয়াল কোর্টে একজন বিচারক থাকবেন, তার সঙ্গে অন্যান্য স্টাফরাও থাকবেন। তাই এটা চালু করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার

করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে দেশের সব আদালত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এ সময়ে মানুষের নাগরিক অধিকার কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানির জন্য ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এর পক্ষে যেমন অনেকে অবস্থান নিয়েছেন, বিপক্ষেও মত দিয়েছেন অনেকেই। আইনজীবীরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে পার্শ্ববর্তী ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যেই ভার্চুয়াল আদালত গঠন করে বিচার ব্যবস্থা চালু রেখেছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষ মনে করে, দেশে ভার্চুয়াল কোর্টের পূর্ববর্তী কোনো ধারণা নেই। মহামারি প্রাদুর্ভাবের সময় এটা চালু করা কতটা জরুরি সেটা গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে।
আইনজীবীদের কয়েকটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত পরিসরে আদালত খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এ বিষয়ে গত ২৩ এপ্রিল একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছিল কোর্ট প্রশাসন। কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অতি জরুরি বিষয়গুলো শুনানির জন্য আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্ট এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে সব অধিক্ষেত্রের অতি জরুরি বিষয়গুলো শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল সেই বিজ্ঞপ্তিতে। তবে সীমিত পরিসরে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করতে গেলেও করোনার ঝুঁকি থেকে যায়, যা অনুধাবন করতে পেরে আইনজীবীদের একাংশ কোর্ট খোলার বিপক্ষে যুক্তি দেখান। কোর্ট খোলার পক্ষে-বিপক্ষে আইনজীবীদের এসব মতামত প্রধান বিচারপতির দপ্তর পর্যন্ত পৌঁছায়। এরই মধ্যে আইনজীবীরা কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে কোর্ট বন্ধ করতে প্রধান বিচারপতিকে লিখিত আবেদন জানান।
পাশাপাশি কয়েকটি আবেদনে প্রধান বিচারপতিকে ভার্চুয়াল কোর্ট পদ্ধতি চালু করতেও অনুরোধ জানান আইনজীবীরা। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে অন্তত একটি কোর্ট অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালনা করতে সর্বপ্রথম প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন মানবাধিকার সংগঠন চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের (সিসিবি ফাউন্ডেশন) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুল হালিম ও সংগঠনের পরিচালক এডভোকেট ইশরাত হাসান। এরপর বিভিন্নভাবে আরো বেশকিছু আইনজীবী অনলাইনের মাধ্যমে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার বিষয়ে নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, সংবিধানে দেশের নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই স্বল্প পরিসরে হলেও কোর্ট খোলা রাখা জরুরি। তবে করোনা পরিস্থিতিকেও বিবেচনায় রাখতে হবে। সেজন্য করোনাকালীন সময়ের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে এক বা একাধিক ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনা হওয়া দরকার। ভার্চুয়াল কোর্ট নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে বেশ আগ্রহ রয়েছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এ ধরনের ব্যবস্থাপনা রয়েছে।
এদিকে সীমিত পরিসরে কোর্ট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় বসে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্যরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যোগ দেন। সভা শেষে সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, কমিটি মনে করে, প্রচলিত পদ্ধতিতে আদালত পরিচালনা করা হলে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিজ্ঞ আইনজীবীরা ছাড়াও বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে করোনা পরিস্থিতিও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তাই দৈহিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে জরুরি বিষয়গুলো শুনানির সহজগম্য ভার্চুয়াল কোর্ট ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে কমিটি অভিমত ব্যক্ত করেছে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ এপ্রিল প্রধানবিচারপতি নেতৃত্বে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সুপ্রিমকোর্টের ফুলকোর্ট সভায় হাইকোর্ট রুলস সংশোধন করে ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এ ব্যাপারে এ সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ জারির জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয় ওই ফুলকোর্ট সভায়। পাশাপাশি বিচারক ও আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে বলা হয়। তবে ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন থেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষসহ সিনিয়র আইনজীবীদের অনেকেই তাড়াহুড়ো করে এখনই ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর পক্ষে নন।
এ ব্যাপারে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, হঠাৎ করেই ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করা যাবে না। ভার্চুয়াল কোর্টে একজন বিচারক থাকবেন, তারসঙ্গে অন্যান্য স্টাফরাও থাকবেন। তাই এটা চালু করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার বলে তিনি মনে করেন। সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, আমাদের দেশে ভার্চুয়াল কোর্টের পূর্ববর্তী কোনো ধারণা নেই। বিচার ব্যবস্থায় এ পদ্ধতি সংযুক্ত করতে হবে। দেশের এই মহামারি প্রাদুর্ভাবের সময় এটা চালু করা কতটা জরুরি সেটা গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে।
অন্যদিকে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিনউদ্দিন বলেন, করোনা ভাইরাসের এ পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল কোর্ট গঠন হবে সময়োপযোগী উদ্যোগ। তবে সাধারণ আইনজীবীদের যেন এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয় এবং তারা যেন এটা ব্যবহার করতে পারেন; সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই বিচারপ্রার্থীরা লাভবান হবেন।

এসআর