ঢাকায় স্বাস্থ্যকর বাতাস বইছে

আগের সংবাদ

খাদ্য সংকটে রাস্তায় রৌমারীর নিম্ন আয়ের মানুষ

পরের সংবাদ

যে পথে ঢুকছে করোনাভাইরাস

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ২৮, ২০২০ , ৫:২২ অপরাহ্ণ

মানবদেহে করোনাভাইরাস

বিশ্বজুড়ে যেন একটাই আতঙ্ক এখন করোনাভাইরাস। চোখে দেখা যায় না। নেই প্রতিষেধক। তবুও তার আগ্রাসে মানুষ হত্যা যেন বেড়েই চলছে। মানুষ আছে আতঙ্কে। কোন পথে মানুষের শরীরের প্রবেশ করে করোনাভাইরাস? কীভাবে শরীরে ঢুকে পড়ছে সে!

গবলেট’ এবং ‘সিলিয়াটেড’- নাকের দুই কোষের মাধ্যমে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। ওয়েলকাম স্যাঙ্গার ইনস্টিটিউটের গবেষণায় উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। সম্প্রতি ‘নেচার মেডিসিন’ শীর্ষক জার্নালে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের দাবি, দুই কোষ ব্যবহার করেই করোনাভাইরাস মানব দেহে প্রবেশ করে। এর আগে ২০০৩ সালে সার্স মহামারীর সময় এই নাকের দুটি কোষের বিষয় উঠে এলে ঠিক কোন দু’টি কোষের জন্য ভাইরাসের গতি ত্বরান্বিত হয়, তা স্পষ্ট ছিল না। গবেষণা চলছিল। সেই গবেষণাতেই উঠে আসে ‘গবলেট’ এবং ‘সিলিয়াটেড’ কোষের নাম। এখানেই শেষ নয়। কোভিড-১৯-এর চিকিৎসার মাধ্যমে সংক্রমণ কমানোর সম্ভাব্য উপায়েরও উল্লেখ রয়েছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে কোন কোষগুলো ভূমিকা রাখে তা জানতে ‘সিঙ্গেল সেল আরএনএন সেকুয়েন্সিংয়ের’ একাধিক ‘হিউম্যান সেল অ্যাটলাস (এইচসিএ) কনসোর্টিয়াম ডেটাবেস’ নিয়ে গবেষণা চালানো হয়। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সিম্পটম বা উপসর্গ আছে বা উপসর্গ নেই এমন এমন ধরনের মানুষের শরীর থেকে পৃথক পৃথকভাবে ২০ ধরনের টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করা হয় পর্যবেক্ষণের জন্য। টিস্যুগুলি মানুষের ফুসফুস, নাক, চোখ, অন্ত্র, হৃদযন্ত্র, লিভার এবং কিডনি থেকে সংগ্রহ করা হয়।

গবেষণার নেতৃত্বে থাকা ওয়েলকাম স্যাঙ্গার ইনস্টিটিউটের ড. ওয়ারাডন সাংনাক বলেন, “রিসেপ্টর প্রোটিন এসিই টু’ এবং ‘টিএমপিআরএসএস ২ প্রোটিয়েজ’ করোনাভাইরাস সংক্রমণে সহায়তা করে। আর এগুলি নাকের ভিতরের আবরণ ছাড়াও আরও শরীরের অনেক অঙ্গে ছড়িয়ে রয়েছে। পরে আমরা জানতে পারি শ্বাসতন্ত্রের সকল কোষের মধ্যে নাকের ‘মিউকাস’ সৃষ্টিকারী ‘গবলেট’ ও ‘সিলিয়াটেড’ কোষে এই দুই প্রোটিনের মাত্রা সর্বাধিক। অর্থাৎ প্রাথমিকভাবে এই পথেই করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।”

নেদারল্যান্ডের ‘ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টার গ্রোনিংগেনের’ মার্টিজন নাওয়াইজন বলেন, ‘করোনা ভাইরাস কীভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে তাই অনুসন্ধান করছি। নাকের ভেতরের যে স্থানে এই কোষগুলো থাকে সেখানে ভাইরাসের পৌঁছে যাওয়া অত্যন্ত সহজ। আবার অন্যদের সংক্রমিত করতেও সেগুলো সহায়ক।’

গবেষকরা বলেন, “প্রধান দুটি ‘এন্ট্রি পয়েন্ট’, ‘এসিই টু’ ও ‘টিএমপিআরএসএস টু’, ‘কর্নিয়া’তে এবং অন্ত্রের ভেতরের আবরণেও থাকে। অর্থাৎ চোখ ও চোখের পানির গ্রন্থির মাধ্যমে করোনাভাইরাস মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হতে পারে। এমনকি মলের মাধ্যমে তা ছড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করা হচ্ছে না।”

এমআই