করোনা সংকট উত্তরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান

আগের সংবাদ

রেশন কার্ডের দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দেয়ার আহ্বান

পরের সংবাদ

ডিলারকে চান সরানোর পরামর্শ দেন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা

কলাপাড়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর চাল নয়-ছয়

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৬, ২০২০ , ৫:৫৮ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ২৬, ২০২০ , ৬:০১ অপরাহ্ণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর চাল নিয়ে ডিলারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ গোয়েন্দা সংস্থার এক মাঠ কর্মকর্তার পরামর্শে ৪০ হাজার টাকায় রফা হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মাঝে। সুবিধাভোগীদের চাল বিতরণ না করে মজুদ করে রাখার এ অভিযোগ ধামাচাপা দিতে সহায়তা করেছেন গোয়েন্দা সংস্থার মাঠ কর্মকর্তা, থানা পুলিশের একটি দল, খাদ্য বিভাগের প্রতিনিধি ও ক’জন নামধারী সাংবাদিক। এরপর রবিবার (২৬ এপ্রিল) সুবিধাভোগী ১০ জনকে ডেকে এনে চাল দেয় ডিলার। বাকীদের চাল ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বিতরণের জন্য বাড়ী বাড়ী খবর পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

এর আগে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর চাল সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণ না করে মজুদ করে রাখার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধূলাসারের চাপলিবাজারে ডিলার মহিউদ্দীন খোকন’র দোকানে যান গোয়েন্দা সংস্থার এক মাঠ কর্মকর্তা। এ সময় ষ্টক রেজিষ্ট্রারে চাল বিতরণ বাকি থাকা সুবিধাভোগীদের সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত চাল মজুদ রাখার তথ্য পান তিনি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ডিলারের দোকানে চাল না দেখলেও তার দোকান ঘরের পেছনের কক্ষে ৩০ কেজির ৫০ বস্তা চাল মজুদ দেখতে পান তিনি। এরপর ওই কর্মকর্তার সঙ্গে চলে শলা পরামর্শ, দেন দরবার।

অবশেষে ম্যানেজ হন তিনি এবং প্রস্থানের সময় ডিলারকে পরামর্শ দেন বিতরণ বাকি থাকা সুবিধাভোগীদের সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত চাল অন্যত্র সরিয়ে ফেলার। এ সময় সেখানে হাজির হয় ক’জন নামধারী সংবাদিক। তাদের সঙ্গেও কিছুক্ষণ চলে ডিলারের ফুসুর ফুসুর। পরবর্তীতে আসে থানা পুলিশের একটি দল। তারা এসেই সুবিধাভোগীদের স্বাক্ষর রেজিষ্ট্রারের ছবি তুলে ভুয়া স্বাক্ষর বলে ডিলারকে তটস্থ রাখেন। এবার তাদের সঙ্গেও চলে ডিলারের ফিস ফিস কথাবার্তা। এর কিছুক্ষণ পর আসে স্থানীয় এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি এবং এরপর খাদ্য বিভাগের প্রতিনিধি। কোনো অভিযোগই আর অভিযোগ থাকেনি সব সম্ভবের এই দেশে।

এদিকে রবিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে ধূলাসার ইউনিয়নের নতুনপাড়া গঙ্গামতি ৯নং ওয়ার্ডের সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর তালিকাভুক্ত চাল না পাওয়া সুবিধাভোগী আনোয়ার মল্লিক মুঠোফোনে বলেন, ডিলার আমারে ডেকে ৩০০ টাকা নিয়ে ৩০ কেজি চাল দেছে। গ্রামের জাহাঙ্গীরও ৩০০ টাকায় ৩০ কেজি চাল পাইছে। তৈয়ব আলী, নিজাম, শাহজাহান গাজী, মোহাম্মদ আলীকে বিকেলে চাল আনতে বলছে। শুনছি এতদিন যারা চাউল পায় নাই, এ্যাহন হেরা সবাই চাউল পাইবে।’

খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলার মহিউদ্দীন খোকন বলেন, ’রবিবার সুবিধাভোগী আনোয়ার মল্লিক, জাহাঙ্গীর, রুহুল আমিন, তোফাজ্জেল, আ: রহিম চাল নিয়েছে। বিকেলে তৈয়ব আলী, নিজাম, শাহজাহান গাজী, মোহাম্মদ আলী চাল নিতে আসবে। এছাড়া ৪০ হাজার টাকায় রফা হওয়ার গুঞ্জন অস্বীকার করে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়