হাতিরপুল বাজার

করোনা ঝুঁকিতে হাতিরপুল বাজার!

আগের সংবাদ

নতুন মৃত্যু ৪, আক্রান্ত ৫০৩, পরীক্ষা ৩৬৮৬

পরের সংবাদ

স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রণোদনা দেয়ার দাবি ড্যাবের

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ২৪, ২০২০ , ২:৩৬ অপরাহ্ণ

করোনা আক্রান্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সরকারি প্রণোদনা দেয়ার জন্য যে সরকারি পরিপত্র জারি করা হয়েছে তাতে বৈষম্য রয়েছে উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। সকল চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীদের সরকারি প্রণোদনা দেয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। নইলে এই করেনা মহামারি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না বলেও মনে করেন সংগঠনটির নেতারা।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ড্যাবের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গত ২৩ এপ্রিল ২০২০ইং তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাজেট অনুবিভাগ-১ অধিশাখা-৪ কতৃক ০৭.১০৪.০২০.২৭০১.৭২.২০১৮-২২৬ স্মারক মূলে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে, যাতে উল্লেখ করা হয়েছে যেসকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগীদের সরাসরি সেবাপ্রদান করবেন তারা করোনা ভইরাস (কোভিড-১৯) পজেটিভ হলে সরকারী বিধি মোতাবেক গ্রেড অনুযায়ী সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্রাপ্ত হবেন।

ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) উক্ত বিতর্কিত, বৈষম্যমূলক পরিপত্র জারির তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন। সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ হারুন আল রশিদ ও মহাসচিব ডাঃ মোঃ আব্দুস সালাম এক যৌথ বিবৃতিতে সরকারের এহেন বিমাতৃসলুভ আচরণের সমালোচনা করে বলেন বিশ^ মহামারী করোনা ভইরাস (কোভিড-১৯) এর প্রাদূর্ভাবের শুরু থেকেই বাংলাদেশের সরকারী-বেসরকারী সকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে প্রতিরোধ ও প্রতিকারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

তারা বলেন বিশ্বের অন্য যেকোন দেশের তুলনায় বাংলাদেশে পরীক্ষা অনেক কম হওয়ায় প্রকৃত করোনা রোগী সনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছেনা বিধায় সকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রবল স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছে। কোন রোগী করোনা পজেটিভ, কে পজেটিভ নন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা অনুধাবন করা সহজ নয়। ইতিমধ্যে বিএসএমএমইউ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল বলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ সহ বিভিন্ন হাসপাতালের বহিবিভাগে, অন্তঃবিভাগ, অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ ও ফিভার ক্লিনিকসমূহে দায়িত্ব পালনকারী ২৫৮জন চিকিৎসকসহ ছয় শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী করোনা ভাইরাস এ আক্রান্ত, ক্রমাগতভাবে যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোভিড-১৯ ডেটিকেটেড হাসপাতালের বাইরে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরাই বেশী সংখ্যক আক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং এদের প্রণোদনার বাইরে রাখা অনৈতিক, অন্যায়, নীতিবহির্ভুত।

আমাদের স্বাস্থ্য কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালরকারী বেসরকারী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রণোদনার বাইরে রাখা হয়েছে যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বিরাট বিভাজন, বিশৃংখলা সৃষ্টি করবে ও নিকট ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়বে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধভাবে সমন্বিত ব্যবস্থপনা, করোনা যোদ্ধাদের উৎসাহিত করা বিশ^ মহামারী করোনা ভইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলার একমাত্র উপায়। সেখানে সরকারের এই প্রজ্ঞাপন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের হতাশ করেছে, তাদের মধ্যে বিরাট বিভাজন সৃষ্টি করেছে। বিভাজনের দেয়াল তুলে অপ্রতুল জনবল নিয়ে করোনার মহাপ্রলয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ শুধু কঠিন নয় বরং অসম্ভব।

এমতাবস্থায় তারা জারিকৃত পরিপত্রটি অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারপূর্বক দেশের সকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রণোদনার আওতায় আনতে জোর দাবী জানান।অন্যথায় বাংরাদেশে করোনা মহামারী প্রতিরোধ করা সম্ভব হবেনা।

এসএইচ