পর্যটনখাতে ক্ষতি, প্রণোদনার দাবি টোয়াবের

আগের সংবাদ

প্রতি ইউনিয়নে কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার আহ্বান

পরের সংবাদ

মার্চের মজুরি ১২ তারিখের মধ্যে পরিশোধের দাবি

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ৮, ২০২০ , ৭:৪২ অপরাহ্ণ

গার্মেন্টস শ্রমিকদের মার্চ মাসের বকেয়া মজুরি ১২ এপ্রিলের মধ্যে পরিশোধ, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, গত এক মাসের মধ্যে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল এবং শ্রমিক হত্যার দায়ে ক্রাউন ওয়্যার্স লিমিটেডের মালিকের বিচারের দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট।

ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল এবং সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ এ দাবি জানান।

বুধবার এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ছুটি দেয়ার পূর্বেই তাদের মার্চ মাসের মজুরি পরিশোধ করা জরুরী ছিল। কিন্তু ৪ হাজার ৫৬০টি রপ্তানিমুখি পোশাকশিল্প কারখানার মধ্যে গতকাল পর্যন্ত মাত্র ২৮৫টি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। যেসকল কারখানা শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করেছে তারাও বিভিন্ন অজুহাতে শ্রম আইনের শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী ধারা সমুহের সুযোগ নিয়ে শতশত শ্রমিক ছাঁটাই করেছে, হামলা-মামলা করে প্রতিবাদী শ্রমিকদের হয়রানি করেছে। গত ৬ এপ্রিল ভালুকার ক্রাউন ওয়্যার্সের শ্রমিকরা বেতন চাইতে যেয়ে পুলিশ ও মালিক পক্ষের সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়। পুলিশের গুলি থেকে বাঁচতে যেয়ে ট্রাক চাপায় দুইজন শ্রমিক নিহত হয়। গার্মেন্টস মালিকদের নেতৃত্ব থেকে জনপ্রতিনিধি বনে যাওয়া এক শ্রেণীর মালিকের পরিচালনাধিন কারখানা এ ধরনের অপকর্ম সংগঠনে অগ্রণী ভূমিক পালন করে। শ্রমিক হত্যার দায়ে ক্রাউন ওয়্যার্স লিমিটেডের মালিককে গ্রেপ্তার এবং তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, জনপ্রতিনিধির পদ অলংকৃত করা এই মালিকদের প্রণিত আইন যে শ্রমিকদের কোন সুরক্ষা দেয়না বরং মালিকের স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার করোনা দুর্যোগ সেই সত্যকেই উম্মোচিত করছে।

করোনা দুর্যোগ এটাও তুলে ধরছে যে পুঁজি আর মুনাফার কাছে মানুষত্ব, মানবিকতা, কৃতজ্ঞতাবোধ সবই মূল্যহিন। তাই যে শ্রমিকের শ্রম কয়েক লাখ টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করা এই গার্মেন্টস মালিকদের আজ শত-শত কোটি টাকার মালিক বানিয়েছে, ক্ষমতাবান বানিয়েছে সেই শ্রমিকদের এই দুর্যোগকালিন সময়ে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে এদের বাধেঁনি। দুর্যোগকালিন পরিস্থিতিতে উচ্চ দ্রব্যমূল্য আর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যায়ের জন্য শ্রমিকের অতিরিক্ত প্রয়োজন মেটানোর দায়িত্ব নেয়ার পরিবর্তে শ্রমিকদের বেতন কেটে রাখার জন্য শ্রম আইনের লে-অফের বিধান কার্যকরের চেষ্টা করছে। নেতৃবৃন্দ, শ্রম আইনের দোহায় দিয়ে শ্রমিক ঠকানোর সকল অপচেষ্টা বন্ধ করে ১২ এপ্রিলের মধ্যে সকল শ্রমিকের মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, বিগত একমাসে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল এবং করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রদত্ত ছুটিকে লে-অফ নয় সবেতন ছুটি হিসাবে বিবেচনার দাবি জানান।