ত্রাণ বিতরণে সমন্বয় নেই

আগের সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮৫৮ মৃত্যুর রেকর্ড

পরের সংবাদ

অসচ্ছল কলাকুশলীদের জন্য ফান্ড করা হচ্ছে

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ৮, ২০২০ , ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ

সবার মতো তিনিও গৃহবন্দি রয়েছেন। অস্থির সময়ে মন বসাতে পারছেন না কোনো কাজে। তবু দেশ নিয়ে ভাবছেন, নাট্যকর্মীদের নিয়ে ভাবছেন। পৃথিবীর বর্তমান ক্রান্তিকাল নিয়ে তিনি কী ভাবছেন? তা জানতে ভোরের কাগজ কথা বলে রামেন্দু মজুমদারের সঙ্গে। কথা বলেছেন শাকিল মাহমুদ

করোনা পরিস্থিতিতে গৃহবন্দি সময় কীভাবে কাটাচ্ছেন?
আসলে খুবই কষ্টকর একটা সময় কাটাচ্ছি। কোনো কিছুতে মনোযোগ দিতে পারছি না। তারপরেও বই পড়ে সময় কাটানোর চেষ্টা করছি। তাছাড়া আইটিআইয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা বই লিখছি।

এ সময়ে দিনমজুর মানুষরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। তাদের সহায়তার জন্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে?

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে গরিব-অসহায় মানুষদের খাদ্যসামগ্রী দেয়া হচ্ছে।

অসচ্ছল নাট্যকর্মী বা কলাকুশলীদের জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে?
আসাদুজ্জামান নূরের সমন্বয়ে অসচ্ছল কলাকুশলীদের জন্য একটি ফান্ড গঠন করা হচ্ছে। তাছাড়া আমাদের অসচ্ছল অনেক নাট্যকর্মী রয়েছে। সে রকম নাট্যকর্মীদের একটি তালিকাও করা হয়েছে। আসলে আমরা জানি না এ অবস্থা কতদিন থাকবে। তাই ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই ফান্ডটি গঠন করা হচ্ছে। সবাই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করছে।

সরকার বিভিন্ন খাতে অনুদান দিচ্ছে। এটাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
বিষয়টা সাধারণভাবে ভেবে দেখো- অনুদান কেন দেয়া হচ্ছে? ধরো, গার্মেন্টস খাতে যে টাকাটা দেয়া হচ্ছে সেটা কি মালিকদের দেয়া হচ্ছে? না, টাকাটা দেয়া হচ্ছে শ্রমিকরা যাতে তাদের বেতন ঠিক মতো পায় সে জন্য। কিন্তু আদৌ সেটা হবে বা হচ্ছে কিনা সে বিষয়টাতেও সরকারের নজর দেয়া উচিত।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের সঙ্গে যে আচরণ করা হলো, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এটাকে কীভাবে দেখছেন?
এটি নিঃসন্দেহে একটি অমানবিক আচরণ। এই যে শ্রমিকরা হেঁটে মাইলের পর মাইল অতিক্রম করে ঢাকা এলো এবং এসে জানতে পারল গার্মেন্টস বন্ধ থাকবে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত! এখন এ মানুষগুলো কী করবে? কোথায় যাবে? কী খাবে?

এখন গার্মেন্টস শ্রমিকদের দায়িত্ব মালিকদের নেয়া উচিত?
অবশ্যই নেয়া উচিত। এই মুহূর্তে মালিকদের উচিত শ্রমিকদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার খোঁজ নেয়া, সমস্যা হলে দায়িত্ব নেয়া। তাছাড়া গার্মেন্টস মালিকদের পাশাপাশি সরকারেরও উচিত তাদের সহায়তা করা।

দেশের বর্তমান চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মতামত জানতে চাই…
প্রথম দিকে টেস্ট করানোর মতো কোনো উপকরণ আমাদের ছিল না। যার ফলে আক্রান্তের সংখ্যা আমরা জানতে পারিনি। এখন যতটুকু উপকরণ এসেছে তা দিয়ে টেস্ট হচ্ছে, আক্রান্ত হওয়া মানুষদের শনাক্ত করা যাচ্ছে। টেস্ট করার ব্যবস্থাটা আরো বৃদ্ধি করা উচিত। এছাড়া পুরোপুরি চিকিৎসা ব্যবস্থায় আমাদের যথেষ্ট ঘাটতি আছে, এটা মানতে হবে। তারপরেও এমন অবস্থায় সব দায় সরকারের ওপর চাপানো উচিত নয়। এই মুহূর্তে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, মোকাবিলা করতে হবে এ মহামারিকে। তার জন্য আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

দেশের মানুষের উদ্দেশে কোনো পরামর্শ দিতে চান?
পরামর্শ বলতে, প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া মোটেই উচিত নয়। তারপরেও যাদের বাইরে যাওয়াটা জরুরি তারা অবশ্যই সব নিয়মকানুন মেনে বাইরে যাবেন এবং বাসায় ফিরে পরিষ্কার হয়ে নেবেন। তাছাড়া কোনো প্রয়োজন না থাকলে ঘরেই থাকুন- আতঙ্কিত হলে চলবে না।

এসআর