মৃতের শরীরে করোনা বাঁচতে পারে না: জাফরুল্লাহ

আগের সংবাদ

জটলা এড়াতে ফ্রি কিক, কর্নার বাদ

পরের সংবাদ

গোসলের ছবি ধারণের প্রতিবাদ করায় হামলা

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ৬, ২০২০ , ৭:৪৬ অপরাহ্ণ

হবিগঞ্জের মাধবপুরে মোবাইল ফোন দিয়ে মেয়েদের গোসলের ছবি ধারণ করার প্রতিবাদ করার ঘটনায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের বাড়িঘর
ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে হবিগঞ্জ বিচারিক আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার খবর পেয়ে রবিবার রাতে হবিগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (মাধবপুর-চুনারুঘাট সার্কেল) নাজিম উদ্দিন ও থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো: ইকবাল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে রাতেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত খেলু মিয়া (৫৫), রেহানা বেগম (৩৫) , ফরিদা (৩৮) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সোমবার সকালে মনিপুর গ্রামে হিন্দু পাড়ায় গিয়ে দেখা যায় তাদের মাঝে ভয় ও আতংক বিরাজ করছে। স্থানীয় হিন্দু নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পরিদর্শন করে তাদের শান্তনা দেন।

মনিপুর গ্রামের অমল সরকারের স্ত্রী রানু রানি সরকার জানান, রবিবার দুপুরে তার ননদ দশম শ্রেণির ছাত্রী ও ভাসুরের মেয়ে সহ তিন জন বাড়ির পাশে পুকুরে গোসল করতে যান। এ সময় একই গ্রামের অনু মিয়ার ছেলে হুমায়ুন, মৃত শাহজাহান মিয়ার ছেলে শরিফ, আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে শাহাব উদ্দিন ও মৃত সায়েদ মিয়ার ছেলে বায়েজিদ মিয়া তাদের মোবাইল ফোন দিয়ে মেয়েদের গোসল করার ছবি ধারণ করে।

মেয়েরা বাড়িতে এসে এ ঘটনা বলে এবং শ্যামল সরকার কে জানালে তিনি হুমায়ুন সহ তাদের অভিভাবকদের বাড়িতে গিয়ে বিচার দেয়। বিচার দেওয়ার ঘটনায় হুমায়ুন ও তাদের লোকজন বিকেল ৩টার দিকে হিন্দু পাড়ায় গিয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে হামলা করে বাড়িঘর ভাঙচুর করে।

হুমায়ুন ও তার সঙ্গীরা রানু রানি সরকারে শিশু সন্তান কে পুকুরে ছুড়ে ফেলে দেয়। তাদের হামলায় মহাদেব সরকারের স্ত্রী দিপালি সরকার (৫৫), মহাদেব সরকারের ছেলে বিমল সরকার (২৮), অমল সরকার (২২) আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের প্রথমে মাধবপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

একই গ্রামের উপন্দ্রে সরকারের ছেলে প্রদিপ সরকার জানান, ছবি উঠানোর ঘটনায় তাদের পরিবারের কাছে বিচার দেওয়ার পর যারা ছবি তুলেছিল তারা দল বেঁধে এসে হামলা করে বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে।

হিন্দু পাড়ার অজিত সরকার জানান, এ ঘটনায় আমরা অবাক হয়েছি। এ রকম ঘটনা হবে আমরা কল্পনাও করতে পারিনি।

বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি , উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শ্রীধাম দাশ গুপ্ত ও হরিশ চন্দ্র দেব জানান, এই ঘটনায় আমরা অত্যান্ত দুঃখ ও কষ্ট পেয়েছি। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় তিনজন কে গ্রেপ্তার করেছে। যারা এই ঘটনা করেছে তাদের প্রত্যেক কে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। না হলে আমরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বড় ধরনের কর্মসূচি দিব।

হিন্দু মহাজোট নেতা সুভাষ দেব জানান, এটি অত্যান্ত ন্যাক্কারজনক কাজ। এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয় হিন্দুদের মাঝে ভয় কাজ করছে।

ছাতিয়াইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শহীদ উদ্দিন জানান, এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। একান্তর সালেও এমন ঘটনা হয়নি ছাতিয়াইন ইউনিয়নে। এটির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

মাধবপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম দস্তগীর আহামেদ জানান, মনিপুর গ্রামের বাসুদেব সরকার বাদি হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা করেছেন। ছাতিয়াইন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কামরুল ইসলাম কে মামলাটি তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশ তিনজন কে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য জড়িদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

হবিগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (মাধবপুর-চুনারুঘাট) সার্কেল মো: নাজিম উদ্দিন জানান, পুলিশ তিনজন কে গ্রেপ্তার করেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত আছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এমএইচ