পরিবহণ শ্রমিকদের খাদ্য-সুরক্ষা উপকরণ সরবরাহের দাবি

আগের সংবাদ

গ্রাউন্ডসম্যানদের পাশে দাঁড়াচ্ছে বিসিবি

পরের সংবাদ

চলে গেলেন ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতির উদ্ভাবক

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ২, ২০২০ , ৭:২২ অপরাহ্ণ

ক্রিকেটপ্রেমীরা জানেন বৃষ্টি আইন বা ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন মেথেড নিয়ম। অনেকে ডিএল মেথডও বলে থাকেন। ক্রিকেটে বৃষ্টি বাধা দিলেই মনে পরে এই পদ্ধতি বা নিয়মের কথা।
তবে দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে, এই ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডের অন্যতম আবিষ্কারক টনি লুইস মারা গেছেন। বুধবার (১ মার্চ) রাতে ৭৮ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন তিনি। ইংল্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) টনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

ইসিবির পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয়েছে, টনি লুইসের মৃত্যুর খবর পাওয়াটা বোর্ডের জন্য দুঃখজনক। টনি এবং তার বন্ধু ফ্র্যাঙ্কের কাছে ক্রিকেট বিশ্ব ঋণী। আমরা তার বিদেহী আত্মার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করছি।
৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে সতীর্থ গণিতবিদ ফ্র্যাঙ্ক ডাকওয়ার্থকে সঙ্গে ক্রিকেটে বৃষ্টির প্রভাব কমিয়ে আনার জন্য একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন টনি লুইস। বৃষ্টি-বিঘ্নিত ক্রিকেট ম্যাচে যারা পরে ব্যাটিং করবে তাদের লক্ষ্য কত হতে পারে সেটিই বের করা হয় তাদের উদ্ভাবিত এ ফর্মুলা দিয়ে। মজার বিষয় হল, তাদের দুইজনের নামের শেষাংশ থেকেই এর নামকরণ করা হয় ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথড।

প্রাথমিকভাবে ১৯৯৭ সালে এই পদ্ধতিটি ব্যবহারের উন্মুক্ত হিসেবে ঘোষণা দেন টনি ও ফ্র্যাঙ্ক। প্রায় দুই বছর পরীক্ষামূলকভাবে দেখার পর ১৯৯৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথড গ্রহণ করে আইসিসি। ১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারি সর্বপ্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে এই নিয়মের ব্যবহার হয়েছিল। এর আগে ডাকওয়ার্থ অবশ্য ৮০-র দশক থেকেই বৃষ্টি-বিঘ্নিত ম্যাচ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছিলেন। তবে সে সময়ে ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা তাকে পাত্তা দেননি। পরে ১৯৯২ সালে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল সোসাইটির কনফারেন্সে ‘ ফেয়ার প্লে ইন ফাউল ওয়েদার’ নামের একটি প্রবন্ধ পাঠ করেন ডাকওয়ার্থ। ব্রিস্টলের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট অব ইংল্যান্ডের ব্যবস্থাপনা বিজ্ঞানের সেই সময়ের লেকচারার লুইসও উপস্থিত ছিলেন সেই কনফারেন্সে। ডাকওয়ার্থের প্রবন্ধে মুগ্ধ হয়ে লুইস একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেন। সেই ডাকে সাড়া দিয়েই দুজনে হিসাবনিকাশ শুরু করেন। তবে ২০০৬ সালে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আবিষ্কারের পর এই নিয়মের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়। কেননা ২০ ওভারের ক্রিকেটে উইকেটের সঙ্গে রানের ভারসাম্য রেখে খেলার কথা ভাবে খুব কম দলই।

অবশ্য টনি-ফ্র্যাঙ্ক যখন তাদের নিয়ম আবিষ্কার করেন, তখন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ছিলো না। ফলে এ বিষয় মাথায় রাখেননি তারা। তবে এর সমাধানও হয়ে গেছে এখন।
২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ান অধ্যাপক স্টিভেন স্টার্ন আরও কার্যকরীভাবে এই নিয়মের হালনাগাদ করেন। যার ফলে এখন এটি ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন মেথড বা সংক্ষেপে ডিএলএস মেথড নামেই পরিচিত।

ডিসি