ইইউভুক্ত দেশসমূহে জিএসপি সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব খারিজ

আগের সংবাদ

টেকনাফে বেড়ে চলছে অপহরণ ও অস্ত্রের ঝনঝনানি

পরের সংবাদ

৩০০ জনের খাবার দিলেন জেমি ডে

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ১, ২০২০ , ৬:০১ অপরাহ্ণ

পৃথিবীব্যাপি চলমান মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সব ধরণের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে বা স্থগিত করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আপাতত স্থগিত রয়েছে দেশের ফুটবল। আর এই অবসরে ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে ইংল্যান্ডে অবস্থান করছেন জাতীয় ফুটবল দলের ইলিংশ কোচ জেমি ডে। তবে নিজ দেশে থাকলেও ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ বাংলাদেশের জন্য ঠিকই ভাবছেন তিনি। তাইতো সেখান থেকেই তিনি অসহায় ও দুস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ৩০০ বাংলাদেশি অসহায় মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছেন জেমি ডে।

করোনায় স্থবির সারা বিশ্ব। যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি নিম্নবিত্তের খেঠে খাওয়াদের ওপর। আর তাদের পাশে একের পর এক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন ক্রীড়াবিদরা। চরম সঙ্কটের দিনে দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার রুবেল হোসেন, ওপেনার লিটন কুমার দাস ও তার পত্নী দেবশ্রী বিশ্বাস সঞ্চিতা, ক্যাপ্টেন ও সাংসদ মাশরাফি বিন মর্তুজা, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতসহ আরো অনেকে।

ক্রিকেটার মাশরাফি-তামিমরা নিজেদের বেতনের অর্ধেকটা দিয়েছেন করোনা তহবিলে। ৫০টি পরিবারকে চাল-ডাল দিয়েছেন বাংলাদেশ নারী দলের ক্রিকেটার জাহানারা আলম। ক্রিকেটারদের পাশাপাশি এগিয়ে এসেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ফরওয়ার্ড বিপলু আহমেদ, সাইফ স্পোটিংয়ের উইঙ্গার আরিফুর রহমান ও গোলরক্ষক শহীদুল আলম। এবার তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাংলাদেশের মানুষের জন্য নিজের ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিলেন জেমি ডেও।

গত ২৭ মার্চ (শুক্রবার) দুপুর থেকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) শ্রমজীবী অসহায় মানুষের জন্য খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে যা চলবে অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত। জেমি সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন সেখানেই। গতকাল দুপুরে বাফুফে ভবনের সামনের গেটে জেমির দেয়া অর্থে খাবার দেয়া হয় গরিব মানুষকে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেমি ও বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ।  সহযোগিতার ব্যাপারে জেমি গণমাধ্যমকে জানান, ‘করোনা ভাইরাসের সময়ে বাংলাদেশের খেটে খাওয়া মানুষের অবস্থা খুবই খারাপ। তাই আমি অসহায়দের জন্য এক বেলা খাবারের সহায়তা করেছি। ’ সংখ্যাটা যে ৩০০, সেটি জানিয়েছেন বাফুফে সাধারণ সম্পাদক , ‘কোচ জেমি ডের সহায়তায় আমরা দুপুরে ৩০০ লোকের খাবারের ব্যবস্থা করেছি। তার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।’

জেমি ডে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রায় ২ বছর হতে চলেছে। অনূর্ধ্ব-২৩ দলকেও দেখভালের দায়িত্ব এই ইংলিশ কোচের। স্বাভাবিকভাবেই এ দেশের মানুষের প্রতি তৈরি হয়েছে তার আলাদা একটা টান। ‘বাংলাদেশ আমার দ্বিতীয় বাড়ি’-এ কথাটা অনেকবারই বলেছেন তিনি। সারা দুনিয়াকে এ মুহূর্তে থমকে দিয়েছে প্রাণঘাতি মহামারি করোনা ভাইরাস। দেশে দেশে চলছে লকডাউন। বাংলাদেশে পুরোপুরি লকডাউন না চললেও বাইরে চলাফেরার ওপর আছে এক ধরনের বিধিনিষেধ। এ সময় দরিদ্র জনগণের অবস্থা খুবই খারাপ। এক বেলা খাবার জোটাতেই তাদের অনেক সংগ্রাম করতে হচ্ছে। ইংল্যান্ডে বসেও ব্যাপারটি জানেন জেমি। তাই এ দুঃসময়ে ৩০০ মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করলেন জাতীয় ফুটবল দলের কোচ।

অবশ্য দুস্থ ও অসহায় মানুষজনের এই বিপদের দিনে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকেই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ও দিচ্ছেন। এই তালিকায় আছেন ক্রীড়া জগতের অনেকে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন জেমি ডে। করোনা ভাইরাসের জেরে ঘরবন্দি মানুষ। কিন্তু নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষদের তো আর ঘরবন্দি থাকলে চলবে না। ঘর থেকে বাইরে বের হয়েই বা তারা কাজ পাবে কোথায়? সবকিছু বন্ধ থাকায় কাজও পাচ্ছে না তারা। সেই অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন কোচ জেমি ডে। ৪০ বছর বয়সী এই ইংলিশ কোচ বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমি ভালোবাসি। আমার দ্বিতীয় বাড়িও বলতে পারেন।

পিআর