করোনা মোকাবিলায় তহবিল গঠন কোয়াবের

আগের সংবাদ

নেইমারদের সতর্ক করল উয়েফা

পরের সংবাদ

বহু তারার সন্ধান দিল করোনাভাইরাস!

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ১, ২০২০ , ৫:১০ অপরাহ্ণ

দূষণমুক্ত আকাশে নতুন তারার সন্ধান

বহু তারার সন্ধান দিল করোনাভাইরাস। কথাটা অবাক করার মতো তাই না? নাকি অবিশ্বাস্য? অবাক করার মতো হলেও ঠিক তাই। বিশাল আকাশে লুকিয়ে রয়েছে এমন বহু তারার সন্ধান দিল করোনাভাইরাস। যে তারাগুলোর সঙ্গে আগে কখনই মানুষ পরিচিত ছিল না। তারাগুলো নিজেরাই কি লুকিয়ে ছিল? নাকি প্রকৃতিই মানুষের সাথে তাদের পরিচিত হতে দেয়নি! আসল কথা হচ্ছে মানুষ নিজেরাই নিজেদের অপকর্মের কারণে এতো দিন তারাগুলোর সাথে অপরিচিত ছিল। ভারী করে তুলেছিল বাতাসকে। যে কারণে তারাদের সাথে এতদিন পরিচিত হতে পারেনি। শুধু তারা নয়! এমন আরও অনেক প্রকৃতির সাথেই মানুষ অপরিচিত আছে শুধু নিজেদের অপকর্মের কারণে।

করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন সবখানে। প্রকৃতির অন্যতম প্রধান শত্রু মানুষ এখন ঘরে লুকিয়ে। এসময় যেন সব উজার করে দিচ্ছে প্রকৃতি। আর এ সুযোগেই তারকারা দেখা দিল মানুষকে। দেশ ভিন্ন হলেও আকাশ তো একটাই। বাংলাদেশের দূষিত বাতাস গিয়ে এক হয় পশ্চিমাদের বাতাসের সাথে। আবার পশ্চিমাদের বাতাস এসে মিলিত হয় বাংলাদেশের বাতাসের সাথে। মানুষের তৈরি যে আবর্জনা বাতাসে ভারী করে তুলেছিল। যে বাতাসকে ভেদ করে তারকাদের সন্ধান এতদিন হাতছাড়া হয়ে ছিল। এখন তাদের দেখা মিলল। তারা এত দূরে যে, তাদের কোনোটা আমাদের মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সিরই অন্য এক প্রান্তের। কোনোটা বা আরও অনেক অনেক দূরের কোনো গ্যালাক্সির।

যে টেলিস্কোপে হদিশ মিলেছে বহু নতুন তারার।
যে টেলিস্কোপে হদিশ মিলেছে বহু নতুন তারার।

খুব দূরে আছে বলে বড় টেলিস্কোপেও এত দিন যাদের দেখা মেলেনি। ভারতের মেদিনীপুরের সীতাপুরের মাত্র ২৪ ইঞ্চি লেন্সের টেলিস্কোপে ধরা দিল সেই ‘অচেনা অতিথিরা। কলকাতার ‘ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্স (আইসিএসপি)’-এর বাঙালি গবেষকরা খুঁজে বের করলেন তাদেরকে।

ঠিক ৭৫ বছর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার সেই দুঃস্বপ্নের রাতেরও ছিল এরকমই একটি সুখকর স্মৃতি! রাতের আকাশে এক রোমাঞ্চকর জ্যোতির (এয়ার গ্লো) প্রথম হদিশ পেয়েছিলেন ভারতের অধ্যাপক শিশির কুমার মিত্র। যুদ্ধের সময় কলকাতায় পড়েছিল এক জাপানি বোমা। কলকাতার আকাশে রাতে অবিরত যুদ্ধবিমানের টহলে কলকাতায় তখন আক্ষরিক অর্থেই ‘ব্ল্যাক আউট’। তাই বিশ্বে প্রথম এয়ার গ্লো আবিষ্কার‌ করতে পেরেছিলেন অধ্যাপক আর তার ছাত্র সত্যেন্দ্রনাথ ঘোষ।

তিনি আবিষ্কার করেছিলেন, দিনভর সূর্যের আলো গায়ে আছড়ে পড়ায় তেতে ওঠা বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন অণুরা সন্ধ্যা নামার পর থেকেই লাল, নীল নানা রঙের আলো বিকিরণ করতে শুরু করে ঠান্ডা হবে বলে। তার ফলে, সন্ধ্যার অনেক পরেও জমাট বাঁধা অন্ধকারে লাল, নীল নানা রঙের আলোয় রঙীন হয়ে থাকে আকাশ। সেই আবিষ্কারের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার’-এ।

দূষণমুক্ত আকাশে নতুন তারার সন্ধান
দূষণমুক্ত আকাশে নতুন তারার সন্ধান

এ ব্যাপারে আইসিএসপি-র প্রধান বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আমরা অনেকগুলো তারার হদিশ পেয়েছি। যাদের অনেকের কথাই আগে জানা ছিল না। তাই তাদের নিয়ে এর আগে কোনো গবেষণাও হয়নি। আগে কেউ এই তারাদের হদিশ পেলে তাদের নামকরণ করা হত। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো রেকর্ডেই এদের নামধাম, কতটা দূরে রয়‌েছে তারা, তার কোনো উল্লেখ নেই। আগে যদি আমরা এমন কোনো তারার সন্ধান পেতাম যে তারাগুলো ১০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে। লকডাউনের আকাশ তাহলে আমাদের সামনে ২০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে থাকা তারাকেও দৃশ্যমান করে তুলল। করে তুলল অনেক বেশি উজ্জ্বল।’’ গবেষকদলে সন্দীপের সঙ্গে রয়েছেন তিন ছাত্র অসীম সরকার, শ্যাম সরকার ও পবিত্র শীল।

সন্দীপ জানান, ‘নতুন অতিথিদের মধ্যে যারা অধিক উজ্জল সেগুলো রয়েছে আমাদের থেকে প্রায় ১৬০০ আলোকবর্ষ দূরে। আর যেগুলোর আলো খুবই ক্ষীণ, সেগুলো রয়েছে আরও দূরের কোনো গ্যালাক্সিতে।

সন্দীপ আরও বলেন, ‘‘মনে হচ্ছে, যেগুলো থেকে খুব কম আলো আসছে আমাদের দিকে, সেগুলো কোনো তারা না-ও হতে পারে। হত‌ে পারে অন্য কোনো কিছু। তবে সেগুলো কী, তা এখনও আমরা বঝে উঠতে পারিনি। সামনে পূর্ণিমা। তাই আকাশ আলোয় ভরে থাকবে বলে এই অচেনাদের চেনার সুয‌োগ তখন পাব না। তবে পূর্ণিমা থেকে অমাবস্যার মধ্যে তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত জানবার সুযোগ আমরা পাব বলেই মনে হচ্ছে। তখনও তো চলবে লকডাউন!’’

বস্তুত মানুষের আধিপত্যের কারণে প্রকৃতি ছেড়ে লুকিয়েছে অনেক প্রাকৃতিক উপাদান। মানুষ আর কিছুদিন ঘরে থাকলে হয়তো এমন আরও অনেক কিছুর সাথে দেখা হবে। আবিষ্কার হবে এক নতুন পৃথিবীর। যে পৃথিবীতে ধুলো ময়লা আকাশে নয়! পড়ে থাকবে মাটিতে। আর মাটিতে লুটিয়ে পড়া সৃষ্টিগুলো মাথা উচু করে দাঁড়াবে আকাশ পানে।

এমআই