দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর সবচেয়ে মারাত্বক বিপর্যয়ে বিশ্ব

আগের সংবাদ

করোনায় আরো একজনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৩

পরের সংবাদ

করোনা বিপর্যয়

উন্নত দেশগুলোর কাছে সহায়তা চাইল জাতিসংঘ

প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২০ , ১২:১৫ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ১, ২০২০ , ১২:১৫ অপরাহ্ণ
ইউএনসিটিএডি

কভিড-১৯ মহামারী ভয়াবহ আকার ধারণ করার পর বিগত মার্চ মাসে জাতিসংঘের অনুমোদিত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএমএফের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছে ৮০টিরও বেশি দেশ। মহামারীর কারণে উন্নয়নশীল দেশুগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা নতুন করে ঋণ সংকটের মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক।

সেই সুবাদে সহায়তা প্রদানে এগিয়ে আসতে পশ্চিমা ধনী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। এরই অংশ হিসেবে ধনী দেশগুলোর কাছে ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারের (২ লাখ কোটি পাউন্ড) জরুরি প্রণোদনা প্যাকেজ চেয়েছে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক উইং ইউএন কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আঙ্কটাড)। নিজেদের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে উন্নত দেশগুলো বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করছে। ঠিক তেমনই দরিদ্র দেশগুলোকেও সহায়তার জন্যও যেন একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর গার্ডিয়ান।

ইউএনসিটিএডি’র মতে, করোনাভাইরাস মহামারী যে গতিতে উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোকে পতনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তা ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের চেয়েও বেশি। সংস্থাটির আশঙ্কা, এ ধাক্কা দ্রুত কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলকে (আইএমএফ) অর্থের জোগান দিতে বলেছে ইউএনসিটিএডি।

বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অর্থনৈতিক ধসের সুনামি’ হিসেবে বিবেচনা করছে জাতিসংঘ। এজন্য পশ্চিমা ধনী দেশগুলোকে তাদের নিজেদের মতো করেই উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর জন্য সহায়তা প্যাকেজ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

সংস্থাটির মহাসচিব মুখিশা কিতুয়ি বলেছেন, ‘মহামারীর কারণে অর্থনীতির অধঃগতি চলমান। এ অবস্থা কতদিন চলবে তা বলা কঠিন। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি দিন দিন আরো খারাপ হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

ইউএনসিটিএডি মনে করে, কভিড-১৯-এর কারণে স্বাস্থ্য খাতে যে সংকট তৈরি হবে, তা মোকাবেলা করার মতো যথেষ্ট সম্পদ ও সক্ষমতা উন্নয়নশীল দেশগুলোর নেই। এর সঙ্গে বৈশ্বিক মন্দা শুরু হয়ে গেলে এসব দেশের পরিণতি হবে ভয়াবহ।

আঙ্কটাডের গ্লোবালাইজেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজিসের পরিচালক রিচার্ড কোজুল-রাইট বলেছেন, ‘উন্নত দেশগুলো তাদের জনগণ ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচাতে ‘যা কিছু করা প্রয়োজন’ তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু তাদের ভুলে গেলে চলবে না যে তারা বৈশ্বিক ঐক্য সুসংহত করার কথাও বলেছেন। এ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গেলে জি২০ দেশগুলোকে শুধু নিজেদের কথা চিন্তা করলেই হবে না, এর বাইরে থাকা ৬০০ কোটি মানুষের কল্যাণের বিষয়টিও দেখতে হবে।

সংকট মোকাবেলায় বিশ্ব অর্থনীতিতে ৫ লাখ কোটি ডলারের বেশি অর্থসহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন গ্রুপ অব টোয়েন্টি বা জি২০ নেতারা। এছাড়াও দরিদ্র দেশগুলোকে সহায়তা করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন তারা।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়