অনুগ্রহ করে ঘরে থাকুন

আগের সংবাদ

করোনা মহামারি : সমসাময়িক পর্যালোচনা

পরের সংবাদ

করোনা মোকাবিলায় দেশেই তৈরি হবে ভেন্টিলেটর যন্ত্র

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ৩১, ২০২০ , ৮:০৬ অপরাহ্ণ

করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জীবন বাঁচাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র ভেন্টিলেটরের সংকট চলছে বিশ্বব্যপী। তবে বাংলাদেশে এ সংকট দেখা দেয়ার আগেই তা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিভাগ (আইসিটি)। চিকিৎসা যন্ত্রপাতি উৎপাদনকারী বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান মেডট্রনিকের পেটেন্ট করা ফর্মুলায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এসব যন্ত্র উদ্ভাবন করবে। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ) এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যায় সে চেষ্টা শুরু থেকেই আমরা করে আসছি। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হচ্ছে, দেশে স্বল্প খরচে ভেন্টিলেটর যন্ত্র তৈরি করা। তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে, করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে কারো কারো ফুসফুস কার্যকর রাখতে ভেন্টিলেটর যন্ত্রের সাহায্য নিতে হয়। যে কারণে বিশ্বে এর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই এখন প্রায় ৭ লাখ ভেন্টিলেটর প্রয়োজন। যদি আমাদের দেশেও পরিস্থিতি হঠাৎ খারাপের দিকে যায়, তখন আমরা কী করব?

পলক বলেন, আমাদের সৌভাগ্য যে এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের এক কৃতিসন্তান পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি হলেন বর্তমান ইনটেলের চেয়ারম্যান, ওমর ইশরাক। তিনি বিশ্বখ্যাত মেডিকেল প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেডট্রনিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং চেয়ারম্যানও। পিবি ৫৬০ মডেলের ভেন্টিলেটরটি মেডট্রনিকের পেটেন্ট করা পণ্য। কিন্তু এই পেটেন্ট তিনি উন্মুক্ত করে দিয়েছেন এ দেশের উৎপাদকদের জন্য। তারা যন্ত্রটি তৈরির সফটওয়্যার, হার্ডওয়ার, উৎপাদনের প্রযুক্তিজ্ঞান আমাদের দিচ্ছেন। উৎপাদকদের প্রশিক্ষণও দিবেন। এখন আমাদের কাজ হবে যতদ্রুত সম্ভব ভেন্টিলেটর তৈরি ও বাজারজাত করা। এরই মধ্যে যন্ত্রটি তৈরি করতে মিলিটারি ইনিস্টিটিউট অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনলজি (এমআইএসটি), ওয়ালটন, মাইওয়ান, ওরিয়নসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে বলে জানান তিনি।

কবে নাগাদ দেশে ভেন্টিলেটর যন্ত্র তৈরি করা যাবে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না কতদিনে আমরা তা উৎপাদন করতে পারব। তবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা ছাড়াও দেশের স্বাস্থ্যখাতের সক্ষমতা বাড়াতে এই যন্ত্র উৎপাদন একটি বড় ঘটনা হবে।

আইল্যাবের কর্মকর্তা ফারুক হাসান জুয়েল জানান, সাধারণত এক বছর গেলে যায় এ রকম একটি যন্ত্র আরএন্ডডি করে তৈরি করতে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেয়ার প্রয়োজন পড়ে। তবে আমরা আশা করছি দেড় মাসের মধ্যে দেশে এটি তৈরি করতে পারব। মূল্য সম্পর্কে তিনি বলেন, চাইনিজ ভেন্টিলেটর যন্ত্র ৭ লাখ টাকায় পাওয়া যায়। আবার আমেরিকার তৈরি যন্ত্রের দাম ৫০ লাখ টাকাও হতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে তৈরি হলে সেটির বাণিজ্যিক মূল্য দুই লাখের বেশি হবে না বলে আমরা মনে করছি।

ডিসি