বুক পেতে করোনাকে ঠেকাচ্ছেন মমতা

আগের সংবাদ

বিদেশফেরতদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করছে সেনা

পরের সংবাদ

দেশের সব

স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের পিপিই দেবে বিজিএমইএ

প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২০ , ২:৩১ অপরাহ্ণ আপডেট: মার্চ ৩০, ২০২০ , ২:৫৪ অপরাহ্ণ

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসক ও নার্সসহ চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিতদের সুরক্ষায় দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনামূল্যে পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) সরবরাহ করবে বিজিএমইএ। সোমবার (৩০ মার্চ) বিজিএমইএ থেকে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বিজিএমইএ এগিয়ে এসেছে। এ লক্ষ্যে বিজিএমইএ পিপিই ডাক্তার, নার্স ও হাসপাতাল কর্মীসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদেরকে সরবরাহ করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও বিজিএমইএ’কে পিপিই সরবরাহের অনুরোধ করেছে। এ মুহূর্তে বিতরণের উদ্দেশ্যে বিজিএমইএ প্রাথমিক পর্যায়ে ২০ হাজার পিপিই পোশাক তৈরির উদ্যোগ
নিয়েছে। এগুলো প্রথম স্তরের পিপিই (লেভেল-১) এর পরিপূরক হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে রুবানা হক বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসারত ডাক্তার ও কর্মীদের প্রয়োজন লেভেল ৩/৪ পিপিই। পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা স্বতঃপ্রনোদিত হয়ে যে পিপিই তৈরি করছেন, তা সনদপ্রাপ্ত নয়। এগুলো শুধুমাত্র শতভাগ পানিপ্রতিরোধী এবং এর নকশা পেশাজীবীরা যে ধরনের পিপিই ব্যবহার করেন, তার কাছাকাছি। এই পিপিই পোশাক সেইসব ডাক্তার ও স্বাস্থকর্মীদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে, যারা কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন আতঙ্কিত হয়ে। এই ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আশা করছেন, শুধুমাত্র যে করোনা উপসর্গধারী রোগীদের চিকিৎসাকালে পিপিই ব্যবহার হবে তা নয়, বরং তারা পেশাগত সব কর্মকান্ডে সুরক্ষা পাবেন।

তিনি বলেন, যেহেতু সম্মুখ সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের কোনো ধরনের সুরক্ষা নেই, তাই বিজিএমইএ নিজেদের সম্পদ দিয়ে তাদেরকে সহযোগিতা করার উদ্যোগ নিয়েছে। পিপিই এর ফেব্রিক্স ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে ইতোমেধ্যে বিজিএমইএ স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের স্বাস্থ্যসেবা এর মহাপরিচালক (ডিজিএইচএস) এর কাছ থেকে অনুমোদন নিয়েছে। ডিজিএইচএস বিজিএমইএ’র প্রস্তাবিত পিপিই-কে লেভেল-১ পরিপূরক হিসেবে অনুমোদন দিয়েছেন।

বর্তমানে বিজিএমইএ এর অনেক সদস্য প্রতিষ্ঠান ফেব্রিক্স দানে এগিয়ে এসেছে। এছাড়াও আরো অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের স্ব স্ব কারখানায় বিনামূল্যে পিপিই তৈরি করার বিষয়ে বিজিএমইএ’কে প্রস্তাবনাও দিয়েছে। এ প্রেক্ষিতে বিজিএমইএ পরিকল্পনা নিয়েছে এসব ফেবিক্স কেনার জন্য একটি তহবিল গঠন করার বিষয়ে। স্থানীয় অনেক বস্ত্র কারখানা, যারা কি-না বিজিএমইএ এরও সদস্য, তারাও কম দামে ফেব্রিক্স বিক্রি করে বিজিএমইএ এর পিপিই তৈরির সাথে একাত্মতা পোষণ করছে। বিজিএমইএ এই পিপিইগুলো ডিজিএইচএস সহ অন্যান্য সরকারি ও আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরবরাহ করবে। একই উদ্দেশ্যে বিজিএমইএ অন্যান্য এনজিও-দের সাথেও কাজ করছে, যেহেতু উভয়ের লক্ষ্য অভিন্ন। সাধারনত এদেশের পোশাক উদ্যোক্তাগন পিপিই প্রস্তুত করেন না।

তিনি আরো বলেন, সব মিলিয়ে বাংলাদেশী কারখানায় পিপিই তৈরি করার জন্য কমপক্ষে ৬ মাস অথবা এর অধিক সময় লাগবে। উদ্যোক্তারা বিকল্প উৎস হিসেবে চীন থেকে ফেব্রিক্স আনছেন। এতে করে লীড টাইম হিসেবে ১৫-২০ দিন লাগবে, যেহেতু বিমানপথে এখন দীর্ঘসূত্রীটা অনেক বেশি। যে মুহূর্তেএই আমদানিকৃত সার্টিফায়েড ফেব্রিক্স উদ্যোক্তাদের হাতে আসবে, তখনই তারা পিপিই তৈরিতে এই ফেব্রিক্স ব্যবহার করবেন।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়