করোনা আতঙ্কে বুড়িগঙ্গার বুকে নিরবতা

আগের সংবাদ

জাতীয় স্মৃতিসৌধ জনশূন্য

পরের সংবাদ

যা হয়েছিল ভয়াল সেই কালো রাতে

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ২৬, ২০২০ , ১২:২১ অপরাহ্ণ

১৯৭১ সালের ভয়াল সেই ২৫ মার্চ কালো রাতে বংলার ঘুমন্ত নিরীহ মানুষের ওপর চালানো হয়েছে বর্বর হত্যাযজ্ঞ। পুরো দেশ পরিণত হয়েছিলো লাশের স্তুপে। ভয়ে বাবা-মায়ের কোলে লুকিয়ে ছিল শিশুরা এবং শহর ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমায় অনেকে।

২৫ মার্চ সন্ধ্যায় গণহত্যার নির্দেশ দিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া চুপিসারে করাচির পথে ঢাকা ত্যাগ করেন। এই নির্দেশের নাম দেয়া হয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’। এটি বাঙালিদের জন্য ‘কালরাত্রি’। ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নামের এই পরিকল্পনাটি কার্যকর করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন ইস্টার্ন কমান্ডের কমান্ডার টিক্কা খান। তারই নির্দেশে ২৫ মার্চের মধ্যরাতের পর অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকবাহিনী।

বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দিয়ে পুরো শহরকে করা হয় অন্ধকার। প্রথমেই পুরো ঢাকা শহরে হামলা চালানো হয়। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হত্যা করে জগন্নাথ হল, রোকেয়া হলসহ বিভিন্ন জায়গায় গণকবর দেয়া হয়।

‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি লেখা থেকে জানা যায়, শুধুমাত্র পঁচিশে মার্চ রাতেই বাংলাদেশে প্রায় এক লক্ষ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, যা গণহত্যার ইতিহাসে এক জঘন্যতম ভয়াবহ ঘটনা।

মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইন ২৫ মার্চ রাত সর্ম্পকে এক লেখায় তিনি জানান, সে রাতে ৭ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, গ্রেফতার হলো আরো তিন হাজার জনকে। সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানজুড়ে হানাদার সৈন্যরা হত্যা করতে থাকে একের পর এক বাঙালিদের। জ্বালিয়ে দেয়া হয় ঘর-বাড়ি, লুট করা হয় দোকান-পাট। রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলো কাক- শেয়ালের খাবারে পরিণত হয়।

পাকিস্তানি হানাদাররা টার্গেট করে মূলত প্রসাশনে কর্মরত বাঙালি, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর বর্বর হামলা চালায়। ঢাকার রাজারবাগ ও পিলখানায় এবং চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোর ক্যান্টনমেন্টে পাকিস্তানি বাহিনী যথাক্রমে বাঙালি পুলিশ, ইপিআর এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (ইবিআর) সৈন্যদের গণহারে হত্যা করা হয়। ২৫ মার্চ কালো রাতে বাঙালি জাতির আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত আজকের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস।

এমএইচ