করোনা আক্রান্তদের সেবা করতে চান শিক্ষিকা

আগের সংবাদ

চীন থেকে পিপিই ও কিট দেশে আসছে আজ

পরের সংবাদ

করোনা মোকাবিলায় শিক্ষক-ইমামদের ভূমিকা

প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২০ , ১:০৬ অপরাহ্ণ আপডেট: মার্চ ২৬, ২০২০ , ১:০৯ অপরাহ্ণ

সারাবিশ্ব এখন করোনা ভাইরাসে আতঙ্কিত। চীনের উহান প্রদেশে ভাইরাসটি প্রথম আঘাত হানলে তা আজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের ১৯৮টি দেশে করোনা বিস্তৃতি লাভ করে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সারা বিশ্বে এ পর্যন্ত প্রায় ২১ হাজার ২৯৫ জন মানুষ মারা গেছেন। আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক লাখ। বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস হানা দিয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচজন মারা গেছেন। হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২৭ জন। এরই মধ্যে সারা দেশে ব্যাপক আতংক দেখা দিয়েছে।

সরকার করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো উন্নত বিশ্ব যেখানে ভাইরাসটি মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে আমাদের মত দেশে শুধুমাত্র সরকারের পক্ষে এই দুর্যোগ মোকাবিলা কোনো ভাবেই সম্ভব নয়। এজন্য দরকার ব্যাপক গণসচেতনা। জনগণকে সচেতন করতে না পারলে ব্যাপক জনসংখ্যা অধ্যুষিত বাংলাদেশে সরকারের একার পক্ষে এই মহাদুর্যোগ সামাল দেয়া খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

গণসচেনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে সমাজে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন তাদের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, মসজিদের ইমাম/খতিব, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সমাজের এই অংশটি সমাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব রাখেন। এক্ষেত্রে মিডিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে একথা অনস্বীকার্য এক্ষেত্রে শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম/খতিবদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে সব মিলিয়ে শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ১৪ লক্ষ। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিসহ শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে প্রায় ৫ কোটির অধিক মানুষ। শিক্ষকরা সম্মানীয় অংশ হিসেবে সমাজে সমাদৃত। তাঁরা সমাজ বিনির্মাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এদেশের শিক্ষক সমাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। একজন শিক্ষক যখন জনগণকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সতর্কতার ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন তা অধিক ফলদায়ক হবে। সাধারণ মানুষ শিক্ষকদের কথা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

শিক্ষক ছাড়াও মসজিদের ইমাম/খতিব কিংবা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরাও জাতির এই চরম দুর্যোগময় মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। বাংলাদেশে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ মসজিদ রয়েছে। এইসব মসজিদের ইমাম/খতিবরা সরাসরি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সাথে সম্পৃক্ত। সমাজে সকলেই তাদের শ্রদ্ধা ও সম্মানের চোখে দেখে থাকেন। এ সকল সম্মানিত ইমাম/খতিবরা সমাজে যথেষ্ট প্রভাব রাখেন। তাঁরা যখন কোন বিষয়ে মতামত প্রদান করেন, সমাজ তা সহজেই গ্রহণ করে। করোনা ভাইরাসের এই দুর্যোগময় সময়ে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে গণসচেতনা সৃষ্টির মাধ্যমে ধৈর্যের সাথে তা মোকাবেলা করার জন্য সমাজে ইমাম/খতিবরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

করোনা ভাইরাসের এই দুর্যোগময় মুহূর্তে জনগণ আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক পরিমাণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী সংগ্রহ করতে গিয়ে বাজার অস্থির করে তুলেছে। এক শ্রেণির সুবিধাবাদী ব্যবসায়ী এ সময় রাতারাতি চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি করে অধিক মুনাফা লাভের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। যে সময় দেশের সকল শ্রেণির পেশার মানুষের সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেয়া উচিত, সেই মুহূর্তে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অনৈতিক প্রতিযোগিতা রোধে শুধু সরকারের একার পক্ষে সামাল দেয়া সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সর্বসাধারণের দেশ প্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সহযোগিতা বাড়িয়ে দেয়া। এ ক্ষেত্রেও দেশের শিক্ষক সমাজ ও মসজিদের ইমাম/খতিব, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, মিডিয়া এবং সুশীল সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

দেশের এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তারদের কাজে লাগানো যেতে পারে। দেশে অনেক অভিজ্ঞ ও সক্ষম ডাক্তার আছেন। তাদের সরকারি উদ্যোগে এবং ব্যবস্থাপনায় করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসা ক্ষেত্রে এসব প্রবীণ ডাক্তারদের লব্দ অভিজ্ঞতা এই দুর্যোগে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে।

বাংলাদেশ করোনা ভাইরাস এখনো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে না পড়লেও, ছড়িয়ে পড়ার আশংকায় সরকার তার সাধ্যমত বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তথাপিও এক শ্রেণির মানুষের অপপ্রচার, মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনমনে আতংক সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা বেছে নিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেহেতু এখন অনেক শক্তিশালী সেহেতু এসব অপপ্রচারে জনগণ বিভ্রান্ত হচ্ছে। যা কোনোভাবেই কাঙ্খিত নয়। এই মুহূর্তে উচিত সকল রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে গিয়ে সম্মিলিতভাবে দলমত নির্বিশেষে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায়া দেশের এই দুর্যোগ মোকাবেলা করা। তবে আশার কথা হলো দেশি বিদেশি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে চীনের বিপুল চিকিৎসা সামগ্রীসহ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার প্রেরণ, একটি বিদেশি পোষাক তৈরি কোম্পানী বিপুল সংখ্যক পারসোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) বাংলাদেশে তৈরির উদ্যোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় চাই জাতীয় ঐক্য। আমাদের সকলের মনে রাখতে হবে দেশটা আমাদের সকলের। যে জাতি যুদ্ধ করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে, সে জাতি কোন দুর্যোগের কাছে পরাজিত হতে পারে না। এ জন্য প্রয়োজন সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। করোনাকে ভয় নয়, সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাকে জয় করতে হবে।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ ও সচিব, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট, শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়