সভ্যতাকে স্তম্ভিত করে দেয়া গণহত্যা

আগের সংবাদ

অগ্রগতি নেই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে

পরের সংবাদ

করোনায় ঝুঁকি এড়াতে টেলি স্বাস্থ্যসেবা বাড়ছে

সেবিকা দেবনাথ

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ২৫, ২০২০ , ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ

করোনা আতঙ্কে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে সামাজিক বিচ্ছিন্নকরণ কার্যক্রম। চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বার ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মানুষ ছুটছেন সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগে। জ্বর-সর্দি নিয়ে যেসব মানুষ হাসপাতালে ছুটছেন তাদের অনেকেরই অভিযোগ তারা সেবা পাচ্ছেন না। কিন্তু সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, প্রতিদিন বহির্বিভাগে যেসব রোগী আসছেন তাদের অধিকাংশই জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে আসছেন। এতে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে তারাও ঝুঁকিতে পড়ছেন। এ প্রেক্ষাপটে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে এবং রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় টেলিমেডিসিন পদ্ধতিতে অর্থাৎ ফোনে বা অনলাইন প্লাটফর্মে চিকিৎসা দেয়ার কথা বলছেন গবেষক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

এই তাগিদ থেকেই বিশেষ এক উদ্যোগ নিয়েছে রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতাল। এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার রোগী আসে। তাদের সঙ্গে আসে স্বজনও। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আজ বুধবার থেকে মোবাইল ফোনেই রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দেবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শুধু স্বাস্থ্য সেবা নয়, মিলবে কোভিড-১৯ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য, এই ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় কী, সেই বিষয়ক পরামর্শও। স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর উদ্যোগ এবং সহযোগিতায় এই সেবা কার্যক্রম চালু হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী ভোরের কাগজকে বলেন, কোভিড-১৯ প্রতিরোধে জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার মানুষ যদি একই স্থানে থাকে, তা জনসমাগমই। আমরা ভিড় কমাতে চাই। রোগীদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে চাই। তাই হাসপাতালে চালু করা হচ্ছে ‘টেলিহেলথ’ পদ্ধতি। দুটি বিশেষ নাম্বারে ২৪ ঘণ্টায় মিলবে স্বাস্থ্যসেবা, পরামর্শ ও তথ্য। এতে ঘরে বসেই মানুষ তার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবেন।

টেলিমেডিসিন সেবা প্রসঙ্গে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোস্তাক হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, আইইডিসিআর এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ইতোমধ্যেই ১৭টি হট লাইন এবং একটি হান্টিং নাম্বার চালু করা হয়েছে। প্রতিদিনই সেখানে মানুষ ফোন করছে। আমরা শ^াসকষ্ট, হাঁপানি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ হলে হটলাইনে (১৬২৬৩ ও ৩৩৩) অথবা টেলিফোনে চিকিৎসকের পরামর্শ দেয়ার অনুরোধ করছি। এছাড়া সাধারণ সর্দি-কাশি হলে হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

করোনা ভাইরাসবিষয়ক এবং সাধারণ সর্দি-কাশি ও জ¦রের চিকিৎসার জন্য ঘরে বসে চিকিৎসকের পরামর্শ পেতে ১৬২৬৩, ৩৩৩ এবং আইইডিসিআরের হটলাইন ০১৯৩৭-১১০০১১, ০১৯৩৭-০০০০১১. ০১৯২৭-৭১১৭৮৪ এবং ০১৯২৭-৭১১৭৮৫ নম্বরে ফোন করার পরামর্শ দিচ্ছি। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ ভোরের কাগজকে বলেন, সাধারণ জ্বর-সর্দি নিয়ে মানুষ আতঙ্কিত এ কথা সত্য। তবে সবাই যে নতুন এই ভাইরাসে সংক্রমিত তাতো নয়। কিন্তু মানুষ এতটাই আতঙ্কিত যে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই ওই ব্যক্তি এবং তার আশপাশের মানুষ ধরে নিচ্ছে তিনি করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত। ফলে মানুষ হাসপাতালে ছুটছে। আইইডিসিআর হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করে হাসপাতালে এলে আক্রান্ত এবং চিকিৎসক উভয়েরই সুবিধা হয়।

ঢামেকে বন্ধ হলো ফ্লু কর্নার : এদিকে ঢামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগে জ্বর, হাঁচি, কাশি, মাথাব্যথা ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য আলাদাভাবে চালুকৃত সেবাকেন্দ্রটি বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমে গেছে, এমন অজুহাতে পৃথক এ সেবা কেন্দ্রটি গত সোমবার থেকে বন্ধ রয়েছে। বন্ধের পর কোথায় কোন বিভাগ থেকে এ ধরনের রোগীরা সেবা পাবেন, সে সংক্রান্ত কোনো বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়নি। চিকিৎসা নিতে এসে অনেক রোগীকে ফিরে যেতে হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন জানান, রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় তারা এ পৃথক সেবাকেন্দ্রটি বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে আগের মতো জ্বর, হাঁচি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের রোগীরা আউটডোরে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন। এদিকে শিগগিরই হটলাইন নম্বর চালুর পাশাপাশি অনলাইনে সেবা দেয়ার কথা জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এর আগে ২২ মার্চ এক বিবৃতিতে করোনা চিকিৎসায় ফ্রি টেলিমেডিসিন সেবা চালুর আহ্বান জানিয়েছিল বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন।

এমএইচ