প্রবাসীরা থানায় যোগাযোগ না করলে আইনি ব্যবস্থা

আগের সংবাদ

পুরোপুরি 'আইসোলেসনে' যাচ্ছে ঢাবি ক্যাম্পাস

পরের সংবাদ

সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে দেশে ঢুকছেন বাংলাদেশিরা

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ২৪, ২০২০ , ১:২৮ অপরাহ্ণ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে অবৈধভাবে আসছেন ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা। এর মধ্যে সে দেশের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া কয়েকজনও রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১০ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের নির্দিষ্ট ঘরের বাইরে না বেরোতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অপরদিকে এখন পর্যন্ত এখানকার আড়াই শতাধিক প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরে আসা প্রবাসীদের মধ্যে গত দুদিনে ১৫০ জনের বাড়ির সামনে লাল নিশানা তোলা হয়েছে। এসব প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী প্রাগপুর ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বেশকিছু মানুষ ভারতের কেরালা রাজ্যসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে দিনমজুরির কাজ করে আসছিলেন। করোনার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় তাদের সে দেশ থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে। এমনকি দেশটির কারাগারে বন্দি থাকা বাংলাদেশিদের বেশ কয়েকজনকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) রাতের আঁধারে তাদের সীমান্ত পথ দিয়ে ঠেলে পাঠাচ্ছে। ভারত থেকে অবৈধভাবে ফেরত আসা এ পর্যন্ত প্রায় ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে চিহ্নিত করেছে উপজেলা প্রশাসন। আইনি জটিলতার কারণে তাদের বাড়ির সামনে লাল নিশানা দেয়া না হলেও নির্দিষ্ট ঘরের বাইরে না বেরোনোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের শুধু একটি এলাকারই চার ব্যক্তি ভারতের দমদম কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে অবৈধভাবে দেশে চলে এসেছেন। এরা হলেন, মহিষকুণ্ডি পাকুড়িয়া সীমান্ত এলাকার ভিকু মণ্ডলের ছেলে আশরাফুল (২৮), জিন্নাত আলীর ছেলে বজলু (৩২), মৃত আব্দুল হান্নানের ছেলে সোনারুল (৩৭) ও কালু শেখের ছেলের নুরুল শেখ (৩৫)। এদের প্রথম তিনজন গত ২০ মার্চ এবং শেষের জন পরেরদিন ২১ মার্চ নিজ এলাকায় ফেরেন। রাতের আঁধারে বিএসএফ তাদের ঠেলে পাঠিয়ে দেয় বলে জানা যায়।

জেলার বৃহত্তম এ উপজেলার ৪৬ কিলোমিটার সীমান্তের ১৬ কিলোমিটার সীমান্ত উন্মুক্ত রয়েছে। যেখানে কাটাতারের বেড়া নেই। এই উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে ভারতের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে শ্রম দিতে যাওয়া দৌলতপুর সীমান্ত এলাকার অনেক মানুষ নিজ দেশে ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা সীমান্তের ওপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী থানা ও নদীয়া জেলার হোগলবাড়িয়া থানার বিভিন্ন এলাকার সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামে অবস্থান করছেন। রাতের অন্ধকারে তারা বিএসএফের সহায়তায় বাংলাদেশে চলে আসছেন বলে সীমান্তবর্তী গ্রামবাসী জানিয়েছেন।

অপরদিকে এ উপজেলার আড়াই শতাধিক প্রবাসী এখন পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন। বিভিন্ন দেশে থেকে ফিরে আসা লোকজনের মধ্যে গত দুদিনে ১৫০ জনের বাড়িতে লাল নিশানা তোলা হয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে এসব বাড়ির সামনে লাল নিশানা উঠিয়ে প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। সাধারণ মানুষের বোঝার স্বার্থে উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এসব প্রবাসীর বাড়িতে এই লাল নিশানা তোলা হয়। ১৪ দিনের সঙ্গরোধ নিশ্চিত করতে এই প্রবাসীরা প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তারের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজগর আলী এবং দৌলতপুর থানার ওসি এসএম আরিফুর রহমান পর্যাপ্ত ফোর্স নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের সতর্ক ও সচেতন করছেন। প্রবাসীরা যেন কোনোভাবেই ঘরের বাইরে বের না হন, হোম কোয়ারেন্টিনে থাকেন বা মেনে চলেন সেই জন্য নির্দেশনা দিচ্ছেন তারা। একই সাথে সাধারণ মানুষকেও করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন থাকতে নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এদিকে বিদেশ ফেরত অনেকেই প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে হাট-বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইওএনও) শারমিন আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ‘সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর জন্য বিজিবিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা সতর্কাবস্থায় রয়েছে। আমরা আমাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে জনসমাগম এড়িয়ে চলার জন্য গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এক সঙ্গে পাঁচজনের অধিক মানুষ দেখা গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

করোনার প্রভাবে নিত্যপণের মূল্যবৃদ্ধি রোধে বাজার মনিটরিংসহ করোনা ইস্যুতে এই মুহূর্তে সবচে’ বেশি ব্যস্ত থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজগর আলী জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ জন ভারতের কেরালা থেকে অবৈধ পথে ফেরত আসার তথ্য তার কাছে রয়েছে। তাদেরকে নজরদারিতে রেখে রাষ্ট্রীয় বিধি-বিধান মেনে চলতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর বিদেশ ফেরতদের মধ্যে বেশিরভাগই দুবাই, কাতার, মালয়েশিয়া প্রবাসী। ইউরোপের কমই রয়েছেন। তবে সব প্রবাসীকে ঘর থেকে না বেরিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

দৌলতপুর থানার ওসি এসএম আরিফুর রহমান বলেন, প্রতিদিনই কমবেশি প্রবাসী এলাকায় আসছেন। এ পর্যন্ত ২৪৭ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে গত দুই দিনে প্রায় দেড়শ জনের বাড়িতে লাল নিশানা তুলে দেয়া হয়েছে। অনেকে এলাকায় ফিরে এলেও পুলিশের কাছে তথ্য দিতে গড়িমসি করছেন। তাদের খুঁজে বের করতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

ডিসি