ট্রেন লাইনচ্যুত, ঢাকার সাথে পশ্চিম রেলের যোগাযোগ বন্ধ

আগের সংবাদ

আইসিসির সদর দপ্তর বন্ধ

পরের সংবাদ

টোকিও অলিম্পিক অনিশ্চিত

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ২৪, ২০২০ , ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বে করোনার যে পরিস্থিতি তাতে করে অলিম্পিক পিছিয়ে যাবে তা নিশ্চিত। গতকাল দুপুরের দিকে কানাডা ঘোষণা দেয় তারা টোকিও অলিম্পিক থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিবে যদি তা অন্তত ১ বছর না পেছানো হয়। এরপর খবর বের হয় অস্ট্রেলিয়ান অলিম্পিক ফেডারেশন তাদের অ্যাথলেটদের ২০২০-এর বদলে ২০২১ সালের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছে। এছাড়া এতদিন অলিম্পিক ঠিক সময়ে করার ব্যাপারে গো ধরে বসে থাকলেও গতকাল অন্য সুরে কথা বলেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। তিনি দেশটির পার্লামেন্টে বলেন, ‘অলিম্পিক পেছানো এখন অনিবার্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ অ্যাথলেটদের নিরাপত্তা সবার আগে’। দুটি দেশের এমন সিদ্ধান্ত ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর এখন নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, পেছাচ্ছে অলিম্পিক আসর। আর সেটি হবে ২০২১ সালে। যদিও এখনো অফিসিয়ালভাবে এই ঘোষণা আসেনি। তবে তা আসা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এছাড়া আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির কর্মকর্তাদের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠক শেষে জানানো হয়েছে তারা অলিম্পিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য ৪ সপ্তাহের সময় নিয়েছেন। ফলে এই সময় শেষেই ঘোষণাটা আসবে। আইওসির এই বৈঠক থেকে তাও নিশ্চিত করা হয়েছে অলিম্পিক বাতিল করার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের। কারণ এটি বাতিল করলে আয়োজক দেশ জাপানের অনেক ক্ষতি হবে। কিন্তু জাপানের মতো আইওসিও বলেছিল অলিম্পিক পেছানো হবে না। এমনকি গত ফেব্রুয়ারিতে তারা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল যে অলিম্পিক নির্ধারিত সময় ২৪ জুলাই শুরু হবেই। তারাও তাদের সুর পাল্টিয়েছে। ওআইসির সভাপতি থমাস বাচ মূলত চাইছিলেন সঠিক সময়েই হোক অলিম্পিক। কিন্তু গতকাল তিনি পেছানোর ব্যাপারেই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষের মূল্য অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি। এমনকি অলিম্পিকের চেয়েও। আমরা একটি অন্ধকার টানেলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা কেউই জানি না এই টানেলের শেষ কোথায়। আর অলিম্পিকের বাতি তখনই জ্বলবে যখন আমরা এই টানেলের শেষ প্রান্তে পৌঁছাব’।

জাপান চাচ্ছিল না অলিম্পিক পেছাতে। কারণ একে তো এটি তাদের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। আবার অলিম্পিক পেছালেও তাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। অলিম্পিক পেছাবে এটি মোটামুটি নিশ্চিত এখন প্রশ্ন জেগেছে পেছানোর পর কী হবে। কারণ একটি অলিম্পিকের সঙ্গে যুক্ত থাকে হাজার কোটি টাকার স্পন্সর, হাজার কোটি টাকার টিভি স্বত্ব। আর জাপান অলিম্পিক আয়োজনের জন্য যে অলিম্পিক ভিলেজ তৈরি করেছে তাও এ বছর শেষে বিক্রি করে দেয়ার কথা। সবকিছু ছাড়িয়ে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি সামনে এসেছে তা হলো ২০২১ সালে অলিম্পিক হলে কী অ্যাথলেটদের আবার নতুন করে কোয়ালিফাইয়ার খেলে আসতে হবে কিনা। যদিও ২০২০ সালের অলিম্পিকের ৪৩ ভাগ কোয়ালিফাইয়ার এই ভাইরাসের কারণে শেষ করা যায়নি। যদি ২০২১ সালকে সামনে রেখে আবার নতুন করে কোয়ালিফাইয়ার রাউন্ড হয় তাহলে যারা ইতোমধ্যেই কোয়ালিফাই করেছেন তারা আপত্তি তুলতে পারেন। এমনকি আইনি জটিলতায়ও পড়তে হতে পারে আইওসিকে।

আরেকটি সমস্যা হলো ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বসবে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়ন। অলিম্পিক ২০২১ সালে হলে এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে সংঘর্ষ হবে অলিম্পিকের। তাছাড়া জাপানে ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বিশ্ব অ্যাকুইটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ। ফলে এটির সঙ্গেও সংঘর্ষ হবে অলিম্পিকের। ফলে অলিম্পিক ছোট আকারে করতেও হতে পারে। আরেকটি বড় সমস্যা যেটি জাপানকে মোকাবিলা করতে হবে সেটি হলো অলিম্পিক ভিলেজ নিয়ে। অলিম্পিককে সামনে রেখে ৫ হাজার অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করা হয়েছে। ৪ বছর আগে চুক্তি হয় গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিক শেষে এগুলো বিক্রি করে দেয়া হবে। এখন অলিম্পিক শেষ হওয়ার পর এগুলো ক্রেতাদের কাছে বুঝিয়ে দেয়ার কথা রয়েছে। এখন ঠিক সময়ে অলিম্পিক না হলে ১১ হাজার অ্যাথলেটকে পরবর্তী বছরে কোথায় রাখবে জাপান?

ডিসি