অব্যবস্থাপনায় বাড়ছে হতাশা

আগের সংবাদ

করোনার প্রভাবে বেকার হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ

পরের সংবাদ

করোনায় বিপর্যস্ত বিশ্বের নেতৃত্ব এখন কার হাতে?

অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ২৪, ২০২০ , ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ

অজানা ভাইরাসে যখন পর্যুদস্ত হয়ে পড়ছে বিশ্ব, তখন প্রশ্ন উঠেছে এই সংকটে বিশ্ব নেতৃত্ব কার হাতে যাচ্ছে। স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার জায়গায় চীনের গুরুত্ব গড়ে উঠেছে অন্যভাবে। এই বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতে নতুন একটি বাস্তবতা তৈরি করেছে ‘করোনা’। এই ভাইরাস মোকাবিলায় সব দেশ যখন ‘কাহিল’ তখন আগামীতে বিশ্ব নেতৃত্ব কার হাতে যাবে তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে আলাদাভাবে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক নেতৃত্বে থাকলেও তারা ঠিকঠাকভাবে করোনা ইস্যুতে বৈশ্বিক নেতৃত্ব দিতে পারেনি। বরং চীনও ইউরোপের সমালোচনা করেছে। এ অবস্থায় করোনা থেকে নিজ দেশের সংকট কাটিয়ে ওঠার পর এখন বিশ্বজয়ের পথে রওনা দিচ্ছেন চীনের চিকিৎসাকর্মীরা। আর জাপান চাইছে, নির্ধারিত সূচি মেনেই আসন্ন অলিম্পিক গেমসকে ঠিকঠাকভাবে আয়োজন করে তাদের নেতৃত্বও অক্ষুণ্ন রাখতে। সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অতীতে ঘটে যাওয়া বড় যুদ্ধ বা মহামারির সময়ে বড় শক্তিগুলো একসঙ্গে ছিল। কিন্তু করোনার কারণে এখন পর্যন্ত তারা একসঙ্গে কাজ করছে না। যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত বৈশ্বিক নেতৃত্ব দিতে শুধু অপারগতাই দেখায়নি, করোনার প্রকোপের মধ্যেও তারা ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ভারত, যুক্তরাজ্য এবং রাশিয়া, ইউরোপের জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনের রাষ্ট্রপ্রধানরা নিজের দেশকে করোনামুক্ত করতে ব্যস্ত। এরমধ্যে চীন করোনা মুক্ত হতে যাচ্ছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, তারাও করোনা থেকে মুক্ত হচ্ছে।

জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ ভোরের কাগজকে বলেন, শুরু থেকেই করোনা ভাইরাসকে সিরিয়াসলি নেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। এখন স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, ট্রাম্পের কারণে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব দিতে পারছে না। সেক্ষেত্রে চীন এগিয়ে এসেছে ঠিকই, তবে গ্লোবাল লিডারশিপের পরিবর্তন হচ্ছে কিনা তা বলা সময়সাপেক্ষ। সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, করোনার কারণে বৈশ্বিক নেতৃত্বে একটি শূন্যতা ছিল

এবং সেই শূন্যতা পূরণে চীন এগিয়ে এসেছে। এর মাধ্যমে তারা বিশ্বকে দেখাচ্ছে, স্বাস্থ্য খাতের মতো জটিল একটি বিষয়েও তারা নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা রাখে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আমেনা মোহসীন বলেছেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে চীন প্রথম মোকাবিলা করায় তাদের অভিজ্ঞতা নেয়া যেতে পারে। কিন্তু এই মুহূর্তে বৈশি^ক নেতৃত্বের বিষয়টি ব্যবহার করা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চীন এখন বিশ্বের কাছে ‘করোনা মোকাবিলায় রোল মডেল’। করোনার উৎসস্থল চীনের উহান প্রদেশে গত তিন দিনে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়নি। এ অবস্থায় বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম চেয়ে চীনের দ্বারস্থ হচ্ছে করোনা আক্রান্ত দেশগুলো। তাদের আবেদনে সাড়াও দিচ্ছে চীন। গত এক সপ্তাহে ইতালি, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, কম্বোডিয়া, ফ্রান্স, স্পেন ও ভ্যাটিক্যান সিটিতে কয়েক কোটি সার্জিক্যাল মাস্ক, টেস্ট কিট, ভেন্টিলেটর পাঠিয়েছে চীন। এছাড়া ইরাক ও ইরানে করোনা বিশেষজ্ঞ টিম পাঠানো হয়েছে। করোনা মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কাকে ৫০ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বেইজিং।

বাংলাদেশকেও সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছে চীন। জানতে চাইলে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ড. শমসের মবিন চৌধুরী বলেছেন, করোনা থেকে উত্তরণের কারণে এখন বৈশ্বিক নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ চীনের হাতে চলে এসেছে। চীন এখন সেটা কাজে লাগাচ্ছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিশ্লেষক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জায়গায় চীন কখনোই যেতে পারবে না। কারণ চীন এই সময়ে যতই যা কিছু তৈরি করুক বিভিন্ন দেশে যদি তা বিক্রি করতে না পারে তাহলে এসব প্রস্তুত করে লাভ কি? নেতৃত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, গ্লোবাল লিডারশিপ অন্য জিনিস। করোনায় হয়ত চীন তার কৌশলগত কারণে এগিয়ে রয়েছে। তাই বলে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাপিয়ে কখনোই বৈশি^ক নেতা হতে পারবে না।

জানা গেছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণে বিপর্যস্ত ইউরোপকেই সবচেয়ে বেশি সহায়তা দিচ্ছে বেইজিং। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং করোনায় আক্রান্ত ইতালি ও স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোন আলাপে সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসিলা ভন ডার লিয়েন টুইটারে বলেন, চলতি সপ্তাহেই চীন ইউরোপের জন্য ২০ লাখ মাস্ক পাঠাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, জানুয়ারিতে চীনের সংকটকালীন সময়ে ইউরোপ চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠিয়েছিল। এখন আমাদের বিপদে তারা এগিয়ে আসায় আমরা কৃতজ্ঞ।

এমএইচ