ব্যক্তিগত আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়

আগের সংবাদ

মানুষের লাগি ঢেলে দিয়ে যাবো মানুষের দেয়া প্রাণ

পরের সংবাদ

করোনা ভাইরাসেও গুজব!

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ২৩, ২০২০ , ৮:২২ অপরাহ্ণ

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে পুরো বিশে^র সঙ্গে বাংলাদেশও উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা রয়েছে। এর মাঝে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে গুজব ও ভুয়া খবর। ইতোমধ্যে প্রশাসনও উদ্যোগী হয়েছে এদের দমনে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ধরনের অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গত ৩ দিনে অন্তত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ত্বরিত তৎপরতায় আমরা স্বস্তিবোধ করছি। জানা গেছে, করোনা ভাইরাস সম্পর্কে ফেসবুক আইডি, ইউটিউব চ্যানেল ও অনলাইন নিউজপোর্টাল থেকে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। অসৎ উদ্দেশ্যে দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওয়াজের নামে করোনা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এক মাওলানা ওয়াজের সময় করোনাকে বলেছেন ‘আল্লাহর সোলজার (সৈনিক)। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ওয়াজে তিনি করোনা নিয়ে এক যুবকের স্বপ্নের কথা বলছেন। স্বপ্নে পাওয়া তিনটি নির্দেশনা মানলে করোনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। মেডিসিনের অধ্যাপক এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘দোয়া পড়েন তাতে অসুবিধা নেই। তবে করোনা প্রতিরোধে চিকিৎসকদের দেয়া পরামর্শ এবং সতর্কতা মেনে চলি। আর যারা গুজব বা স্বপ্নের কথা বলছেন, তারা তাদের মনগড়া কথা বলছেন। তাহলে তো সৌদি আরব, ইরানের লোক আক্রান্ত হতো না। মুসলমানদের করোনা ভাইরাস আক্রমণ করত না। এখন বিজ্ঞানের যুগ। এই আধুনিক সমাজব্যবস্থায় যারা এ ধরনের গুজব ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় এনে গুজব ছড়ানোর মূল উদ্দেশ্যগুলো চিহ্নিত করতে হবে। গুজব রটিয়ে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত এক জামায়াত নেতা, কক্সবাজারের রামুতে গুজব ছড়িয়ে বৌদ্ধমন্দির ও বসতিতে আগুন দেয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও রংপুরে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা দূর অতীতের নয়। নিকট অতীতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-আন্দোলনকে কেন্দ্র করেও এমন অপকর্ম চালিয়েছিল কেউ কেউ। সোশ্যাল মিডিয়াগুলোকে গুজব ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম হিসেবে অনেকে ব্যবহার করছে। মানুষের মনস্তাত্তি¡ক বিষয়সমূহকে বিশ্লেষণ করে কীভাবে গুজব ছড়ানোর প্রবৃত্তি থেকে তাকে মুক্ত করা যায় এ বিষয়ে গবেষণা চলছে। আমাদের দেশেও সেটি হতে পারে। এ ধরনের গবেষণায় কোন কোন মনস্তাত্তি¡ক উপাদান মানুষকে গুজবে আকৃষ্ট হতে ও গুজব ছড়ানোর ক্ষেত্রে প্রভাবিত করে, সে উপাদানগুলো চিহ্নিত করে গবেষণার মাধ্যমে প্রতিরোধ করতে হবে। গুজব প্রতিরোধে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি জনগণের মাঝে গুজব সম্পর্কিত সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে। বড় ভ‚মিকা রাখতে পারে দেশের মূল স্রোতধারার গণমাধ্যমগুলো। যে কোনো ভুল তথ্যের সন্ধান পেলে প্রকৃত তথ্য দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব নিয়ে তারাই সবার আগে গুজব মোকাবিলায় জরুরি ভ‚মিকা রাখতে পারে বলে মনে করি। দেশের এই দুঃসময়ে সবাইকে সম্মিলিতভাবে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় দায়িত্বশীল হতে হবে।

এসএইচ