স্বেচ্ছায় গৃহবাসে তারকারা

আগের সংবাদ

ইতালিতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭৯৩ মৃত্যু

পরের সংবাদ

টোকিও অলিম্পিক নিয়ে সংশয়

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ২২, ২০২০ , ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ

করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় চারদিকে উড়ে বেড়াচ্ছে সংশয়ের মেঘ- মহামারিতে রূপ নেয়া এই ভাইরাসের কারণে স্থগিত হয়ে যেতে পারে এবারের টোকিও অলিম্পিক। তার ওপর আয়োজক দেশের উপপ্রধানমন্ত্রী এবারের ক্রীড়াযজ্ঞকে অভিশপ্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি কর্তৃক আয়োজিত আসন্ন ৩২তম অলিম্পিয়াড ২৪ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ৯ আগস্ট ২০২০ পর্যন্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে অলিম্পিকের তীর্থস্থান গ্রিসে অলিম্পিক মশাল হস্তান্তর অনুষ্ঠানও হয়ে গেছে গতকাল। যদিও খুবই সাদামাটা এক অনুষ্ঠানে গ্রিসের ক্রীড়ামন্ত্রী স্পাইরোস ক্যাপরোলাস অলিম্পিক মশাল জাপানের সাবেক সাঁতারু ইমোতো নাওকার হাতে তুলে দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও শঙ্কা রয়েছে সময়মতো টোকিওতে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে। কেননা জাপানের খোদ উপপ্রধানমন্ত্রী তারো আসো সংশয় প্রকাশ করে টোকিও অলিম্পিককে অভিশপ্তই বলে দিয়েছেন।

অবশ্য তারো আসোর উল্টোপাল্টা মন্তব্য করার ব্যাপারে আগে থেকেই একটা ‘খ্যাতি’ রয়েছে। তবে ১৮ মার্চ (বুধবার) সংসদীয় কমিটির কাছে টোকিও অলিম্পিককে অভিশপ্ত বলার পেছনে একটি যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন তিনি। তার মতে, ‘এটা একটা সমস্যা যা প্রতি ৪০ বছর পর পর ঘটে। ১৯৪০ সালে টোকিও আয়োজক হয়েছিল গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন অলিম্পিকের। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তা অনুষ্ঠিতই হতে পারেনি। এর ৪০ বছর পর ১৯৮০ সালে মস্কো যখন আয়োজক হলো অলিম্পিকের, সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান আক্রমণের প্রতিবাদে সেই অলিম্পিক বর্জন করল যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান এবং আরো কিছু দেশ।

জাপানের সব ক্রীড়া কর্মকর্তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিও (আইওসি) যখন বারবার বলে যাচ্ছে, অলিম্পিক পূর্বসূচি ও পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে, তখনই কিন্তু টোকিও আয়োজক কমিটিই করোনা- বাস্তবতার মুখোমুখি। টোকিও ২০২০ আয়োজক কমিটির প্রধান ইয়োশিরো মোরি সম্প্রতি এমন একজন সিনিয়র ক্রীড়া কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন যিনি নিজেই করোনা ভাইরাস পজিটিভ। তিনি টোকিও ২০২০ আয়োজক কমিটির উপপ্রধান কোজো তাশিমা।

অলিম্পিক পিছিয়ে ২০২১ সালে চলে যেতে পারে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে সাবেক চ্যাম্পিয়ন অ্যাথলেট বলেন, ‘এমন প্রস্তাব নেয়াটা খুবই সহজ কাজ। কিন্তু সদস্য ফেডারেশনগুলো সাধারণত তাদের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য অলিম্পিকের বছরটা এড়িয়ে চলে। আপনারা যে সময়ের কথা বলছেন, আগামী বছর ঠিক এই সময়েই ৬-১৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে হবে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ। ইউরোপিয়ান ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপও পিছিয়ে চলে গেছে আগামী বছর। সুতরাং যত সহজে পেছানোর কথা বলা যায়, তত সহজ কাজ এটি নয়। ক্রীড়াপঞ্জি আসলেই একটি জটিল বিষয়।’ জাপান এর আগে ১৯৬৪ সালে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক আয়োজন করেছিল এবং ২০২০ অলিম্পিকে টোকিও পঞ্চম শহর (এশিয়ার প্রথম) হবে যে দ্বিতীয়বার আয়োজনের সুযোগ পেয়েছে। এছাড়া টোকিও ২০২০ গ্রীষ্মকালীন প্যারালিম্পিকও আয়োজন করবে।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাস আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। এ কারণে জাপানে অলিম্পিকে আয়োজন স্থগিত হতে পারে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু এ ধরনের খবরের বিষয়ে এখনো সত্যতা মেলেনি।

ওদিকে আইওসির আমন্ত্রণে ২০২০ টোকিও অলিম্পিক দেখতে জাপান যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে বাংলাদেশ গেমসের আয়োজনে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনকে (বিওএ) নির্দেশনা দেয়ার সময় তিনি এ ইচ্ছে প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এসব কথা জানিয়েছিলেন বিওএ মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা।

এসআর