ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনের ভোটের চিত্র

আগের সংবাদ

ঢাকা-১০ উপনির্বাচনের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন বিএনপি প্রার্থী শেখ রবিউল আলম

পরের সংবাদ

যেভাবে কাটছে গোলরক্ষক রানার সময়

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ২১, ২০২০ , ১২:৪৩ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ ফুটবল দলের বর্তমান প্রধান গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা। ২০১৫ সালে নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে লাল-সবুজের হয়ে অভিষেক হয় তার। মানিকগঞ্জে জন্ম নেয়া এই গোলরক্ষক পালন করেছেন জাতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব। জাতীয় দলের পাশাপাশি তিনি খেলেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের হয়ে। বর্তমানে দলটির অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। বিশ্বজুড়ে এখন চলছে করোনার আতঙ্ক। ফলে বিশ্বব্যাপী বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরনের খেলাধুলা। গতকাল ভোরের কাগজ পাঠকদের তিনি জানিয়েছেন কেমন কাটছে দিনগুলো। রানার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মো. তানভীরুল ইসলাম।

এমন পরিস্থিতিতে তার দিনটা কেমন করে শুরু হয় এই প্রশ্নের জবাবে রানা জানান তার দিন শুরু হয় ফজরের নামাজের মধ্য দিয়ে। এরপর সাড়েন সকালের নাস্তা। লিগ চলাকালীন সময়ে কোচের মর্জি অনুযায়ী সকালে শেখ রাসেল দলের সঙ্গে অনুশীলন করতেন। কিন্তু বর্তমানে যেহেতু লিগ বন্ধ তাই সকালে অনুশীলন করেন না। ফলে এই সময়টা বেকার কাটান তিনি। করোনা ভাইরাসের উৎপত্তির আগে সময় থাকলে সকাল বেলা অন্য কাজগুলো করতেন। কিন্তু বর্তমানে খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ক্লাবেই থাকেন তিনি।

এরপর দুপুর বেলা জোহরের নামাজ পড়েন ক্লাবেই। সেখানে দুপুরের খাবার গ্রহণ শেষে নেমে পড়েন অনুশীলনে। টানা অনুশীলন চালিয়ে যান বিকাল পর্যন্ত। করোনার কারণে প্রিমিয়ার লিগের কয়েকটি ক্লাব অনুশীলন বন্ধ করে দিলেও অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে শেখ রাসেল। ফলে দলের সবাই একসঙ্গে অনুশীলন করেন।

শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রে বর্তমানে খেলছেন ৩ জন বিদেশি। তারা সবাই স্থানীয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। করোনা ভাইরাস নিয়ে তারা আতঙ্কগ্রস্ত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রানা জানান, যে ৩ জন এখন ক্লাবের হয়ে খেলছেন তারা বাংলাদেশকেই এখন নিরাপদ ভাবছেন। তাই নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার চেয়ে এখন বাংলাদেশেই থাকছেন তারা। আর যেহেতু ক্লাব অনুশীলন বন্ধ করেনি তাই তারাও নিয়মিত অনুশীলনে যোগ দিচ্ছে।

দুপুর থেকে প্রায় সন্ধ্যা হওয়ার আগ পর্যন্ত অনুশীলন করেন রানা। এরপর অনুশীলন শেষে খানিকটা বিশ্রাম নেন তিনি। অনুশীলনের পরের সময়টা কীভাবে কাটে এমন প্রশ্নে তিনি জানান সন্ধ্যার সময় মাগরিবের নামাজ আদায় করে এরপর ক্লাবেই থাকেন। সন্ধ্যার হালকা নাস্তা শেষে সেখানে সতীর্থ খেলোয়াড়দের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন। তাদের আড্ডায় থাকে ফুটবল ও সমসাময়িক বিষয়। বর্তমানে অন্য সবার মতো করোনা নিয়েও কথাবার্তা বলেন তারা। ক্লাবের কাছে বাসায় হওয়ায় সতীর্থদের সঙ্গে আড্ডা শেষে বাসায় ফেরেন তিনি। স্বাভাবিক সময়ে রাতে অন্য কাজে বাইরে বের হলেও এখন সরাসরি ক্লাব থেকে বাসায় ফেরেন তিনি। ঘরে কোনো কাজ না থাকলে তাড়াতাড়ি ঘুমোতে চলে যান।

করোনা নিয়ে রানাও অন্য সবার মতো একটু চিন্তিত। কারণ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে ভক্তদের উদ্দেশ্যে জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য এ গোলরক্ষক বলেন, আমি সবাইকে বলতে চাই কেউ আতঙ্কিত হবেন না। আতঙ্কিত না হয়ে সবার সচেতন হতে হবে। কারণ সচেতনাই এখন একমাত্র উপায়। সচেতন থাকলে সুস্থ থাকা সম্ভব।

সচেতনতার অংশ হিসেবে রানা বলেছেন খুব জরুরি কাজ না হলে বাসা থেকে বের না হতে। আর যদি বাসা থেকে বের হওয়ার প্রয়োজন হয় তাহলে ফিরেই ভালো করে হাতমুখ ধুয়ে নিতে হবে। প্রয়োজন হলে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করার কথাও বলেছেন তিনি।

এমএইচ