করোনা সতর্কতায় বন্ধ হলো ইবির প্রশাসনিক কার্যক্রম

আগের সংবাদ

১৬ হাজার ভোটেই বিজয়ী আ.লীগের শফিউল

পরের সংবাদ

তারুণ্যের চোখে বঙ্গবন্ধু

জুবায়ের আহমেদ

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ২১, ২০২০ , ৯:০০ অপরাহ্ণ

গত ১৭ মার্চে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে সারাদেশে। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালি জাতির মুক্তির দিশারী। তিনি সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার পাশাপাশি দেশ ও জাতির জন্য সর্বস্ব দিয়ে কাজ করেছেন, পৃথিবীর বুকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে একটি স্বাধীন দেশ, বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেও তিনি স্বজাতির দ্বারা যে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তৎপ্রেক্ষিতে একজন তরুণ দেশপ্রেমী সচেতন নাগরিক হিসেবে একটি কথাই বলতে হয় বাঙালি তাদের শ্রেষ্ঠ সন্তানকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারেনি কখনোই।

শিশুকাল থেকেই দেশের জন্য ভাবতেন বঙ্গবন্ধু, ব্যক্তিজীবনে ছিলেন লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে। শিশু মুজিব অসহায় ও দরিদ্র ছাত্রদের শিক্ষাগ্রহণের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন, পাড়া-মহল্লা থেকে চাল সংগ্রহ করে তিনি অনেকের পড়ার খরচের ব্যবস্থা করেছেন, শিশু মুজিবের সে মহান কাজ দরিদ্র অসহায় ছাত্রদের শিক্ষাগ্রহণে আগ্রহী করে তোলেছে, মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসতে হয় সে শিক্ষার উদাহরণ তৈরি হয়েছে। ১৯৩৯ সালে মিশনারি স্কুলে পড়ার সময়েই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আলাদা মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের কার্যক্রম থেকে শুরু করে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনসহ প্রতিটি ধাপে ধাপে নিজের মেধা ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতা এবং দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়ে এগিয়েছেন।

১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের আহ্বানে অনুষ্ঠিত একটি সর্বদলীয় সম্মেলনে মুজিবুর রহমান ছয় দফাসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি মেনে নেয়ার আহ্বানে জানান, কিন্তু মুজিবুর রহমানের সে আহ্বানে মানার ফলে তিনি সে সম্মেলন থেকে বের হয়ে এসে ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় ঘোষণা করেন যে, এখন থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে ‘বাংলাদেশ’ নামে অভিহিত করা হবে : “একটা সময় ছিল যখন এই মাটি আর মানচিত্র থেকে ‘বাংলা’ শব্দটি মুছে ফেলার সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। ‘বাংলা’ শব্দটির অস্তিত্ব শুধু বঙ্গোপসাগর ছাড়া আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যেত না। আমি পূর্ব পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আজ ঘোষণা করছি যে, এখন থেকে এই দেশকে ‘পূর্ব পাকিস্তানের’ বদলে ‘বাংলাদেশ’ ডাকা হবে।” শেখ মুজিবুর রহমানের এই ঘোষণার ফলে সারাদেশে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পশ্চিম পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ এবং সামরিক কর্তারা তাঁকে একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হিসেবে মূল্যায়ন করতে শুরু করেন। তথাপিও দমে যাননি শেখ মুজিবুর রহমান। দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য, অধিকার আদায়ের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে নির্মম হত্যাকাণ্ডের পূর্বে ভারত, আমেরিকা, কানাডাসহ বহু দেশ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর আক্রমণ হতে পারে, সে বার্তা দিলেও বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করেছিলেন তার অফিসারদের। তিনি বলেছিলেন সবাই তার সন্তান, তারা এমন কাজ করতেই পারে না। তিনি আরো বলেছিলেন প্রাণের ভয়ে তিনি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নেবেন না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর শেষ বিশ্বাসকে ধুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে ১৫ আগস্ট রাত্রি বেলায় নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল। দেশের মানুষের জন্য ভাবনা, সব কর্মকাণ্ড এবং আত্মত্যাগ মিলিয়ে সহজেই বলা যায় পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম সেরা দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

মুজিববর্ষে স্বপ্ন দেখি একদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রত্যাশিত স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়বে তরুণরা। বাঙালি জাতির জনকের আদর্শের রাজনীতির বাহক হবে তরুণরা, যারা দেশের তরে বঙ্গবন্ধুর মতোই নিঃস্বার্থে কাজ করবে, অহংকার মুক্ত থাকবে, মানুষের সঙ্গে মানুষের ভেদাভেদ না করে সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করবে। হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাক্সিক্ষত সোনার বাংলাদেশ গড়তে তরুণরা সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। তরুণরা জেগে উঠলে, বাংলাদেশ সারা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেই।

শিক্ষার্থী, বিজেম, ঢাকা।
[email protected]

এসআর