প্রস্তুতির ফাঁকফোকর বের করলেন জেলা প্রশাসকরা

আগের সংবাদ

বাজার ভারসাম্যহীন না করার পরামর্শ

পরের সংবাদ

মাতৃভাষায় সন্তুষ্ট মোস্তাফিজ

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ২০, ২০২০ , ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ

ভারতের জমজমাট ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ২০১৬ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলার সুযোগ পান মোস্তাফিজুর রহমান। এর আগের বছর ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। অভিষেকেই দারুণ ঝলক দেখান তিনি। আর তার পুরস্কারস্বরূপ তিনি আইপিএলে খেলার সুযোগ পান। তবে তিনি যখন আইপিএলে খেলতে যান তখন তিনি ইংরেজিতে কথা বলতে পারতেন না। আর শুধু তার সুবিধার জন্য দোভাষী নিয়োগ দিয়েছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথ চলা শুরু করার পর ইতোমধ্যে ৫ বছর পার করে ফেলেছেন তিনি। কিন্তু এখনো ইংরেজিতে সাবলীল হতে পারেননি কাটার মাস্টার। তবে এ নিয়ে মোস্তাফিজের কোনো আক্ষেপ নেই। উল্টো নিজের মায়ের ভাষা বাংলাকেই এগিয়ে রাখলেন তিনি। তার কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল বিশ্বের অনেক ক্রিকেটারই সময়ের সঙ্গে বদলে যান। শুরুতে ইংরেজি না পারলে পরে বেশ ভালোভাবে রপ্ত করে নেন। কিন্তু আপনি সেভাবে পারছেন না? এমন প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফিজ জানান এসব নিয়ে তার একটু আফসোস, হতাশা বা আক্ষেপ নেই। তিনি যেভাবে আছেন তাতেই সন্তুষ্ট। এ নিয়ে মোস্তাফিজ বলেন, ‘আমি যেভাবে আছি সেভাবেই থাকতে পছন্দ করি। অন্য কারো কথা নিয়ে ভাবছি না। বাংলায় কথা বলা এটা আমার মা শিখাইছে ভাই’।

এদিকে ২০১৫ সালে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে এসেই দ্যুতি ছড়ান মোস্তাফিজুর। কিন্তু বছর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলেন। এজন্য অবশ্য ইনজুরি সবচেয়ে বেশি দায়ী। পেসাররা ইনজুরিতে পড়েন এটা স্বাভাবিক। তারা আবার সেরেও ওঠেন। কিন্তু মোস্তাফিজ ইনজুরিতে পড়ার পর তার সবচেয়ে বড় অস্ত্র কাটার হারিয়ে ফেলেন। আর এই কাটারের অভাবে তার বলের ধারও কমে যায়। তাছাড়া এখন বর্তমানে তিনি ইয়র্কার দিতেও আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন বলে জানিয়েছেন। এর কারণ এই ইনজুরি। প্রথমদিকে মোস্তাফিজের বল খেলতে যেখানে ব্যাটসম্যানদের পা কাঁপত সেখানে তিনি নিয়মিত রান খরচ করেন। আর তাই তো জাতীয় দলে জায়গা ধরে রাখা তার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। কয়েকদিন আগে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতে বাংলাদেশ। আর সেই দলের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপের পরও বেশ ভালো খেলছে। এরমধ্যে অন্যতম হলো পেসার শরিফুল ইসলাম। আর তাই এটি মোস্তাফিজের জন্য আরো বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই চ্যালেঞ্জকে স্বাগত জানিয়েছেন মোস্তাফিজ। এ নিয়ে মোস্তাফিজ বলেন, ‘নতুন কেউ উঠে এলে বরং ভালো। তাতে একটা প্রতিদ্ব›িদ্বতা তৈরি হয়। ভালো করার তাগিদও বাড়ে’। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা তো আজীবন খেলব না।

আমি ২১ বছর বয়সে ঢুকছি। এখন শরিফুলের বয়স ১৯। আরো ২ বছর যদি আমি খেলি তাহলে ৭ বছর হয়ে যাবে আমার জাতীয় দলের ক্যারিয়ার। মানে পেছনে তো আসা লাগবে কারও। আমাদের জন্য তো ভালো। এখন আমার কথা হলো উপরে একটা গোল আছে যে কে থাকবে? যে ভালো করবে সে থাকবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবাইকে দিয়ে যদি ভালো হয়, সবার জন্যই ভালো। আমিও চাইব ভালো করতে। অন্যরাও চাইবে ভালো করতে’।

এসআর