করোনায় প্রমোদতরী হচ্ছে ভাসমান হাসপাতাল

আগের সংবাদ

বধূ মিছে মান ‘করো না’

পরের সংবাদ

করোনায় গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ২০, ২০২০ , ৯:১২ অপরাহ্ণ

আমাদের দেশের এক শ্রেণির রাজনীতিবিদের কথা শুনলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলি। কথায় বলে নাÑ অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর। আমাদের অবস্থাটাও এ রকমই। সারা পৃথিবীর মানুষ এখন করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে ভুগছে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার সংবাদ পাঠ করলে বুঝা যায় যে, এই করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে যেভাবে পৃথিবীর মানুষ কাতর হচ্ছে, সেই অনুপাতে মৃত্যুর হার খুবই কম। এক সংবাদ ভাষ্যে বলা হয়, করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর হার এখন পর্যন্ত ২ শতাংশ। আবার বলা হচ্ছে, এই ভাইরাসের এমন অনেক রোগী হয়তো আছেন, যারা হাসপাতালে যাননি। যাদের হিসাব হয়তো যথাযথ কর্তৃপক্ষ রাখেননি। সেই সব রোগী বাড়িতেই প্রাণ হারিয়েছেন। সেই হিসাবে অর্থাৎ বাড়িতে যারা করোনা ভাইরাসের ছোবলে প্রাণ হারিয়েছেন তাদের সংখ্যা হবে ১.৪ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী বলা যায় করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর হার হবে ৩.৪ শতাংশ। কেন জানি মনে হয় একটি মহল সচেতনভাবেই করোনা ভাইরাসের ভয়ঙ্কর আতঙ্ক সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিচ্ছে। চীন থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ থাকলেও, চীন কিন্তু আপৎকালীন সময়ের জন্য করোনা ভাইরাসের রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য যেসব হাসপাতাল তৈরি করেছিল, সেসব হাসপাতাল এখন তুলে নিচ্ছে। চীনে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। অর্থাৎ তাদের দেশে ক্রমান্বয়ে রোগ নিরাময় হয়ে যাচ্ছে।
করোনা ভাইরাস নিয়ে দেশের মাঝে এখন নোংরা রাজনীতি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। কেউ কেউ অর্থাৎ একশ্রেণির দায়িত্বহীন রাজনীতিবিদ অভিযোগ করছেন সরকার দেশের মানুষকে এই করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে অন্ধকারে রাখছে। সরকার নিজেদের স্বার্থে করোনা ভাইরাসের রোগী দেশে থাকা সত্তে¡ও শনাক্ত করছে না। মুজিববর্ষে বিদেশি অতিথিরা আসবে তাই সরকার করোনা ভাইরাস নিয়ে সক্রিয় হচ্ছে না। কিন্তু যখন দেখা গেল সরকার করোনা ভাইরাসের মতো ভয়ঙ্কর ভাইরাসের যাতে প্রাদুর্ভাব না ঘটে, সে ব্যাপারে তাদের দায়-দায়িত্ব পালন করতে শুরু করল, দেশের মানুষকে বিভিন্নভাবে করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিতে লাগল, তখনই বিরোধী রাজনীতিবিদরা এ বলে চিৎকার শুরু করলেন যে, মুজিববর্ষে বিদেশি অতিথিরা আসবেন না তাই সরকার এখন করোনা ভাইরাস নিয়ে সক্রিয় হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের রোগীদের ব্যাপারে খবরাখবর নিচ্ছে। এত দিন নিজেদের স্বার্থে সরকার জীবনঘাতী করোনা ভাইরাস নিয়ে কথাবার্তা বলতে চায়নি। পাঠক-পাঠিকা আমার একবার চিন্তা করে দেখুন এসব আত্মঘাতী রাজনীতিবিদরা নিজেদের স্বার্থে দেশের ভাবমূর্তিটুকু কোন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের নীতিহীন রাজনীতিবিদদের অভিযোগটার যদি আমরা বিচার-বিশ্লেষণ করতে যাই, তাহলে দেখব তাদের এসব অভিযোগ প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়।
আমরা দেশের মানুষ ভালো থাকতে চাই। আমরা দেশের মানুষ নোংরা রাজনীতি থেকে মুক্তি চাই। ক্ষমতার রাজনীতি করতে গিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কর্মকাণ্ড আমরা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে আশা করি না। আমাদের নেতাদের মনে রাখতে হবে ব্যক্তি, দল এবং ক্ষমতার রাজনীতি থেকে আমার এই মাতৃভ‚মির অবস্থান অনেক ওপরে। এ কথা তো সবাই স্বীকার করব মাতৃদুগ্ধ পান করতে গেলে মাকে বেঁচে থাকতে হবে। ঠিক তেমনি দেশে সুস্থ রাজনীতির ধারা প্রবাহিত হলেই দেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি দেশ এবং দেশের বাইরে অধিক থেকে অধিকতর উজ্জ্বল হবে। দেশের মানুষ এমনিতেই অনেক সমস্যার জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে। দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে যদি আমাদের নেতারা কথা বলেন তাহলেই কেবল দেশের মানুষ তাদের সাধুবাদ জানাবে। করোনা ভাইরাসের মতো জীবনঘাতী ভাইরাস নিয়ে নোংরা-পচা রাজনীতি করে শুধু দেশের মান-সম্মানই নষ্ট করা যাবে। দেশের জন্য তা কোনো রকম সুখবর নিয়ে আসবে না। তাই বলছিলাম, একশ্রেণির বিরোধী রাজনীতিবিদের উচিত হবে করোনা ভাইরাস নিয়ে নেতিবাচক রাজনীতি না করে দেশের বিভিন্ন অফিস চত্বরে যে দুর্নীতির বাজার বসছে তা নিয়ে কথা বলা। অবশ্য যে দুর্নীতির বাজার আমাদের বিরোধী রাজনীতিবিদরা যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখনো ছিল। আমরা দেশের মানুষ রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে ইতিবাচক রাজনীতি কামনা করি

আইনজীবী ও লেখক।
[email protected]

এসএইচ