আসামিকে আদালতে না নেয়ার নির্দেশ

আগের সংবাদ

রঙে ভরা আমার ব্যাংকিং জীবন

পরের সংবাদ

বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর জীবন

আবু হুরাইরা আতিক

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১৯, ২০২০ , ৭:৪২ অপরাহ্ণ

বঙ্গবন্ধু ১৯৪৭ সালে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। তাঁর স্বপ্ন ছিল আইন শিক্ষা সম্পন্ন করে তা নিপীড়িত জনগণের সেবায় ব্রতী হবেন। তিনি ছিলেন সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের অনাবাসিক ছাত্র। তবে তিনি ক্যাম্পাস জীবনের অধিকাংশ সময়ই আড্ডা দিতেন ফজলুল হক মুসলিম হলের পুকুর পাড়ে। সেখানেই সমকালীন রাজনীতি নিয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনা করে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ফজলুল হক হল মিলনায়তনে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ গঠিত হয়। এ সংগঠনের অন্যতম নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর আত্মপ্রকাশ ঘটে। তিনি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সংগঠনটি গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেন। তাঁর কালজয়ী সাংগঠনিক ছোঁয়ায় অচিরেই এ সংগঠনটি পূর্ব পাকিস্তানের সর্ববৃহৎ ও জনপ্রিয় ছাত্র সংগঠনে পরিণত হয়। শুধু সংগঠন প্রতিষ্ঠিত করেই বসে থাকেননি। পূর্ব বাংলার জনগণের প্রাণের দাবি তুলে ধরার লক্ষ্যে তিনি ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ফজলুল হক হলের ছাত্র সমাবেশে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন।
১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রমনা রেসকোর্স (সোহরাওয়ার্দী) ময়দানে এক সংবর্ধনা সভায় বিপুল ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতিতে শেখ মুজিবকে ছাত্ররা বঙ্গবন্ধু উপাধি দেয়। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে এ দেশের মানুষ হাতে অস্ত্র তুলে নেয় এবং ৯ মাস মরণপণ যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে। দেশ স্বাধীন হলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন। যে বিশ্ববিদ্যালয় একসময় তার ছাত্রত্ব কেড়ে দিয়েছিল, তাকে বহিষ্কার করেছিল, সে বিশ্ববিদ্যালয় তাকে বরণ করার প্রস্তুতি নেয়। বঙ্গবন্ধু তখন শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নন, তার মুকুটে তখন ‘জাতির পিতা’ শব্দটি শোভা পাচ্ছে। ১৯৭২ সালের ৬ মে তিনি তার প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আসেন। কলা ভবনের সামনে বটতলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা দেয়া হয়। সে সমাবেশে তাঁর সামনে তাঁর বহিষ্কারাদেশপত্রের কপিটি ছিঁড়ে ফেলা হয়। তাঁকে ডাকসুর আজীবন সদস্যপদ প্রদান করা হয়। সেদিন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীদের ভালোবাসায় অভিভ‚ত হন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে আমন্ত্রণ জানান। বঙ্গবন্ধু তখন রাষ্ট্রপতি এবং পদাধিকারবলে চ্যান্সেলর। বঙ্গবন্ধুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমনের খবরে সর্বত্র সাজ সাজ রব পড়ে যায়। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে। ছাত্র-শিক্ষকরা বঙ্গবন্ধুকে সামনে থেকে দেখা এবং তাঁর বক্তৃতা শোনার জন্য দিনক্ষণ গুনছিল। কিন্তু ওই দিন ভোরে একদল বিপথগামী সৈন্য বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ সংবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। বহিষ্কারাদেশের ৬১ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল বুঝতে পারে। ২০১০ সালের ১৪ আগস্ট তারিখে বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে মর্যাদায় ভ‚ষিত করেন। এক সময়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হওয়া একজন সামান্য ছাত্রনেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিশ্বরাজনীতির এক বিরাট বিস্ময়কর ব্যক্তিত্বে। তাঁর নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ, অমানবিক নির্যাতনের বিনিময়ে তিনি বাঙালি ও বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন বিশ্বের দরবারে। তাই তিনি কোনো নির্দিষ্ট বর্ণ, গোত্র, জাতি বা রাজনৈতিক দলের নন। তিনি সব ধর্মের, সব গোত্রের, সব দলের এবং সব কালের মানুষের আদর্শ ও চেতনা শুদ্ধির প্রতিরূপ।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

এসএইচ