রাঙ্গামাটির কলেজ গেইট এলাকায় অগ্নিকাণ্ড

আগের সংবাদ

তজুমদ্দিনে কমছে বোরো আবাদ

পরের সংবাদ

চলে গেলেন লোক গবেষক আশরাফ সিদ্দিকী

প্রকাশিত: মার্চ ১৯, ২০২০ , ৩:২৬ অপরাহ্ণ আপডেট: মার্চ ১৯, ২০২০ , ৩:৩৯ অপরাহ্ণ

বিশিষ্ট লোক গবেষক, কবি ও সাহিত্যিক ড. আশরাফ সিদ্দিকী আর নেই। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোরে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। ড. আশরাফ সিদ্দিকী একাধারে খ্যাতিসম্পন্ন লোকসাহিত্যিক, কবি, গবেষক, প্রাবন্ধিক, শিক্ষাবিদ, শিশু সাহিত্যিক।

প্রচারবিমুখ অথচ বর্ণিল কর্মময় জীবনের অধিকারী ড. আশরাফ সিদ্দিকী ১৯২৭ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইলে নাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পড়াশুনা করেন শান্তিনিকেতন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে আমেরিকার ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় হতে দ্বিতীয় এমএ এবং পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

ড. আশরাফ রাজশাহী কলেজ, চট্টগ্রাম কলেজ, ময়মনসিংহের এএম কলেজ, ঢাকা কলেজ, জগন্নাথ কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক, ডিস্ট্রিক্ট গ্যাজেটিয়ারের প্রধান সম্পাদক ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

শুধু তাই নয়, ড. আশরাফ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার চেয়ারম্যান, প্রেস ইনন্সটিটিউটের প্রেসিডেন্ট, নজরুল একাডেমির আজীবন সভাপতি এবং নজরুল ইনন্সটিটিউটের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ত্রিশালে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরে অণুঘটকের ভূমিকা পালন করেন।

১৯৪৮ সালে দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে ‘তালেব মাস্টার’ কবিতা রচনা করে ড. আশরাফ অল্প সময়ের মধ্যে গণমানুষের কবি হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ‘গলির ধারের ছেলেটি’ ছোটগল্প লেখক হিসেবে তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করে। এই ছোটগল্প অবলম্বনে সুভাষ দত্তের পরিচালনায় ‘ডুমুরের ফুল’ চলচ্চিত্রটি জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।

বাংলার মৌখিক লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতিকে লিপিবদ্ধ করার জন্য আশরাফ সিদ্দিকী বিশেষভাবে সমাদৃত। তাঁর লেখা বইগুলো ‘লোকসাহিত্য’, ‘বেঙ্গলি ফোকলোর’, ‘আওয়ার ফোকলোর আওয়ার হেরিটেজ’, ‘ফোকলোরিক বাংলাদেশ’ এবং ‘কিংবদন্তির বাংলা’ দক্ষিণ এশিয়ার লোকসাহিত্যে গবেষণায় মৌলিক বই হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিংশশতাব্দীর বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করা ব্যক্তিদের মধ্যে আশরাফ সিদ্দিকী অন্যতম। চল্লিশ দশকের শুরুতে প্রতিশ্রুতিশীল কবি হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ। তার সাহিত্যিক জীবনে পাঁচশর বেশি কবিতা লিখেছেন। বাংলার লোকঐতিহ্য নিয়ে করেছেন গভীর গবেষণা। লিখেছেন ৭৫টি গ্রন্থ এবং অসংখ্য প্রবন্ধ।

ড. সিদ্দিকী ১৯৮৮ সালে সাহিত্যে একুশে পদক, ১৯৬৪ সালে শিশু সাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৬ সালে সাহিত্যে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরষ্কার, ইউনেস্কো পুরষ্কার, লোক সাহিত্য গ্রন্থের জন্য দাউদ পুরষ্কার লাভ করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৫১ সালের ২৩ ডিসেম্বর সাঈদা সিদ্দিকীকে বিয়ে করেন। তাদের পাঁচ সন্তান সবাই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত ও নিজ নিজ পেশায় সুপ্রতিষ্ঠিত।

কবির মরদেহ রাজধানীর বসুন্ধরার এপার্টমেন্টে আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছে। ধানমন্ডি শাহী ঈদগাহ মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

এনএম

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়