বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ বাঙালি জাতির জন্য নির্মল আনন্দের বছর

আগের সংবাদ

করোনায় কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সভা স্থগিত

পরের সংবাদ

সংকটকালে জনগণ জিম্মি হবে কেন?

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১৮, ২০২০ , ৬:৫১ অপরাহ্ণ

করোনা সংকটকে পুঁজি করে রাজধানীর বাজারে চাল, ডালসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেকের অযৌক্তিক বাড়তি কেনাকাটায় সুযোগ নিচ্ছেন একশ্রেণির ব্যবসায়ী। হঠাৎ এভাবে দাম বাড়িয়ে দেয়া কিংবা ভোক্তাদের বাড়তি কেনার প্রবণতা কোনোটিই যৌক্তিক নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল একটি সহযোগী দৈনিকের খবরে বলা হয়, রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খুচরায় কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে চাল বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে নাহিদের হরিণ ব্র্যান্ডের ভালোমানের নাজিরশাইল ৭৫ থেকে ৭৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

একই হারে বেড়ে মানভেদে অন্যান্য নাজিরশাইল চাল ৫৫ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর মিনিকেটের দাম কেজিতে ৭ টাকা বেড়ে মানভেদে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুদিন আগেও মিনিকেটের কেজি ৫২ থেকে ৫৫ টাকা ছিল। কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে মোটা (স্বর্ণা ও গুটি) চাল ৩৬ থেকে ৪০ টাকা হয়েছে। প্রায় একই হারে বেড়ে বিআর-২৮, পাইজাম ও লতা (মাঝারি) চাল মানভেদে ৪৫ থেকে ৫২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শুধু চাল নয়, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে গত এক সপ্তাহে আলু, চিনি, ভোজ্যতেল, ডিম, এলাচি ও ময়দার দাম কমবেশি বেড়েছে। ১৮টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গত বছরের এ সময়ের তুলনায় বেশি। কম ৭টির দাম। এর আগে গত বছর অক্টোবরে ভারত আকস্মিকভাবে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে অস্থিরতা দেখা যায়। স্বাভাবিক অবস্থায় যে পেঁয়াজের কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হতো, সেই পেঁয়াজের দাম ২০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। বলা যায় এখন পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক। নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে হতদরিদ্র মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়ে। কাজেই নিত্যপণ্যের বাজারের অস্থিরতা দূর করার জন্য সময়মতো পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য তথা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি ক্ষেত্রেই সিন্ডিকেটের আস্ফালন লক্ষণীয়।

তবে এটা নতুন কিছু নয়, সাংবার্ষিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্য তো বটেই, সেবা খাতেও সিন্ডিকেটের হস্তক্ষেপ প্রকট। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এ চক্রটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। এরা ইচ্ছামতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করে অনায়াসে অন্যায্যভাবে বিপুল মুনাফা লুটে নিচ্ছে। আমরা মনে করি, বাজার পরিস্থিতি পাল্টানোর জন্য সবার আগে প্রয়োজন বিক্রেতাদের অসৎ, লোভী ও প্রতারণামূলক মানসিকতার পরিবর্তন। এই পরিবর্তন কবে ঘটবে তার জন্য অপেক্ষা করে নিষ্ক্রিয় বসে থাকলে চলবে না। এর জন্য রাষ্ট্র-সমাজের সচেতন দায়িত্বশীল মহলকে ভ‚মিকা রাখতে হবে। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে ওঠা এবং পাইকারি দামের সঙ্গে খুচরা দামের তফাৎসহ সার্বিক বিষয়গুলো এখনই আমলে নিন।

এসআর