সেবা নয়, রোগীদের পেটালেন ডাক্তার-স্টাফরা

আগের সংবাদ

রায়গঞ্জে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে চলছে পাঠদান

পরের সংবাদ

করোনার প্রতিষেধক তৈরি, আরো প্রচেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১৮, ২০২০ , ৩:২৭ অপরাহ্ণ

চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস এখন বিশ্ববাসির সামনে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রতিনিয়ত মানুষ মরছে তবে চিকিৎসা বা প্রতিরোধের বেলায় যেন কিছুই করার থাকছে না। চীনের সীমান্ত পেরিয়ে ১৬৫ দেশে ছড়িয়ে পড়া এ মরণঘাতি ভাইরাসে ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৮ হাজার মানুষ। তবে ভাইরাসটি থেকে মুক্তির জন্যে প্রতিষেধক তৈরিতে বিশ্বে বিভিন্ন প্রান্তে অবিরাম প্রচেষ্টা চলছে।

সম্প্রতি ইন্টারফেরন আলফা টু-বি’ নামে পরিচিত কিউবার এক ওষুধ করোনার মুক্তিতে ব্যাপক কাজ করছে বলে জানা গেছে। চীনের চিকিৎসকরা করোনা আক্রান্তদের সুস্থ করে তুলতে এই ওষুধটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেছেন। ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা বায়কিউবা ফারমা গ্রুপের সভাপতি এডুয়ার্ডো মার্টিনেজ এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘আলফা টু-বি’ ওষুধ ব্যবহার করে এক হাজার পাঁচশোরও বেশি রোগীকে সুস্থ করে তুলেছেন তারা। করোনা রোগ প্রতিরোধের জন্য চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের নির্বাচিত ৩০টি ওষুধের মধ্যে অন্যতম এটি। আমাদের হাতে চীনে সংক্রমিত সকল রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ ওষুধ রয়েছে।
ওষুধটির আবিষ্কার হয় কিউবায়। চীনের জিলিন প্রদেশে অবস্থিত চ্যাংচুন হেবার বায়োলজিক্যাল টেকনোলজিতে এটির উৎপাদন হয়। জৈবপ্রযুক্তিতে দুই সমাজতান্ত্রিক দেশের মধ্যে এক চুক্তির অংশ হিসেবে এটি যৌথ উদ্যোগে উৎপাদিত হচ্ছে।

অন্যদিকে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারে সফল হলেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা। করোনা আতঙ্কে সারা বিশ্বের মানুষের যখন ঘুম হারাম তখনই এই সফলতার ঘোষণা দিলেন পেন্টাগনের অর্থায়নে পরিচালিত কানাডার একটি ওষুধ কম্পানির বিজ্ঞানীরা।

মেডিকাগো নামের কানাডিয়ান ওই কম্পানিটির বিজ্ঞানীরা ‘অবশেষে আমরা প্রতিষেধক পেয়ে গেছি’ বলে উচ্ছ্বসিত ঘোষণা দিয়েছেন। যদি তাদের উদ্ভাবিত এই প্রতিষেধক এফডিএ’র অনুমোদন পায় তাহলে প্রতি মাসে এক কোটি ডোজ প্রতিষেধক উৎপাদন ও বাজারজাত করণ সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে তারা।

কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের জিনম সিকুয়েন্স পাওয়ার মাত্র ২০ দিন পরেই প্রতিষেধক আবিষ্কারে এই সফলতা দেখিয়েছে কম্পানিটি। প্রতিষেধক আবিষ্কারে তারা স্বতন্ত্র কিছু টেকনোলজি ব্যবহার করেছেন। শিগগিরই তারা এটি এফডিএ অনুমোদনের জন্য জমা দেবেন। অনুমোদন পেলেই বাজারে ছাড়া হবে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মেডিকাগোর সিইও ব্রুস ক্লার্ক বলেছেন যে, ‘তাঁর সংস্থা মাসে এক কোটি ডোজ পরিমাণ প্রতিষেধক উৎপাদন করতে পারে। যদি নিয়ন্ত্রক বাঁধাগুলি দূর করা যায় তবে নভেম্বরে এই ভ্যাকসিন বাজারে পাওয়া যাবে।’

এসব ছাড়াও জার্মানি, ফ্রান্স, ইসরাইল, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রতিষেধক তৈরীতে তাদের গবেষণা অব্যাহত রেখেছেন। খুব শিঘ্রিই হয়তো করোনা জয়ের সংবাদ নিয়ে হাজির হবেন বিজ্ঞানীরা।

নকি